আসামের জনপদে বাঘিনী, তটস্থ গ্রামবাসী
বাঘিনীর ভয়ে তটস্থ ভারতের আসাম রাজ্যের উদালগুড়ির মানুষ। নয় মাস ধরে অতর্কিতে বাঘিনীটি হামলা চালিয়ে গেলেও এখনো অধরা জঙ্গলের রানি। ১০ বার অভিযান চালিয়েও তাকে ধরা যায়নি। গতকাল সোমবার শুরু হয় একাদশ অভিযান।
বোড়ো উপজাতি-অধ্যুষিত আসামের উদালগুড়ির বড়বাজার এলাকার মানুষের রাতের ঘুম উধাও। প্রায়ই অতর্কিতে হানা দিয়ে সে নিশ্চিন্তেই গা-ঢাকা দেয় গভীর জঙ্গলে। টিকিটিরও নাগাল পাচ্ছেন না দক্ষ ও প্রশিক্ষিত বনরক্ষীরা।
বন দপ্তরে বাঘিনীটির সাংকেতিক নাম এফ-০৩। সে নয় মাস আগে ওরাং জাতীয় উদ্যান থেকে পালিয়ে এসেছে। আত্মগোপন করেছে ধানসিঁড়ি নদীর আশপাশের জঙ্গলে। অতর্কিতে সেখান থেকে এসেই হানা দেয় জনপদে।
ইতিমধ্যেই কয়েক ডজন গরু-ছাগল উদরস্থ হয়েছে তার। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয় লোকজন নাম দিয়েছে ‘ফুলন দেবী’। একসময়ে ভারতের চম্বল এলাকার দুর্ধর্ষ ডাকাতরানি ছিলেন ফুলন। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে তাঁর জুড়ি ছিল না।
বনকর্তাদেরও ফাঁকি দিয়ে চলেছে আসামের এই বাঘিনী ফুলন! ১০ বার অভিযান চালিয়ে রণে ভঙ্গ দেন বনকর্মীরা। এবারের অভিযান ১১তম। ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার পশু চিকিৎসকদের দলটি চার ভাগে ভাগ হয়ে গতকাল সোমবার থেকে শুরু করেন অভিযান। এবারও তাঁদের আশা, এফ-০৩ ধরা পড়বেই। সেই সঙ্গে আগাম শুনিয়ে রাখলেন বড় বড় ঘাস ও আগাছা এবং ধানসিঁড়ি নদী বাঘিনীকে আত্মগোপন করতে সাহায্য করছে।
বন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রয়েল বেঙ্গল গোত্রীয় বাঘিনীটি বেশ ধূর্ত ও হিংস্রও। তাই বাড়তি সতর্কতা নিচ্ছেন বনকর্মীরা।
এদিকে আসামের কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানে বনকর্মীর গুলিতেই গতকাল রাতে মৃত্যু হলো একটি পূর্ণবয়স্ক একশৃঙ্গ গন্ডারের। গন্ডারের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতেই বনকর্মী অসাবধানতাবশত গুলি চালায় বলে বন দপ্তরের দাবি।
বনকর্মীর গুলিতে গন্ডারের মৃত্যুর ঘটনায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তদন্ত শুরু করেছে আসাম সরকার।