যোগী আদিত্যর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নোটিশ সুপ্রিম কোর্টের

যোগী আদিত্যনাথ। আইএনএস ফাইল ছবি।
যোগী আদিত্যনাথ। আইএনএস ফাইল ছবি।

ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের বিজেপিদলীয় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ গোরক্ষপুরের একটি সভায় উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে বিপাকে পড়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট এখন উত্তর প্রদেশ সরকারকে নোটিশ পাঠিয়ে জানতে চেয়েছেন, কেন তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না? আগামী চার সপ্তাহ পর ফের এই মামলার পরবর্তী শুনানি।

যোগী আদিত্যনাথ এখন ভারতের জনসংখ্যার দিক থেকে বড় রাজ্য উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। ২০১৭ সালে তিনি সমাজবাদী পার্টির নেতা মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবকে হারিয়ে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হন। এর আগে তিনি ছিলেন এই উত্তর প্রদেশের গোরক্ষপুর আসনের বিজেপিদলীয় সাংসদ। আরও ছিলেন গোরক্ষপুরের ঐতিহাসিক গোরক্ষনাথ মন্দিরের প্রধান মহন্ত।

২০০৭ সালের ২৭ জানুয়ারি যোগী আদিত্যনাথ গোরক্ষপুর রেলস্টেশনের কাছে একটি সভায় উসকানিমূলক ভাষণ দেন। সেই ভাষণের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বেধে যায় দাঙ্গা। অভিযোগ ওঠে ১০ জনের মৃত্যুর। এই ঘটনার পর সেদিন পুলিশ যোগীকে গ্রেপ্তার করে ১১ দিনের জন্য হেফাজতে নেয়।

এরপর উত্তর প্রদেশের পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করে এবং ঘটনার তদন্তে নামে সিআইডি পুলিশ। কিন্তু উত্তর প্রদেশের অখিলেশ যাদবের সরকার সেদিন যোগী আদিত্যনাথের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে সম্মত হয়নি। এরপরেই ২০০৮ সালে সাংবাদিক পারভেজ পারওয়ার এবং সমাজকর্মী আসাদ হায়াত যোগীর বিরুদ্ধে এই ঘটনার সিবিআই তদন্ত চেয়ে মামলা দায়ের করেন উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদ হাইকোর্টে। কিন্তু এই মামলায় উত্তর প্রদেশ সরকারের অনিচ্ছার কথা তুলে ধরে উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদ হাইকোর্ট যোগীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আরজি খারিজ করে দেন।

এরপরেই মামলার মূল আবেদনকারী পারভেজ পারওয়ার এই রায়ের বিরুদ্ধে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। গত সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র, বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় ও বিচারপতি এ এম খানউইলকরের নেতৃত্বে গড়া ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার শুনানির পর উত্তর প্রদেশ সরকারের কাছে জানতে চেয়েছেন, কেন যোগী আদিত্যনাথের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না? এই লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্ট উত্তর প্রদেশ সরকারকে নোটিশও পাঠিয়েছেন। চার সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।