১৫ দফা দাবিতে দিল্লিতে কৃষক-শ্রমিক সমাবেশ

১৫ দফা দাবিতে কৃষক-শ্রমিকদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দিল্লি, ভারত, ৫ সেপ্টেম্বর। ছবি: রয়টার্স
১৫ দফা দাবিতে কৃষক-শ্রমিকদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দিল্লি, ভারত, ৫ সেপ্টেম্বর। ছবি: রয়টার্স

মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে মুম্বাই লংমার্চের পর উত্তর-পশ্চিম ভারতের কৃষকদের সঙ্গে শ্রমিকেরাও এবার দাপালেন রাজধানী দিল্লি। রামলীলা ময়দান থেকে সংসদ মার্গে এসে কেন্দ্রীয় সরকারকে তাঁরা জানিয়ে দিলেন, ১৫ দফা দাবি না মানলে সরকারবিরোধী আন্দোলন তাঁরা তীব্রতর করে তুলবেন। আজ বুধবার কৃষক-শ্রমিকদের সমাবেশ সফল করতে সক্রিয় ছিল সিপিএমের তিন সংগঠন কৃষক সভা, সিটু ও কৃষি শ্রমিক ইউনিয়ন।

কৃষক সভার সাধারণ সম্পাদক হান্নান মোল্লা বলেন, শুধু শ্রমিক-কৃষকদের দাবিই নয়, কেন্দ্রীয় সরকার ও শাসক দল যেভাবে দেশে বিভাজন সৃষ্টি করছে, এই সমাবেশ প্রতিবাদ জানাচ্ছে তার বিরুদ্ধেও।

মহারাষ্ট্র থেকে কৃষকদের দিল্লি আনতে সংগঠকেরা ৩৪ লাখ রুপি খরচ করে বিশেষ ট্রেন ভাড়া করেছেন। দুদিন ধরে কৃষক-শ্রমিকদের তাঁবু খাটিয়ে রাখা হয় রামলীলা ময়দানে। উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা, রাজস্থান থেকেও শ্রমিক-কৃষকেরা দিল্লি এসেছেন। সকালের ঝিরঝিরে বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার-হাজার কৃষক, কৃষিশ্রমিক ও গ্রামীণ অঙ্গনের কর্মীরা লাল পতাকা হাতে মিছিল করে সুশৃঙ্খলভাবে সংসদ ভবনের কাছে সংসদ মার্গে এসে সমবেত হন। পুরো তল্লাট লালে লাল হয়ে যায়। লাখখানেক মানুষের সমাবেশ হবে ধরে নিয়ে দিল্লি পুলিশ মঙ্গলবার রাতেই জানিয়ে দেয়, কোন কোন রাস্তা এড়িয়ে চলা দরকার। সংসদ মার্গের এক পাশে তৈরি করা হয় বিরাট এক সাংস্কৃতিক মঞ্চ। দেশ গঠনে শ্রমিক ও কৃষকদের অবদান সত্ত্বেও সরকারি নীতিতে কীভাবে তাঁরা নিষ্পেষিত, সেই চিত্রগীতি ও নৃত্যনাট্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়। সৃষ্টি হয় এক উৎসব উৎসব পরিবেশ।

সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিসহ সাংগঠনিক নেতারা ওই সমাবেশে সরকারের কৃষি ও শ্রমনীতির সমালোচনা করেন। কিষান সভার সভাপতি অশোক ধাওয়ালে বলেন, কৃষক ও শ্রমিক হাতে হাত না মেলালে সমাজ ও অর্থনীতির বৈপ্লবিক পরিবর্তন অসম্ভব। এই সমাবেশের উদ্দেশ্য সব ধরনের শ্রমিককে এক জোট করা।

১৫ দফা দাবির অন্যতম কৃষি ও শিল্পশ্রমিকদের জন্য মাসে ন্যূনতম ১৮ হাজার রুপি মজুরির ঘোষণা, শ্রম আইনে শ্রমিকবিরোধী সংশোধন আইন প্রত্যাহার, কৃষি ক্ষেত্রে স্বামীনাথন কমিটির সুপারিশ মেনে সহায়ক মূল্য ঘোষণা, কৃষক ও খেতমজুরদের ঋণ মওকুফ প্রকল্প বাস্তবায়ন, অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের আগাম বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞার দাবি অন্যতম। কর্মী নিয়োগে চুক্তি ব্যবস্থা বন্ধ করে পুরুষ ও নারী শ্রমিক-কর্মীদের সমহারে বেতনের দাবিও জানানো হয়েছে। রয়েছে কৃষকদের সম্মতি ছাড়া জমি অধিগ্রহণে বলপ্রয়োগ বন্ধের দাবি।