অবসরজীবন যেখানে কাটাবেন প্রণব মুখোপাধ্যায়

প্রণব মুখোপাধ্যায়। তিনি ছিলেন ভারতের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি। দীর্ঘ পাঁচ বছর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন শেষে তিনি গতকাল মঙ্গলবার ভারতের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করে ফিরে যান অবসরজীবনে।
২০১২ সালের ২৫ জুলাই প্রণব মুখোপাধ্যায় ভারতের ১৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এবার সেই একমাত্র বাঙালি রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব শেষে বিদায় নিলেন। উঠেছেন দিল্লির রাজাজি মার্গের নির্ধারিত বাংলোয়। নতুন রাষ্ট্রপতি সাবেক রাষ্ট্রপতিকে পৌঁছে দেন রাজাজি মার্গের বাংলোয়। গতকাল দুপুরে রাজাজি মার্গের নতুন বাংলোয় পৌঁছে সেখানেই মধ্যাহ্নভোজ সারেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। আসেন তাঁর কন্যা শর্মিষ্ঠা মুখার্জিও। তাঁর বড় ছেলে অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় বর্তমান ভারতীয় লোকসভার একজন কংগ্রেসদলীয় সাংসদ। তাঁর সহধর্মিণী শুভ্রা মুখোপাধ্যায় রাষ্ট্রপতি ভবনে অবস্থানকালীন ২০১৫ সালে প্রয়াত হন।
অবসরের পর সাবেক রাষ্ট্রপতি ভারতের যেকোনো পছন্দের জায়গায় থাকতে পারেন। তাঁর যাবতীয় খরচ বহন করে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রণব মুখোপাধ্যায় তাঁর অবসরজীবন কাটাবেন দিল্লির এই ১০ রাজাজি মার্গের সরকারি বাংলোয়। এর আগে অবশ্য রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের জন্য ৩৪ নম্বর এ পি জে আবদুল কালাম রোডের বাড়িটি ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু প্রয়াত সাংসদ পি এ সাংমার নামে বাড়িটি বরাদ্দ থাকায় নতুন করে রাজাজি মার্গের বাংলোটি ঠিক করে সরকার। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালাম তাঁর অবসরের পর এখানেই শেষ জীবন কাটিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি কালামের মৃত্যুর পর এ ভবনে আসেন কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী মহেশ শর্মা। এবার কেন্দ্রীয় সরকার এই বাড়িটি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের জন্য বরাদ্দ করার পর তথ্যমন্ত্রী মহেশ শর্মা সামনের ১০ অশোক রোডের আরেকটি বাড়িতে চলে যান।
রাজাজি মার্গের দোতলা এই বাড়িটি ১১ হাজার ৭৬৭ বর্গফুটের। ব্রিটিশ আমলে তৈরি এই বাংলো বাড়িতে রয়েছে প্রশস্ত বাগান আর লন। রয়েছে ভেতরে একটি বড় গ্রন্থাগার এবং তার পাশেই একটি বড় পড়ার ঘর। রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় পড়তে ভালোবাসেন বলে এই বাড়িটিকেই ঠিক করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রণব মুখার্জিও পছন্দ করেছেন এই বাড়িটি। বাড়িটি ইতিমধ্যে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। সামনের ফাঁকা জায়গায় তৈরি করা হয়েছে ফুল ও ফলের বাগান। বসানো হয়েছে লিফটও। গোটা বাংলোটি নতুনভাবে রং করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট পেনশন রুলস-১৯৬২ অনুযায়ী, সাবেক রাষ্ট্রপতি আজীবন দেশের যেখানেই থাকার সিদ্ধান্ত নেন, সেখানেই তিনি থাকতে পারেন। তাঁকে কোনো বাড়িভাড়া দিতে হয় না। বিনা মূল্যে তিনি পান পানি, বিদ্যুৎ, গাড়ি এবং গাড়ির চালক। আরও পান তাঁর দপ্তরে কাজ করার জন্য একজন সচিব ও একজন পিয়ন এবং চিকিৎসকও। আরও তিনজন কর্মী তিনি রাখতে পারেন। সব খরচ বহন করে সরকার। এ ছাড়া তিনি নিয়মিত পাবেন তাঁর পেনশনের অর্থ।
নতুন ভবনে পৌঁছে প্রণব মুখোপাধ্যায় বলেছেন, তিনি এই বাংলোয়ই শেষ জীবন কাটাবেন। তবে মাঝেমধ্যে ছুটে যাবেন তাঁর জন্মভিটে বীরভূমের মিরাটি গ্রামে। আসবেন পশ্চিমবঙ্গে। তিনি বলেন, যেখানে তাঁর রাজনীতির শুরু, সেই পশ্চিমবঙ্গকে তিনি ভুলতে পারেন না। ডাক পেলেই তিনি ছুটে আসবেন এই রাজ্যে। প্রতিবছরের মতো এবারও তিনি দুর্গাপূজার সময় থাকবেন তাঁর জন্মভিটে মিরাটি গ্রামেই।
প্রণব মুখোপাধ্যায় ভারতের ইতিহাসে প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি হওয়ার গৌরব অর্জন করলেও এখনো ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসতে পারেননি কোনো বাঙালি। ১৯৯৬ সালে যুক্তফ্রন্টের আমলে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুকে প্রধানমন্ত্রী করার সুযোগ এলেও সেদিন সিপিএমের বাঙালি নেতাদের আপত্তিতে সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায়। এরপরই যুক্তফ্রন্ট সরকারের প্রধানমন্ত্রীর পদে বসানো হয় কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী ও যুক্তফ্রন্টের অন্যতম নেতা এইচ ডি দেবগৌড়কে।