মোদির নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক কলকাতার বিশিষ্টজনদের

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীতিকে ‘ফ্যাসিবাদী’ আখ্যায়িত করে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন কলকাতার বিশিষ্টজনেরা। তাঁরা মোদি সরকারের ফ্যাসিবাদী নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই দাবি নিয়ে আজ রোববার সকালে ‘শিল্পী, সাহিত্যিক ও সচেতন নাগরিকদের প্রতিবাদ’ শিরোনামে কলকাতার শিশির মঞ্চে আয়োজন করা হয়েছিল এক প্রতিবাদ সমাবেশের। সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গত ২৮ আগস্ট ভারতের পাঁচজন সমাজকর্মীকে গ্রেপ্তার করার ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয়।
আটক হওয়া পাঁচজন হলেন ভারভারা রাও, মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী সুধা ভরদ্বাজ, সমাজকর্মী গৌতম নওলাখা, অরুণ ফেরেইরা ও ভার্নন গনজালভেস। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিলেন। গ্রেপ্তারের পর পাঁচ ব্যক্তির পক্ষে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির আদালতে মামলা করেন প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ রোমিলা থাপার, প্রভাত পট্টনায়েক, সতীশ দেশপান্ডে প্রমুখ ব্যক্তিত্ব। বুধবার এর শুনানির সময় বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘গণতন্ত্রে প্রতিবাদ হলো প্রেশার কুকারের সেফটি ভালভ। সেটি খুলে নিলে বিস্ফোরণ হতে পারে।’ সুপ্রিম কোর্ট শুনানি শেষে গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের পুলিশ হেফাজতে না রেখে তাঁদের গৃহবন্দী করে রাখার নির্দেশ দেন। ৬ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ।
এই ঘটনাকে সামনে এনে মোদি সরকারের নীতির প্রতিবাদে ফেটে পড়েন কলকাতার বিশিষ্টজনের। তাঁরা জাতির উদ্দেশে মোদি সরকারের এই ফ্যাসিবাদী নীতি ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
সমাবেশে নাট্যব্যক্তিত্ব বিভাস চক্রবর্তী বলেন, ‘বসে থাকলে চলবে না। এর বিরুদ্ধে এখনই আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। দেশ যেভাবে চলছে সেভাবে চলার কথা নয়। এখানে গণতন্ত্র ভূলুণ্ঠিত, বাক্স্বাধীনতা নেই, কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে।’
নাট্যব্যক্তিত্ব রুদ্র প্রসাদ সেনগুপ্ত বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকার এবার আমাদের কণ্ঠরোধ করতে চাইছে। মিথ্যা অভিযোগে জড়ানোর পাঁয়তারা করছে। এর বিরুদ্ধে সজাগ হতে হবে। সরকারের এই ফ্যাসিস্টসুলভ আচরণ বন্ধ করতে হবে।’
শিক্ষাবিদ অধ্যাপক চিন্ময় গুহ বলেন, দেশে এখন সংস্কৃতির যুদ্ধ চলছে। জাতীয়তাবাদ ক্রমেই সন্ত্রাস ও ফ্যাসিবাদের দিকে যাচ্ছে। নাট্যব্যক্তিত্ব অশোক মুখোপাধ্যায় বলেন, মানুষের চেতনাকে জাগিয়ে তুলে প্রতিবাদে সোচ্চার হতে হবে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন নাট্যব্যক্তিত্ব কৌশিক সেন ও বিমল চক্রবর্তী, সাহিত্যিক দেবেশ রায় প্রমুখ।
সমাবেশের বিবৃতিতে জানানো হয়, ধর্মের নামে বিভিন্ন রাজ্যে এক অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হচ্ছে। চেষ্টা চলছে এ দেশে অন্ধকার নামিয়ে আনার। মুক্তচিন্তা, বহুস্বর, মত ও পথের স্বাধীনতা বিপন্ন। বিপন্ন হয়ে পড়ছে ব্যক্তির ও গোষ্ঠীর জীবনাচরণ ও ধর্মাচরণের অধিকার। তাই সময় এসেছে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ করার। আরও বলা হয়, দিল্লির ক্ষমতাসীন সরকার একের পর এক গণতন্ত্রবিরোধী নীতি ও পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশকে গণতন্ত্রশূন্য করতে চাইছে।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কবি শঙ্খ ঘোষ, চলচ্চিত্র পরিচালক তরুণ মজুমদার, কবি মন্দাক্রান্তা সেন, নাট্যব্যক্তিত্ব চন্দন সেন প্রমুখ।