
১৯৪৫ সালে বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর মৃত্যু হয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে ভারত সরকার। ওই বছরের ১৮ আগস্ট তাইওয়ানের তাইপে এই বিমান দুর্ঘটনা ঘটে বলে মনে করে সরকার। তথ্য অধিকার আইনে করা একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এ সিদ্ধান্ত নেতাজির অন্তর্ধান-রহস্য নিয়ে নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত মানতে পারছেন না নেতাজির পরিবারের সদস্য এবং ভক্তরা।
এ বছরের এপ্রিলে তথ্য অধিকার আইনের অধীনে আবেদন করেন সায়ক সেন নামের এক ব্যক্তি। তিনি জানতে চেয়েছিলেন নেতাজির অন্তর্ধান সম্পর্কে। এর জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শাহনেওয়াজ কমিটি, বিচারপতি জি ডি খোলসা কমিশন এবং পরবর্তী মুখার্জি কমিশনের প্রতিবেদন বিবেচনা করে সরকার এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে ১৯৪৫ সালে বিমান দুর্ঘটনাতেই নেতাজির মৃত্যু হয়েছিল।
নেতাজির অন্তর্ধান-রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য ভারত সরকার ১৯৫৬ সালে শাহনেওয়াজ কমিটি গঠন করে। কমিটির সদস্য ছিলেন তিনজন। তাঁরা জানান, বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় নেতাজির। এরপর ১৯৭০ সালে গঠিত হয় সাবেক বিচারপতি জি ডি খোসলার নেতৃত্বে খোসলা কমিশন। এই কমিশন শাহনেওয়াজ কমিটির রিপোর্টের সঙ্গে সহমত পোষণ করে। বাজপেয়ি সরকার ফের ১৯৯৯ সালে সাবেক বিচারপতি মনোজ কুমার মুখার্জির নেতৃত্বে মুখার্জি কমিশন গঠন করে। সেই কমিশন অবশ্য ভিন্ন মত পোষণ করে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে নেতাজির পৌত্র রাজ্য বিজেপির সহসভাপতি চন্দ্রকুমার বসু বলেছেন, এটা তাঁরা মেনে নিতে পারছেন না। বিষয়টির এখনো ফয়সালা হয়নি। বিষয়টি তাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নজরে আনবেন। তিনি আরও বলেন, ‘আগে আমার পরিচয় আমি বসু পরিবারের সন্তান, তারপরে বিজেপি। আমাদের প্রথম কর্তব্য হবে নেতাজির অন্তর্ধান-রহস্যের সমাধান করা।’ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এই বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।