পশ্চিমবঙ্গের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা
করোনায় পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সর্বসাধারণকে চিঠি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের
করোনা পরিস্থিতিতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এ বছরের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা বাতিল হবে কি না—সর্বসাধারণ তা জানাতে পারবেন ই–মেইলযোগে। এবার এমন সুযোগই সামনে নিয়ে এসেছে রাজ্য সরকার। এর আগে গত শুক্রবার এসব পরীক্ষা বাতিলের সুপারিশ করেছিল রাজ্য সরকারের ছয় সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি।
সোমবার বেলা দুইটার মধ্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাশাপাশি সর্বসাধারণ নির্ধারিত ই–মেইল ঠিকানায় তাঁদের মতামত জানাতে পারবেন। এরপরই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নেবে, পরীক্ষা হবে কি না।
পশ্চিমবঙ্গে এ বছর ১০ হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৭ হাজার উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে যথাক্রমে ১২ লাখ ও ৯ লাখ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসার কথা। ইতিমধ্যে ইংরেজি মাধ্যমের দ্বাদশ শ্রেণির চূড়ান্ত পরীক্ষা বাতিল করে দিয়েছে সিবিএসই এবং সিআইএসসিই বোর্ড।
যদি পরীক্ষা বাতিল হয়, তবে পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়ন কীভাবে হবে, তার একটা ধারণা ইতিমধ্যে দিয়েছে বিশেষজ্ঞ কমিটি। কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে হোম অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে মূল্যায়ন হতে পারে। সঙ্গে যোগ হবে ব্যবহারিক বিষয়ে ৩০ নম্বর ও তত্ত্বীয় বিষয়ের জন্য ২০ নম্বরের প্রজেক্টে পাওয়া নম্বর। কমিটি বলছে, পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ওই সব নম্বরকে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। আর মাধ্যমিকের ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীদের নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা অথবা ষাণ্মাসিক ও বার্ষিক পরীক্ষার নম্বর যোগ করে গড় নম্বর দেওয়া যেতে পারে।
গত ২ মে ছিল পশ্চিমবঙ্গের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সূচি ঘোষণার দিন। কিন্তু ওই দিন সকালে রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সূচি ঘোষণা স্থগিত করার কথা জানানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সূত্রমতে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার করোনার সময়ে পরীক্ষা নেওয়ার ঝুঁকি নিতে চাইছে না। বিধানসভা নির্বাচন ও করোনা পরিস্থিতির কারণে এ রাজ্যের মাধ্যমিক পরীক্ষা পিছিয়ে ১ জুন নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। গত ২৭ মে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা দিয়েছিলেন, আগামী জুলাইয়ে উচ্চমাধ্যমিক ও আগস্টে মাধ্যমিক পরীক্ষা হবে।