যুক্তরাষ্ট্রে ৩৮টি দেশের ভ্রমণকারীদের প্রবেশ করার আগে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার (প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা) পর্যন্ত বন্ড (জামানত) জমা দিতে হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসনবিরোধী নতুন পদক্ষেপ হিসেবে এ–সংক্রান্ত এক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে গত বছরের মাঝামাঝি। দেশগুলোর তালিকায় সর্বশেষ বাংলাদেশসহ ২৫টি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ভিসা বন্ডের শর্তযুক্ত দেশগুলোর এ তালিকায় সাতটি দেশকে যুক্ত করার এক সপ্তাহ পার হওয়ার আগেই গতকাল মঙ্গলবার নতুন ওই দেশগুলোর নাম যোগ করে পররাষ্ট্র দপ্তর। এর আগে আরও ছয়টি দেশের নাম যুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
১২ মাসের এ পরীক্ষামূলক কর্মসূচি শুরু হয়েছে গত ২০ আগস্ট। এটি যুক্তরাষ্ট্রের বি-১ (ব্যবসায়িক) ও বি-২ (পর্যটন) ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। ১২টি দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং মার্কিন ভিসাধারী দর্শনার্থীদের জন্য নতুন কিছু ফি চালু করার পর এ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্র। তালিকায় নতুন অন্তর্ভুক্ত হওয়া দেশগুলোর জন্য ভিসা বন্ড কার্যকর হবে আগামী ২১ জানুয়ারি (কয়েকটি ছাড়া)।
গত ৫ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত পররাষ্ট্র দপ্তরের অস্থায়ী চূড়ান্ত নীতিমালা অনুযায়ী, এ কর্মসূচি এমন দেশগুলোর নাগরিকদের নিশানা করবে, যেসব দেশের ভিসাধারীদের নির্ধারিত মেয়াদ শেষে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার (ওভারস্টে) হার ঐতিহাসিকভাবে বেশি।
সরকারি বিভিন্ন প্রতিবেদনের বরাতে আগস্টে পররাষ্ট্র দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘২০০০ সাল থেকে দেখা যাচ্ছে, অনেক বিদেশি নাগরিক ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলেও তাঁদের প্রস্থানের কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। এতে প্রমাণিত হয় যে প্রতিবছর হাজার হাজার নন-ইমিগ্র্যান্ট দর্শনার্থী ভিসার শর্ত মেনে নির্ধারিত সময়ে দেশ ছাড়েন না।’
অভিবাসীদের মধ্যে কত শতাংশের ভিসা ‘ওভারস্টে’
কংগ্রেসে দেওয়া এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানায়, ২০২৩ অর্থবছরে ভিসাধারীদের প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখের প্রস্থান করার কথা ছিল। কিন্তু ওই বছর প্রায় ৪ লাখ মানুষ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে থেকে গেছেন।
আবার মার্কিন অভিবাসন নীতিবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে থাকা অভিবাসীদের একটি বড় অংশেরই ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। এ কারণে দেশটিতে অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা বেড়েছে।
১৯৯০-এর দশকের তথ্য বিশ্লেষণ করে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাচারালাইজেশন সার্ভিস (আইএনএস) ২০০২ সালে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীর প্রায় ৪১ শতাংশের ভিসা ওভারস্টে। ২০০৩ সালে আইএনএস নতুনভাবে তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখায়, ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের ৩৩ শতাংশের ভিসা ছিল ওভারস্টে।
এ বিষয়ে অধিকতর সাম্প্রতিক তথ্য দিয়েছে অভিবাসন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর মাইগ্রেশন স্টাডিজ। তারা জানিয়েছে, ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে থাকা মানুষের প্রায় ৪২ শতাংশের ভিসা ওভারস্টে ছিল। ২০২৪ সালেও তারা একই হার উল্লেখ করেছে।
গত ৫ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত পররাষ্ট্র দপ্তরের অস্থায়ী চূড়ান্ত নীতিমালা অনুযায়ী, এ কর্মসূচি এমন দেশগুলোর নাগরিকদের নিশানা করবে, যেসব দেশের ভিসাধারীদের নির্ধারিত মেয়াদ শেষে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার (ওভারস্টে) হার ঐতিহাসিকভাবে বেশি।
আসুন জেনে নেওয়া যাক, ভিসা বন্ড কী ও এ–সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত নতুন কর্মসূচির উল্লেখযোগ্য কিছু দিক:
কর্মসূচির আওতায় থাকা দেশ
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর নিচের দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড বাধ্যতামূলক করেছে। বন্ধনীর ভেতরে বন্ড কার্যকর হওয়ার তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে:
বাংলাদেশ (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
আলজেরিয়া (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
অ্যাঙ্গোলা (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারবুডা (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
বেনিন (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
ভুটান (১ জানুয়ারি ২০২৬)
বতসোয়ানা (১ জানুয়ারি ২০২৬)
বুরুন্ডি (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
কেপ ভার্দে (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র (১ জানুয়ারি ২০২৬)
আইভরি কোস্ট (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
কিউবা (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
জিবুতি (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
ডোমিনিকা (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
ফিজি (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
গ্যাবন (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
গাম্বিয়া (১১ অক্টোবর ২০২৫)
গিনি (১ জানুয়ারি ২০২৬)
গিনি বিসাউ (১ জানুয়ারি ২০২৬)
কিরগিজস্তান (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
মালাবি (২০ আগস্ট ২০২৫)
মৌরিতানিয়া (২৩ অক্টোবর ২০২৫)
নামিবিয়া (১ জানুয়ারি ২০২৬)
নেপাল (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
নাইজেরিয়া (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
সাও তোমে ও প্রিন্সিপে (২৩ অক্টোবর ২০২৫)
সেনেগাল (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
তাজিকিস্তান (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
তানজানিয়া (২৩ অক্টোবর ২০২৫)
টোগো (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
টোঙ্গা (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
তুর্কমেনিস্তান (১ জানুয়ারি ২০২৬)
টুভ্যালু (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
উগান্ডা (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
ভানুয়াতু (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
ভেনেজুয়েলা (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
জাম্বিয়া (২০ আগস্ট ২০২৫)
জিম্বাবুয়ে (২১ জানুয়ারি ২০২৬)
ভিসা বন্ড কী
ভিসা বন্ড হলো একধরনের আর্থিক নিশ্চয়তা। কিছু দেশ নির্দিষ্ট বিদেশি নাগরিকদের সাময়িক ভিসা দেওয়ার আগে এমন জামানত বা নিশ্চয়তা নিয়ে থাকে; যেন তাঁরা ভিসার শর্ত, বিশেষ করে থাকার সময়সীমা মেনে চলেন।
প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র হাজারো বিদেশি শিক্ষার্থী, পর্যটক ও কর্মীকে অস্থায়ী নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেয়। এসব ভিসার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে।
কোনো নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাধারী অনুমোদিত মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকলে সেটি ভিসা ওভারস্টে বলে গণ্য হয়।
বেশির ভাগ দেশই ভিসার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ থাকার প্রমাণ চায়। কিন্তু ফেরতযোগ্য জামানত দিয়ে দেশে প্রবেশের অনুমতি প্রদানের ব্যবস্থা চালু করেনি।
নিউজিল্যান্ড একসময় ওভারস্টে নিয়ন্ত্রণে ভিসা বন্ড চালু করেছিল, পরে তা আর কার্যকর হয়নি। ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্য কিছু ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশের ভ্রমণকারীদের জন্য ভিসা বন্ড চালুর উদ্যোগ নেয়, কিন্তু পরে তা বাতিল করে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও ভিসা বন্ড কর্মসূচি চালুর চেষ্টা করেছিল। তবে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে বিশ্বব্যাপী ভ্রমণ হ্রাস পাওয়ায় তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।
ভিসা বন্ডের আইনি ভিত্তি
ভিসা বন্ড বা জামানতের শর্ত বা বাধ্যবাধকতাগুলো ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট’ (আইএনএ)-এর ২২১ (জি)(৩) ধারা এবং এ পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালুর লক্ষ্যে প্রণীত ‘টেম্পোরারি ফাইনাল রুল’ (টিএফআর)-এ বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।
ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কতজন নাগরিক নিয়ম ভেঙে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, সেই হার নির্ধারণ করা হয়েছে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের (ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি) ‘এন্ট্রি/এক্সিট ওভারস্টে’ প্রতিবেদনের বি১ ও বি২ ক্যাটাগরির তথ্যের ভিত্তিতে।
বন্ডের পরিমাণ, কারা দিতে বাধ্য
তালিকায় উল্লিখিত যেকোনো দেশের পাসপোর্টধারী ব্যক্তি বা রাষ্ট্রীয় নাগরিক, যিনি বি১/বি২ ভিসার জন্য শর্ত সাপেক্ষে যোগ্য হবেন, তাঁকে অবশ্যই বন্ড দিতে হবে। বন্ডের পরিমাণ হবে ৫ হাজার ডলার, ১০ হাজার ডলার কিংবা ১৫ হাজার ডলার। বন্ডের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে ভিসা সাক্ষাৎকারের সময়।
বন্ডের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন কনস্যুলার কর্মকর্তা। তিনি আবেদনকারীর ব্যক্তিগত অবস্থা, যেমন ভ্রমণের কারণ, চাকরি, আয়, দক্ষতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবেচনায় নেবেন।
তবে কিছু ক্ষেত্রে জামানত মওকুফের সুযোগ থাকবে, যেমন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মচারীদের ভ্রমণ বা জরুরি মানবিক প্রয়োজন।
আবেদনকারীকে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ফরম আই–৩৫২ জমা দিতে হবে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম Pay.gov–এর মাধ্যমে বন্ডের শর্তে সম্মতি দিতে হবে তাঁকে।
এ নিয়ম বিশ্বের যে প্রান্ত থেকেই ভিসার জন্য আবেদন করা হোক না কেন, সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
কনস্যুলার কর্মকর্তা নির্দেশ দেওয়ার পরই শুধু আবেদনকারীদের বন্ড জমা দেওয়ার জন্য ‘আই-৩৫২’ ফরমটি জমা দিতে হবে।
বন্ডের অর্থ পরিশোধের জন্য আবেদনকারীরা সরাসরি ‘Pay.gov’-এর একটি লিংক পাবেন। এ অর্থ জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনোভাবেই তৃতীয় কোনো পক্ষের ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যাবে না।
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নির্ধারিত ব্যবস্থার বাইরে অন্য কোথাও অর্থ লেনদেন করা হলে তার দায়ভার দেশটির সরকার গ্রহণ করবে না।
কনস্যুলার কর্মকর্তার নির্দেশ ছাড়া কেউ যদি ফি বা বন্ড জমা দেন, সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না।
ভিসা বন্ড দেওয়া মানেই ভিসা নিশ্চিত—এমনটা নয়।
বেশির ভাগ দেশই ভিসার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ থাকার প্রমাণ চায়। কিন্তু ফেরতযোগ্য জামানত দিয়ে দেশে প্রবেশের অনুমতি প্রদানের ব্যবস্থা চালু করেনি। নিউজিল্যান্ড একসময় ওভারস্টে নিয়ন্ত্রণে ভিসা বন্ড চালু করেছিল, পরে তা আর কার্যকর হয়নি। ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্য কিছু ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশের ভ্রমণকারীদের জন্য ভিসা বন্ড চালুর উদ্যোগ নেয়, কিন্তু পরে তা বাতিল করে।
প্রবেশ–প্রস্থানের নির্ধারিত স্থান
ভিসা বন্ডের শর্ত অনুযায়ী, যেসব ভিসাধারী বন্ড জমা দেবেন, তাঁদের শুধু নিচের তিনটি বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও প্রস্থান করতে হবে। এই ‘পোর্টস অব এন্ট্রি’ হলো:
বোস্টন লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (বিওএস), জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (জেএফকে) ও ওয়াশিংটন ডুলাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (আইএডি)।
নির্ধারিত এ তিন বিমানবন্দর ছাড়া অন্য কোনো স্থান দিয়ে প্রবেশ বা প্রস্থান করলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি বাতিল হতে পারে অথবা প্রস্থানের বিষয়টি সঠিকভাবে রেকর্ড না–ও হতে পারে।
বন্ডের অর্থ কখন ফেরত
ভিসা বন্ডের শর্তগুলো বন্ডের ফর্মে (ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ফর্ম আই-৩৫২ ইমিগ্রেশন বন্ডস) এবং Travel.State.Gov ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে। নিচের পরিস্থিতিগুলোতে বন্ড বাতিল হবে এবং অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত দেওয়া হবে:
যদি ভিসাধারী ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমোদিত তারিখের মধ্যে বা এর আগে দেশটি ত্যাগ করেন এবং ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেই বহির্গমন রেকর্ড করে; অথবা
যদি ভিসাধারী ব্যক্তি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণই না করেন; অথবা
যদি ভিসাধারী ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত বিমানবন্দরে (পোর্ট অব এন্ট্রি) প্রবেশের জন্য আবেদন করেন এবং তাঁর প্রবেশাধিকার প্রত্যাখ্যান করা হয়।
বন্ডের শর্ত ভঙ্গ
যদি কোনো ভিসাধারী ব্যক্তি ভিসা বন্ডের শর্ত ভেঙেছেন বলে প্রতীয়মান হয়, তবে বিষয়টি ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি থেকে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের (ইউএসসিআইএস) কাছে পাঠানো হবে। সার্ভিস নির্ধারণ করবে সত্যিই বন্ড ভঙ্গ হয়েছে কি না, সেটি। যেসব পরিস্থিতি শর্ত ভঙ্গ হিসেবে ধরা হতে পারে, সেসবের মধ্যে নিচের বিষয়গুলো রয়েছে। তবে তা শুধু এগুলোতেই সীমাবদ্ধ নয়:
অনুমোদিত থাকার সময়সীমা পার হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করা
সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়া
নন-ইমিগ্র্যান্ট স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করা; যার মধ্যে আশ্রয় দাবি করাও অন্তর্ভুক্ত
শেষ কথা
ভিসা বন্ড মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার একটি নতুন কৌশল। নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির মার্কিন ভিসাপ্রত্যাশী বাংলাদেশিদের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—ভিসা ব্যবস্থাপনায় এখন থেকে আর্থিক ও আচরণগত বিশ্বাসযোগ্যতা আগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে।
এ পরিস্থিতিতে ভ্রমণকারীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পথ হলো, ভিসার শর্ত মেনে চলা, সময়মতো দেশত্যাগ করা ও কোনো অনানুষ্ঠানিক পথে লেনদেন না করা।
(তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা, ইনডিপেনডেন্ট ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইট}