পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসে স্বপদে থাকছেন অধীর চৌধুরী
পদ হারাচ্ছেন না ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাংসদ ও রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি অধীর চৌধুরী। বিষয়টি তিনি নিজে যেমন নিশ্চিত করেছেন, তেমনি দলের উচ্চপর্যায় থেকেও গতকাল মঙ্গলবার নিশ্চিত করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে এবার ভরাডুবি হয়েছে কংগ্রেসের। এরপর থেকে নতুন জল্পনাকল্পনা শুরু হয়। বিভিন্ন সূত্র বলেছিল, অধীর চৌধুরীকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে লোকসভায় কংগ্রেসদলীয় নেতার পদ থেকে। নির্বাচনে ভরাডুবির কারণে দলকে গুছিয়ে নিতে কংগ্রেসের হাইকমান্ড চাইছে অধীরকে সরিয়ে নতুন কোনো কংগ্রেস নেতাকে বসাতে।
কংগ্রেস নেতা শশী থারুর, মণীশ তেওয়ারি, গৌরব গগৈ, রণবীর সিং বিটু ও ইউকে রেড্ডির নামও উঠে আসে এই পদের জন্য। কারণ, কংগ্রেসের হাইকমান্ড রাহুল গান্ধীকে ওই পদে বসাতে চাইলেও তিনি সম্মত হননি। ফলে, অধীর চৌধুরীকে সরিয়ে ওই পদে কাকে আনা হবে, তা নিয়ে কংগ্রেস মহলে বিতর্ক ছিল।
সংবাদমাধ্যমও বারবার ইঙ্গিত দিয়েছে, এবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচনের পরাজয়ের দায় নিয়ে অধীর চৌধুরীকে বিদায় নিতে হবে। সংবাদমাধ্যমে এমন খবরও রটে, কংগ্রেসে নেত্রী সোনিয়া গান্ধী নাকি চাইছেন না অধীর চৌধুরীকে।
এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন জবাবে অধীর চৌধুরী বলেন, লোকসভায় কংগ্রেস নেতার পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার কোনো খবর তিনি পাননি। সোনিয়া ও রাহুল গান্ধী এ ব্যাপারে তাঁকে কোনো ইঙ্গিত দেননি।
এ পরিস্থিতিতে গতকাল কংগ্রেস হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, ভারতের লোকসভায় কংগ্রেসে দলের নেতা থাকবেন অধীর চৌধুরী। তাঁকে ওই পদ থেকে সরানোর কোনো পরিকল্পনা নেই দলের। ফলে, অধীর চৌধুরীকে সরানোর জল্পনার অবসান হয়ে গেল গতকাল।
গতকাল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ১৯ জুলাই ভারতের লোকসভার বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে কংগ্রেসের হয়ে নেতৃত্ব দেবেন অধীর চৌধুরী। লোকসভায় অধীর চৌধুরীর কর্মনৈপুণ্যে খুশি কংগ্রেস নেতৃত্ব। এমনকি সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীও খুশি। অধীর চৌধুরী একই সঙ্গে থাকছেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতির পদেও।
বিজেপি ছাড়ছেন না বাবুল সুপ্রিয়
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনের পর ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ৭ জুলাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার পুনর্গঠন করে। এতে বাদ পড়েন পশ্চিমবঙ্গের দুই কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় ও দেবশ্রী চৌধুরী। তাঁদের বদলে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় স্থান পান নিশীথ অধিকারী, সুভাষচন্দ্র সরকার, জন বার্লা ও শান্তনু ঠাকুর।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হন বাবুল সুপ্রিয়। সংবাদমাধ্যমেও রটতে থাকে বিজেপি ছাড়ছেন বাবুল সুপ্রিয়। কিন্তু আসানসোলের পৌর করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে ২১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিজেপি। এই টিমের নেতৃত্বে রাখা হয়েছে আসানসোলের বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়কে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষও বলেছেন, ‘বাবুল সুপ্রিয় আমাদের সঙ্গে আছেন। তিনি আসানসোল পৌর করপোরেশনের নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব দেবেন।’