হায়দরাবাদ বিস্ফোরণে দুজন দোষী সাব্যস্ত

ভারতের সাবেক অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের রাজধানী হায়দরাবাদে জোড়া বিস্ফোরণ মামলার রায় বের হলো দীর্ঘ ১১ বছর পর। ২০০৭ সালের ওই জোড়া বিস্ফোরণে নিহত হয়েছিলেন ৪৪ জন, আহত ৬৮। সেই মামলায় ভারতীয় সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ইন্ডিয়ান মুজাহিদ্দিনের দুই সদস্য মহম্মদ আকবর ইসমাইল চৌধুরী ও অনিক সফিক সাঈদকে আজ মঙ্গলবার দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ওই মামলায় অপর দুই অভিযুক্ত ফারুক সারফুদ্দিন তারকশ ও মহম্মদ সাদিক ইসরার আহমেদ শাইক প্রমাণের অভাবে খালাস পেয়েছেন।
চেরলাপল্লি জেলের মধ্যে বসানো বিশেষ আদালতে এই রায় দেন অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন সেশন কোর্টের বিচারপতি টি শ্রীনিবাস রাও। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ওই জেলেই বন্দী। অপরাধীদের সাজার মেয়াদ ঘোষণা হবে আগামী সোমবার।
হায়দরাবাদের লুম্বিনি পার্ক ও জনপ্রিয় ফাস্ট ফুডের দোকান গোকুল চাট-এ ২০০৭ সালের ২৫ আগস্ট প্রায় একই সময়ে বিস্ফোরণ ঘটে। তদন্তের তির ধাবিত হয় ভারতের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ইন্ডিয়ান মুজাহিদ্দিনের দিকে। অভিযুক্ত হন মোট সাতজন। তাঁদের মধ্যে সংগঠনের তিন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রিয়াজ ভটকাল, ইকবাল ভটকাল ও আমির রেজা খান এখনো ফেরার। তারিক আনজুম নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে তদন্তকারী সংস্থা পৃথক একটি মামলা দায়ের করে। অভিযোগ, তারিক ইন্ডিয়ান মুজাহিদ্দিন সদস্যদের দিল্লিতে আত্মগোপনের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। সোমবার সাজা ঘোষণার পাশাপাশি ওই মামলার রায়ও জানানো হবে।
ইন্ডিয়ান মুজাহিদ্দিন সম্পূর্ণই ভারতীয় সন্ত্রাসবাদীদের তৈরি এক সংগঠন। ২০১০ সালের ৪ জুন ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ওই বছরের অক্টোবর মাসে নিউজিল্যান্ডও ওই সংগঠনকে সন্ত্রাসবাদী আখ্যা দেয়। ২০১১ সালে একইভাবে এই সংগঠনকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সন্ত্রাসবাদী ঘোষণা করে।
গোকুল চাট ও লুম্বিনি পার্কে সন্ধ্যা পৌনে আটটার সময় বিস্ফোরণ ঘটেছিল। গোকুল চাট ভান্ডারে তখন প্রচণ্ড ভিড়। ওখানে মারা যান ৩২ জন। লুম্বিনি পার্কে সে সময় চলছিল লেজার শো। সেখানে নিহত হন ১০ জন। পরে হতাহতদের মধ্যে ২ জনের মৃত্যু হয় হাসপাতালে। শহরের দিলখুশনগরে পাওয়া গিয়েছিল না ফাটা আরও একটা বোমা।