এদিকে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাস এই হামলার প্রশংসা করেছে। এটিকে ‘বীরত্বপূর্ণ কাজ’ বলে অভিহিত করলেও এ হামলার দায় নেয়নি।

নগরীর উপকণ্ঠে দুটি ব্যস্ত এলাকার বাসস্টপে এসব বিস্ফোরণ ঘটে। জেরুজালেমে যাওয়ার পশ্চিম দিকের মহাসড়কে একটি বাসস্টেশনের কাছে  স্থানীয় সময় সকাল ৭টার দিকে প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটে। চিকিৎসকদের তথ্যমতে, এই বিস্ফোরণে তাঁরা ৭ জনকে আহত অবস্থায় পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি ঘটে জেরুজালেমের উত্তরাংশে রামোত জংশনে। প্রথম বিস্ফোরণের আধা ঘণ্টার কম সময়ের ব্যবধানে এটি ঘটে। কর্মকর্তারা জানান, এতে পাঁচজন সামান্য আহত হয়েছে।

রামোতে থাকা আল-জাজিরার সাংবাদিক অ্যালান ফিশার বলেন, পুলিশ ধারণা করছে প্রথম বিস্ফোরণটি বিস্ফোরকভর্তি একটি সাইকেল সেই বাসস্টপে ফেলে রেখে ঘটানো হয়েছে। দুটি বিস্ফোরণই দূর থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ বড় বড় সব রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। জেরুজালেমের পূর্ব ও পশ্চিম অংশে তল্লাশিচৌকি বসানো হয়েছে।

দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জেনিন এলাকায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ তল্লাশিচৌকি জালামেহ এবং সালেম বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে।

ইসরায়েলি পুলিশ কমিশনার বলেছেন, জেরুজালেমে যে ধরনের হামলা হয়েছে, তা  ‘কয়েক বছর ধরে দেখা যায়নি’। কর্তৃপক্ষ হামলাকারীদের খুঁজছে।

বিস্ফোরণের সময় ঘটনাস্থলে থাকা ইয়োসেফ হাইম গাবে নামের এক চিকিত্সক আর্মি রেডিওকে বলেন, ঘটনাস্থলের চারপাশে সব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল।

গত বছর থেকে এই অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে এসব ঘটনা ঘটল। অধিকৃত পশ্চিম তীরের শহর ও গ্রামে সম্প্রতি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযান এবং ফিলিস্তিনিদের হত্যা বেড়েছে। সমান্তরালভাবে বেড়েছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র আক্রমণও। তবে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বসতি স্থাপনকারীদের আক্রমণও বেড়েছে।

২০০৬ সাল থেকে পূর্ব জেরুজালেম, পশ্চিম তীর ও অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ৫০টির বেশি শিশুসহ অন্তত ২০০ ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছে। আর ইসরায়েলে এ সংখ্যা ২৫ জনের বেশি।