কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও তলানিতে
ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে হিজবুল মুজাহিদীন নেতা বুরহান ওয়ানির নিহত হওয়াকে কেন্দ্র করে ভারত-পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক যে অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে, তাতে আগামী মাসের সার্ক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন অনিশ্চয়তায় পড়ল। আগস্টে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এ বৈঠক হওয়ার কথা। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং আমন্ত্রণ পেলেও তাঁর যাওয়া বেশ অনিশ্চিত।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের খবর, কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তান যেভাবে ভারতবিরোধিতা শুরু করেছে, তাতে আগামী সম্মেলন নিয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ভারতের হাইকমিশনারকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে পাঠিয়ে কাশ্মীর নিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল। ভারতীয় হাইকমিশনার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কাশ্মীরে যা ঘটছে, তা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। পাকিস্তানের এ ক্ষেত্রে কিছুই করণীয় নেই।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে বলা হয়েছে, দুদিন ধরে কাশ্মীর উপত্যকা মোটামুটি শান্ত থাকলেও আজ শুক্রবার পরিস্থিতি ফের ঘুরে যেতে পারে। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে আজ বেশ কিছুসংখ্যক বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে, যার প্রভাব ভারতীয় অংশে পড়ার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। আজকের দিনটির জন্য পুলিশ ও প্রশাসনকে খুবই সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, একেবারে উপায় না থাকলে যেন বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ করা না হয়।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান রাহিল শরিফের সঙ্গে এ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ঠান্ডা লড়াই চলছে। চলতি বছরের শেষে রাহিলের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। নওয়াজ শরিফ তাঁর মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষপাতী নন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের খবর, নওয়াজ-রাহিল ঠান্ডা লড়াইয়ে দুই পক্ষই কাশ্মীর পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করতে চাইছে।