দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে তুর্কমান গেট এলাকায় মসজিদের কাছে স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিল পৌর কর্তৃপক্ষ
ভারতের রাজধানী দিল্লির পৌর কর্তৃপক্ষ (এমসিডি) আজ বুধবার তুর্কমান গেট এলাকায় ফৌজ-ই-এলাহি মসজিদের পাশের একটি জমিতে অবৈধ দখলের অভিযোগ তুলে স্থাপনা উচ্ছেদ করতে অভিযান চালিয়েছে।
দিল্লির রামলীলা ময়দানের কাছে তুর্কমান গেট এলাকায় স্থানীয় সময় বুধবার ভোররাতের দিকে ওই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এ সময় মসজিদ কমিটি উচ্ছেদের প্রতিবাদ জানালে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গতকাল মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্ট আগামী ২২ এপ্রিল এই জমির বিরোধসংক্রান্ত পিটিশনের শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ আদালতের সেই নির্দেশনা না মেনেই আজ বুধবার উচ্ছেদ অভিযান চালায়।
পৌর কৃর্তপক্ষের দাবি, উচ্ছেদ অভিযান শুরুর আগে পৌর কর্তৃপক্ষ আমান কমিটির সদস্য এবং অন্যান্য স্থানীয় অংশীদারের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করা হয়েছে।
পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, বৈঠকের উদ্দেশ ছিল, উচ্ছেদের সময় শান্তি বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধ করা। বিশৃঙ্খলা এড়াতে সব ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলেছে তারা।
দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর পৌর কর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়। পুলিশ পরিমিত ও সীমিত বল প্রয়োগ করে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনে।’
পুলিশের সেন্ট্রাল রেঞ্জের যুগ্ম কমিশনার মধুর ভার্মা আনুষ্ঠানিক এক বিবৃতিতে বলেন, ‘দিল্লি পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সব বিচারিক নির্দেশনাকে আইনগত, পেশাদারত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীলভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে।’
মসজিদের পাশের স্থাপনা উচ্ছেদ করতে প্রশাসন প্রায় ১৭টি বুলডোজার ব্যবহার করেছে।
দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ কী ছিল
দিল্লি হাইকোর্ট গতকাল মঙ্গলবার নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়, দিল্লি পৌর কর্তৃপক্ষ এবং দিল্লি ওয়াক্ফ বোর্ডের কাছে একটি পিটিশনের বিষয়ে জবাব চেয়ে নোটিশ জারি করেন। তুর্কমান গেট এলাকায় ফৌজ-ই-এলাহি মসজিদ ও কবরস্থানের পাশের একটি জমিতে থাকা স্থাপনা অবৈধ উল্লেখ করে কর্তৃপক্ষ সেগুলো সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল। ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টে একটি পিটিশন দায়ের করে মসজিদ কর্তৃপক্ষ।
ফৌজ-ই-এলাহি মসজিদের ব্যবস্থাপনা কমিটি ওই পিটিশন দায়ের করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি অমিত বংসাল দিল্লি পৌর কর্তৃপক্ষ, দিল্লি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, শহর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তর, পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট এবং দিল্লি ওয়াক্ফ বোর্ডকে নোটিশ জারি করেন।
আদালত বলেন, ‘এই বিষয়টি বিবেচনার দাবি রাখে।’ নোটিশে কর্তৃপক্ষকে চার সপ্তাহের মধ্যে পিটিশনের জবাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। দিল্লি হাইকোর্ট এই মামলাটি আগামী ২২ এপ্রিল শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করেছে।
২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর দিল্লি পৌর কর্তৃপক্ষ এ–সংক্রান্ত একটি আদেশ দেয়। ওই আদেশে বলা হয়েছিল, ‘শূন্য দশমিক ১৯৫ একরের বাইরের জমিতে থাকা সব স্থাপনা অবৈধ ও উচ্ছেদের যোগ্য। তাদের দাবি, মসজিদ পরিচালনা কমিটি বা দিল্লি ওয়াক্ফ বোর্ড জমির মালিকানা বা বৈধ দখলের কোনো প্রামাণিক দলিলাদি উপস্থাপন করতে পারেনি।’
শূন্য দশমিক ১৯৫ একর জমির ওপর মসজিদটির মূল অবকাঠামো অবস্থিত।