মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রীর পৈতৃক ভিটায় উত্তেজিত জনতার হামলার চেষ্টা

গত মে মাস থেকে শুরু হওয়া সহিংসতায় মণিপুরে দেড় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন
ফাইল ছবি: এএনআই

ভারতের মণিপুর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংয়ের পৈতৃক বাড়িতে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে পুলিশ সেই চেষ্টা প্রতিহত করেছে। স্থানীয় প্রচারমাধ্যমকে পুলিশ জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী উত্তেজিত জনতাকে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে আটকে দেয়। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য ইম্ফলের পৈতৃক বাড়িতে থাকেন না, থাকেন তাঁর সরকারি বাসভবনে।

এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘মধ্য ইম্ফলের হেইনগাং এলাকায় মুখ্যমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়িতে হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল। নিরাপত্তা বাহিনী বাড়ি থেকে প্রায় ১০০-১৫০ মিটার দূরে উত্তেজিত জনতাকে থামিয়ে দেয়।’

আরও পড়ুন

পুলিশ জানায়, দুটি দলে ভাগ হয়ে উত্তেজিত জনতা দুদিক থেকে মুখ্যমন্ত্রীর পৈতৃক বাসভবনের দিকে এগোতে থাকে। স্বাভাবিকভাবেই মনে করা হচ্ছে, পরিকল্পনা করেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছিল। তবে নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক ছিল। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, এ ধরনের হামলার একটা আশঙ্কা তাদের ছিল।

জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স এবং রাজ্য পুলিশ কয়েকটি টিয়ার গ্যাসের শেল ছোড়ে। এলাকায় বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল, যাতে হামলাকারীরা পরস্পরকে দেখতে না পায়। জনতা আরও কাছাকাছি এলে গুলি চালানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল বলে ওই সূত্র জানিয়েছে। কিন্তু জনতা বাড়ির একেবারে কাছে আসেনি। কিছুক্ষণ অবস্থান করে তারা পিছু হটতে শুরু করে। বাড়ির কাছে আরও ব্যারিকেডের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

দুই মাস আগে নিখোঁজ বছর বিশেকের তরুণ ও ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী (এরা দুজনেই আদিবাসী সম্প্রদায়ের নন, মেইতেই সম্প্রদায়ের) হত্যার ঘটনায় চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে আবার সহিংস বিক্ষোভ শুরু হয়েছে মণিপুরে। গত বুধবার ইম্ফলে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই দুই হত্যার পর যে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে, তার জেরেই মুখ্যমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়িতে হামলার চেষ্টা করা হলো।

চলতি বছরের ৩ মে মণিপুরে জাতিগত সহিংসতা শুরু হয়। এর জেরে ১৭৫ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং কয়েক শ আহত হয়েছেন। গৃহহারা হয়েছেন ৬০ হাজারের বেশি মানুষ। তফসিলি উপজাতি হিসেবে মর্যাদার প্রশ্নে সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতেই সম্প্রদায়ের দাবিকে বিবেচনা করার মণিপুর হাইকোর্টের নির্দেশের পরেই প্রতিবাদ–বিক্ষোভ শুরু হয় উত্তর-পূর্ব ভারতের এই রাজ্যে। প্রতিবাদ মিছিল থেকে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখনো মণিপুরের সহিংসতার বিষয়ে সংসদে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেননি। তিনি মণিপুর পরিদর্শনেও যাননি।

আরও পড়ুন