করোনার প্রকোপ: মোদি–মমতার রোড শো, জনসভা বাতিল
ভারতের একাধিক রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গে করোনার নজিরবিহীন সংক্রমণ শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় রাজ্যে চলমান বিধানসভা নির্বাচনের সভা, মিছিল ও রোড শো বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে একের পর এক করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন মন্ত্রী, রাজনীতিক, চলচ্চিত্র জগতের তারকা ও বিশিষ্টজনেরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে সর্বশেষ স্বাস্থ্য বুলেটিনে জানানো হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গে আরও ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর আক্রান্ত হয়েছেন ১১ হাজার ৯৪৮ জন। এই খবরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যজুড়ে। কারণ, এখন পশ্চিমবঙ্গে চলছে নির্বাচনী মৌসুম। রাজ্যের ২৯৪ আসনের আট দফায় অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের গতকাল পর্যন্ত ছয় দফা শেষ হয়েছে। ২৬ ও ২৯ এপ্রিল বাকি দুই দফার নির্বাচন হওয়ার কথা। এই দুই দফায় উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতা, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম বর্ধমান, দক্ষিণ দিনাজপুর, বীরভূমের ৭১টি আসনের নির্বাচন বাকি।
ব্যাপক হারে করোনা ছড়িয়ে পড়ায় গতকাল প্রধানমন্ত্রী মোদি পশ্চিমবঙ্গে তাঁর নির্বাচনী প্রচার কর্মসূচি বাতিল করে দিয়েছেন। মোদির আজ শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গে আসার কথা ছিল। সভা করার কথা ছিল রাজ্যের চার জায়গায়। এর মধ্যে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরেও সভা ছিল।
মোদিও গতকাল বিকেলে পশ্চিমবঙ্গের সব প্রচার সভা বন্ধ করে বলেছেন, বিজেপি এবার ভার্চ্যুয়াল প্রচার চালাবে। আজ বিকেল ৫টায় মোদি পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন নিয়ে ভাষণ দেবেন দিল্লি থেকে। বিজেপি বলেছে, বাংলার ৫৬টি কেন্দ্রে মোদি ডিজিটাল প্রচার করবেন। আজ রাজ্যের ৪ জেলার ৫৬টি সভাস্থলে জায়ান্ট স্ক্রিনে মোদির ভাষণ প্রচারিত হবে।
অন্যদিকে মোদির ঘোষণার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতাও গতকাল রাতে নির্বাচনী প্রচার বন্ধের নির্দেশ দেন। তৃণমূল রাত থেকে বন্ধ করে দিয়েছে রোড শো, মিছিল ও জনসভা। তারা প্রচার সীমিত রাখবে ছোটখাটো কর্মিসভায়। জোর দেবে ভার্চ্যুয়াল প্রচার সভায়। সেই লক্ষ্যে আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় মমতা বর্ধমানের একটি আবাসিক হোটেলে যোগ দেবেন একটি ঘরোয়া বৈঠকে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন বর্ধমানের নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ১২ তৃণমূল প্রার্থীসহ দলীয় নেতারা।
এদিকে কলকাতা হাইকোর্ট গতকাল রাজ্যের করোনা পরিস্থিতিতে ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের গাফিলতিতে ভর্ৎসনা জানান। গতকালই নির্বাচন কমিশন রাজ্যের বাকি দুই দফার নির্বাচনে প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আদালত বলেছেন, এখন থেকে আর রোড শো, মিছিল ও জনসভা করা যাবে না। ঘরোয়া সভা করলেও ৫০০–এর বেশি প্রতিনিধি যোগ দিতে পারবে না। সেই সভাও করতে হবে করোনার স্বাস্থ্য ও দূরত্ববিধি মেনে। এর আগে নির্বাচন কমিশন করোনার ভয়াবহতার কারণে নির্বাচনী প্রচার সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত না করার আদেশ দিয়েছিল।
পশ্চিমবঙ্গে করেনায় একের পর এক আক্রান্ত হচ্ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, মন্ত্রী ও বিশিষ্টজনেরা। গত দুই দিনের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন রাজ্যের কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী, তৃণমূল নেত্রী মৌসুম বেনজির নূর, সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী, রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী শশী পাঁজা, বিদায়ী মন্ত্রী সাধন পান্ডে, তৃণমূল নেতা মদন মিত্র, অভিনেতা জিৎ, শুভশ্রী, চৈতী ঘোষাল, নাট্যব্যক্তিত্ব কৌশিক সেন, ইন্দ্রানী দত্ত, ঋতব্রত মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।