মাতৃতান্ত্রিক মেঘালয়ে বিয়ে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হচ্ছে

মাতৃতান্ত্রিক মেঘালয়ে বিয়ে নিবন্ধীকরণ বাধ্যতামূলক হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
মাতৃতান্ত্রিক মেঘালয়ে বিয়ে নিবন্ধীকরণ বাধ্যতামূলক হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের মেঘালয়ে এখনো রয়েছে মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা। সেখানেও বাধ্যতামূলক হচ্ছে বিয়ে নিবন্ধীকরণ। এর মধ্যে সরকারি সব দপ্তরে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।

ক্ষুদ্র জাতিসত্তার লোকজন-অধ্যুষিত মেঘালয়ে এখনো রয়েছে মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা। খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ভুক্ত বেশির ভাগ ক্ষুদ্র জাতিসত্তার লোকজনের সম্পত্তির উত্তরাধিকার বাড়ির ছোট মেয়ে। নারীরাই বিয়ে করেন পুরুষদের। তবে নারীরা এখন অনেকটাই পুরুষনির্ভর হয়ে পড়ছেন। মেঘালয়ের নারী নেত্রীরা বলছেন, এই পুরুষনির্ভরতার কারণে সামাজিক সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

নারীদের কাঁধে পড়ছে সন্তানদের লালন-পালনের ভার। কিন্তু স্বামী-পরিত্যক্ত নারীরা আর্থিক ও সামাজিক দিক থেকে সমস্যায় পড়ছেন। বিষয়টি মাথায় রেখে মেঘালয়ের নারী সংগঠন মাইচেল এন সিয়ামের নেত্রী মাইতেমাফারেং নারীদের আর্থিক নিরাপত্তার দাবি জানান।

বিয়ে নিবন্ধীকরণ স্বামীদের কাছ থেকে খোরপোষ আদায়ে বিশেষ সহায়ক ভূমিকা নিতে পারে। তাই সংগঠনটির মুখ্যমন্ত্রী কনার্ড সাংমার কাছে এ বিষয়ে আগেই দাবি জানানো হয়েছে।

তৃতীয় লিঙ্গ মানবে না খাসি সম্প্রদায়। ছবি: সংগৃহীত
তৃতীয় লিঙ্গ মানবে না খাসি সম্প্রদায়। ছবি: সংগৃহীত

উত্তর-পূর্ব ভারতের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ইনসাইডএনই ডটকমের পক্ষে আফ্রিদা হোসেন আজ সকালে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে জানান, মেঘালয় সরকার নারী সংগঠনটির দাবি মেনে নিয়েছে। এখন থেকে বিয়ে নিবন্ধীকরণ প্রতিটি সরকারি কর্মীকে দাখিল করতে হবে। আফ্রিদার মতে, এতে মেঘালয়ের নারীরা সুবিচার পাবেন।

২০১২ সালেই মেঘালয়ে বিয়ে নিবন্ধীকরণ বাধ্যতামূলক করে আইন পাস হয়। ভারত সরকার ২০১৪ সালে আইন করলেও মেঘালয়ে খাসি সম্প্রদায় তৃতীয় লিঙ্গকে আলাদা স্বীকৃতি দেবে না। খাসি পার্বত্য এলাকা উন্নয়ন পর্ষদ (কেএইচএডিসি) এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তৃতীয় লিঙ্গ নিয়ে মেঘালয়ে বিতর্কের অন্ত নেই। নারী সংগঠনগুলোর দাবি, তৃতীয় লিঙ্গ স্বীকার করলে নারী জাতিদেরই অপমান করা হয়। এটি তাঁদের নিজস্ব আইনবিরোধী বলেও মন্তব্য করেন নারী নেত্রীরা।

কেএইচএডিসির মুখ্য নির্বাহী সদস্য এইচ এস শাইলা জানান, নিজেদের মধ্যে বহুবার আলোচনা করেই না মানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তাঁরা শুধু নারী ও পুরুষকেই স্বীকৃতি দিচ্ছেন।

মেঘালয়ের পূর্বতন রাজ্যপাল আইন কার্যকর করার জন্য কেএইচএডিসির কাছে নির্দেশনামা পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নির্দেশনামা না মানার সিদ্ধান্ত তাঁরা নবনিযুক্ত রাজ্যপাল তথাগত রায়কে জানিয়ে দিয়েছেন।