অনাগত সন্তানের পর চিকিৎসক মায়েরও মৃত্যু
ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকদের মৃত্যুর সংখ্যাও কম নয়। এর মধ্যে এক নারী দন্ত চিকিৎসকের মৃত্যু কাঁদাল মানুষকে। করোনা মহামারির মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা হন তিনি। তারপর থেকে যতটুকু পেরেছেন সাবধানতা অবলম্বন করে গর্ভের সন্তান ও নিজেকে সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করে গেছেন। কিন্তু সাত মাসের মাথায় এসে শেষ রক্ষা হয়নি। গর্ভেই মারা যায় অনাগত সন্তান। পরে বিদায় নিতে হয় তাঁকেও।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে এ তথ্য জানানো হয়। সাত মাস আগে অন্তঃসত্ত্বা হন দিল্লির বাসিন্দা দন্ত চিকিৎসক ডিম্পল আরোরা চাওলা। এপ্রিলে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। দুই সপ্তাহ পর ৩৪ বছর বয়সী এ নারী তাঁর সন্তানকে হারান। পেটেই মারা যায় শিশুটি। পরদিন মারা যান ডিম্পলও। মৃত্যুকালে তিন বছরের এক ছেলে ও স্বামীকে রেখে যান তিনি।
মৃত্যুর কয়েক দিন আগে ডিম্পল একটি ভিডিও বার্তা ধারণ করেছিলেন। সেখানে তিনি পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসকে হালকাভাবে না দেখতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে তিনি আর তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করতে পারেননি। ডিম্পলের মৃত্যুর পর এ ভিডিও প্রকাশ করেন তাঁর স্বামী রভিশ চাওলা।
২৭ এপ্রিল ধারণ করা ২০ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে এ চিকিৎসক বলেন, ‘খুব খারাপ অবস্থার মধ্যে আমি এই ভিডিওটি করছি। যাঁরা আমাকে চেনেন তাঁদের ও সবার উদ্দেশে বলছি, অনুগ্রহ করে কেউ করোনাভাইরাসকে হালকা করে দেখবেন না। খুব খারাপ এটা, খুব খারাপ উপসর্গ। আমার কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু এই বার্তা আমি সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চাই। অনুগ্রহ করে সবাই মাস্ক পরুন। যেখানেই আপনি যান, যাঁর সঙ্গেই দেখা করুন, ঘরে কিংবা বাইরে মাস্ক পরুন। আপনার প্রিয় মানুষের সুরক্ষার জন্য।’
রভিশ চাওলা বলেন, স্ত্রীর শেষ ইচ্ছা মানুষের কাছে তিনি পৌঁছে দিয়েছেন। কয়েক হাজার মানুষ তাঁর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। এনডিটিভিকে রভিশ বলেন, ‘কোনো কিছু থেকে মানুষকে সতর্ক করা তার (ডিম্পল) জন্মগত অভ্যাস ছিল। তেমনি করোনাভাইরাস নিয়ে পরিবার ও বন্ধুদের সতর্ক করেছে সে। তার অকালমৃত্যুতে এ ভিডিও আমাকেই পোস্ট করতে হলো।’
রভিশ চাওলা বলেন, ‘সবার উচিত মাস্ক পরা। শুধু নিজের জন্য না, বয়স্ক ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্যও। এটিই ছিল আমার স্ত্রীর শেষ বার্তা। আমি চাই মানুষ সেটা জানুক।’
ভারতে এখন পর্যন্ত করোনায় ৮৬৪ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (আইএমএ) তথ্য অনুযায়ী, ৭ মে পর্যন্ত করোনায় ৮৬৪ জন চিকিৎসক মারা গেছেন। এর মধ্যে গত বছর ৭৩৬ জন মারা গেছেন। চলতি বছর এপ্রিল পর্যন্ত মারা গেছেন আরও ১২৮ জন।
এদিকে ভারতে গতকাল বুধবার করোনাভাইরাসে নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন ৩ লাখ ৬২ হাজারের বেশি মানুষ। আর মারা গেছেন ৪ হাজার ১২০ জন।
করোনাভাইরাসের সার্বক্ষণিক তথ্য সরবরাহকারী ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্য অনুসারে, ভারতে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২ কোটি ৩৭ লাখের বেশি মানুষ। মারা গেছেন ২ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি মানুষ। সুস্থ হয়েছেন ১ কোটি ৯৭ লাখের বেশি মানুষ। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে মোট আক্রান্ত মানুষের মধ্যে এখনো ১৫ শতাংশের বেশি অসুস্থ। তবে করোনায় সংক্রমিত সবচেয়ে বেশি রোগী রয়েছে কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, কেরালা ও তামিলনাড়ু রাজ্যে। এই রাজ্যগুলোয় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এখনো ৮২ শতাংশ অসুস্থ।