হরমুজ নিয়ে ইরানের নীতি এখন কী, অন্যরা কি তা মেনে নেবে

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পর ওমানের মাসকাট উপকূলে নোঙর করে আছে তেলবাহী জাহাজ ‘লুওজিয়াশান’। ৭ মার্চ ২০২৬ছবি: রয়টার্স

যে সরু জলপথ পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর তথা আরব সাগরেরর সঙ্গে যুক্ত করেছে, তা–ই হরমুজ প্রণালি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র মিলে ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে বিশ্ববাসীর মনোযোগের কেন্দ্রে এই প্রণালি।

যুদ্ধ শুরুর আগে এই জলপথ ছিল নিরাপদ, চলাচলের জন্য কোনো জাহাজকে টোল দিতে হতো না। শান্তিকালে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই সরবরাহ করা হতো।

হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জলসীমার অন্তর্গত নয়। এখন এর মালিকানা ইরান ও ওমান ভাগাভাগি করে নিয়েছে। এই জলধারার দুই পাশে এই দুই দেশ।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আক্রমণ করার পর জবাবে ইরান এই প্রণালিতে ‘শত্রুদের’ বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা শুরু করে। এতে পথটি দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়, জাহাজগুলো পড়ে আটকে। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে স্মরণকালের ভয়াবহতম সংকট তৈরি হয়।

ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বোমা হামলার হুমকির পরও গত সপ্তাহের শুরুতে তেহরান সব জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় প্রণালিটি খুলে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। তবে গত মঙ্গলবার রাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ট্রাম্প তাঁর ওই হুমকি থেকে সরে আসেন।

এর আগে ইরান ১০ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব দেয়। ট্রাম্প এটিকে শত্রুতার স্থায়ী অবসানে আলোচনার জন্য একটি ‘কার্যকর’ ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এই যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে তেহরান এখন কিছু আনুষ্ঠানিক শর্ত দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, সামনের দিনগুলোতে এই শর্তগুলোর ভিত্তিতেই প্রণালিটি তাদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হবে।

হরমুজ প্রণালি ও ইরানের অবস্থান নির্দেশকারী মানচিত্রের ইলাস্ট্রেশন
ছবি: রয়টার্স

আজ শনিবার ইসলামাবাদে আলোচনা শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র এসব শর্তের বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেনি। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, তেহরানের এই চলমান নিয়ন্ত্রণ ওয়াশিংটনসহ অন্যান্য দেশের কাছে মোটেও গ্রহণযোগ্য হবে না।

এই সংকটের সময়ে শুধু ইরান তাদের বন্ধুপ্রতিম কিছু দেশের জাহাজ এবং যারা টোল দেয়, তাদেরই নিরাপদে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। যত দূর জানা গেছে, কমপক্ষে দুবার জাহাজের টোল দেওয়া হয়েছে চীনের মুদ্রা ইউয়ানে।

একে মার্কিন ডলারকে দুর্বল করার পাশাপাশি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর একটি কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ইরানের মোট রপ্তানি করা তেলের ৮০ শতাংশ কেনে চীন। তারা আগে থেকেই তেহরানকে ইউয়ানের মাধ্যমে দাম পরিশোধ করে আসছে।

প্রণালিটি এখন কার নিয়ন্ত্রণে

গত মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, যুদ্ধবিরতির এ সময়ে প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচলের অনুমতি দেবে ইরান। তবে তা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে এবং কারিগরি সীমাবদ্ধতার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করে করা হবে।

বুধবার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) প্রণালিটির একটি মানচিত্র প্রকাশ করে। সেখানে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নিরাপদ রুট দেখানো হয়। মানচিত্রটিতে জাহাজগুলোকে ওমান উপকূলের কাছের পুরোনো পথটি এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। এর বদলে আরও উত্তরে, ইরানের উপকূল ঘেঁষে চলতে বলা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, সব নৌযানকে চলাচলের জন্য অবশ্যই এই নতুন মানচিত্র ব্যবহার করতে হবে। কারণ, মূল চলাচল এলাকায় বিভিন্ন ধরনের জাহাজবিধ্বংসী মাইন থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

যুদ্ধবিরতি চলাকালে ইরান টোল আদায় করছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

তবে ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেন, প্রণালিটিতে জাহাজ চলাচলের জট কমাতে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করবে। আলোচনা চলার এই সময়ে মার্কিন সেনাবাহিনী সেখানে ‘অবস্থান করবে’ বলেও জানান তিনি।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালিটির একটি মানচিত্র প্রকাশ করে, সেখানে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নিরাপদ রুট দেখিয়েছে
ছবি: আল–জাজিরা থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট

এরপর বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া একটি পোস্টে ট্রাম্প বলেন, প্রণালিটি ‘উন্মুক্ত ও নিরাপদ’ থাকবে। তিনি আরও জানান, মার্কিন সেনারা ওই এলাকা ছাড়বেন না। আলোচনা সফল না হলে আবার হামলা শুরুর হুমকিও দেন তিনি।

প্রণালিতে বর্তমানে যা ঘটছে, মার্কিন সেনারা তা ঠিক কতটা নিয়ন্ত্রণ করছেন, তা জানা যায়নি।

দিল্লিভিত্তিক সমুদ্রবিষয়ক বিশ্লেষক সি উদয় ভাস্কর আল-জাজিরাকে বলেন, কারা প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চালাতে পারবে, তা নিয়ে ব্যাপক অনিশ্চয়তা রয়েছে। যুদ্ধ স্থগিত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র তিনটি থেকে পাঁচটি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছে।

ইরানের ১০ দফার কী প্রভাব পড়বে হরমুজে

তেহরানের ১০ দফায় প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরান ও তার মিত্রদের (বিশেষ করে লেবানন) ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সব হামলা বন্ধ করতে হবে, সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই থাকবে।

পরিকল্পনাটি পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি। তবে এটিকে আলোচনার একটি প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবেই মনে করা হচ্ছে।

ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, প্রতিটি জাহাজের কাছ থেকে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল আদায়ের একটি পরিকল্পনা বিবেচনা করছে ইরান। প্রণালির অপর প্রান্তে থাকা ওমানের সঙ্গে এই অর্থ ভাগাভাগি করা হবে। অন্যান্য প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরবরাহ করা প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ১ ডলার করে টোল নিতে পারে ইরান।

তেহরান জানিয়েছে, টোল থেকে সংগৃহীত রাজস্ব যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে ব্যবহার করা হবে।

তবে ওমান এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পরিবহনমন্ত্রী সাইদ আল-মাওয়ালি বুধবার বলেন, ওমান এর আগে ‘সব আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পরিবহন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে’, যা এ ধরনের টোল বা মাশুল আদায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ বৃহস্পতিবার দেওয়া একটি পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, প্রণালিটি ‘উন্মুক্ত ও নিরাপদ’ থাকবে
ছবি: রয়টার্স

টোল নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন কী বলে

ইরানের টোল বসানোর পরিকল্পনার সমালোচকেরা বলছেন, এটি নিরাপদ সমুদ্রপথ পরিচালনার আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। এটি কোনোভাবেই চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হওয়া উচিত নয়।

সমুদ্র আইনবিষয়ক জাতিসংঘ সনদ (ইউএনসিএলওএস) অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক প্রণালি বা আঞ্চলিক জলসীমা দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর কোনো ধরনের শুল্ক বা টোল আরোপ করা যাবে না।

এই আইনে উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোকে বিভিন্ন সেবার বিনিময়ে ফি আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যেমন নৌ চলাচলে সহায়তা কিংবা বন্দর ব্যবহারের ফি। তবে কেবল পারাপারের জন্য কোনো ফি আদায় করা যাবে না।

তবে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান কেউই এই সনদ অনুমোদন করেনি। যদি তারা তা করেও থাকত, তবু এই আইন এড়িয়ে যাওয়ার উপায় ছিল।

বিশ্লেষক ভাস্কর আল-জাজিরাকে বলেন, ইরান যদি প্রণালিটি পারাপারের জন্য ফি না নিয়ে বরং মাইন অপসারণ ও রুটটি নিরাপদ করার কারণ দেখিয়ে ফি আদায় করে, তবে সামুদ্রিক আইন অনুযায়ী তা বৈধ হতে পারে।

সাম্প্রতিক ইতিহাসে আন্তর্জাতিক প্রণালি বা জলপথ পারাপারের জন্য কোনো দেশের আনুষ্ঠানিকভাবে কর আদায়ের নজির নেই।

২০২৪ সালের অক্টোবরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা জাহাজ পরিবহন কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ‘অবৈধ ফি’ আদায় করছে। লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে এই ফি নেওয়া হচ্ছিল। গাজা যুদ্ধ চলাকালে এই এলাকায় ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল হুতিরা।

গত সপ্তাহে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির একজন শীর্ষ উপদেষ্টা ইঙ্গিত দেন, ইরানের ওপর যুদ্ধের কারণে হুতিরা বাব আল-মান্দেব শিপিং রুটটি আবারও বন্ধ করে দিতে পারে।

বাণিজ্যিক জাহাজ ‘গ্যালাক্সি লিডার’ আটকের পর এর ডেকে নাচছেন ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। ইয়েমেনের আল-সালিফ উপকূলের অদূরে। ৫ ডিসেম্বর ২০২৩
ছবি: রয়টার্স

হরমুজ প্রণালির টোল নিয়ে বিভিন্ন দেশের কেমন প্রতিক্রিয়া হতে পারে

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের ওপর টোল বসানো হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে উপসাগরীয় তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলো, যারা বুধবারই যুদ্ধবিরতির প্রশংসা করে বিবৃতি দিয়েছে। তবে বর্তমান সরবরাহ সংকটের মতো এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব অন্যান্য দেশের ওপরও পড়বে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোও এখন একধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। কারণ, ইরান ভবিষ্যতেও জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগেই বাহরাইন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল। সেখানে সদস্যদেশগুলোকে সমন্বয় করে এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়ে যৌথভাবে প্রণালিটি পুনরায় চালুর আহ্বান জানানো হয়। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত ও জর্ডান এ প্রস্তাবকে সমর্থন করেছিল। ৭ এপ্রিল নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে ১১টি দেশই এ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়।

কিন্তু রাশিয়া ও চীন ওই প্রস্তাবে ভেটো দেয়। তাদের দাবি, প্রস্তাবটি পক্ষপাতদুষ্ট ছিল এবং এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দ্বারা ইরানের ওপর চালানো প্রাথমিক হামলার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল।

হরমুজ প্রণালির কাছে ট্যাংকার চলাচলের দৃশ্য। ওমানের মুসান্দাম সীমান্তের কাছাকাছি সংযুক্ত আরব আমিরাতের উত্তর রাস আল-খাইমাহ থেকে ছবিটি তোলা। ১১ মার্চ ২০২৬
ছবি: রয়টার্স

এ অঞ্চলের বাইরের দেশগুলোর বিষয়ে পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, শুক্রবার শুরু হওয়া আলোচনায় ইরানের এই অনির্দিষ্টকালের টোলের দাবি যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে—এমন সম্ভাবনা অনিশ্চিত।

আরও পড়ুন

অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আমিন সৈকল বলেন, হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার জন্য টোল বসানোর বিষয়টি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং সবার জন্য প্রণালিটি উন্মুক্ত রাখার যে প্রত্যাশা তাঁর রয়েছে, তার সঙ্গে মোটেও খাপ খায় না।

অন্যান্য পরাশক্তিও ইরানের টোল আদায়ের বিরোধিতা করছে। যুদ্ধবিরতির আগেই প্রণালিটি পুনরায় চালুর উপায় খুঁজতে আরও ৪০টি দেশের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছিল যুক্তরাজ্য।

তবে বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, প্রণালির বাস্তব পরিস্থিতি একটি ভিন্ন চিত্র তৈরি করতে পারে। জাহাজ আটকে থাকায় মালিকদের প্রতিদিন লাখ লাখ ডলার ক্ষতি হচ্ছে। তাঁরা দ্রুত ও নিরাপদে তাঁদের জাহাজগুলো বের করে আনার উপায় খুঁজছেন। অন্তত এখনকার পরিস্থিতিতে তাঁদের ইরানের কথা মেনে চলার সম্ভাবনাই বেশি।

বিশ্লেষক ভাস্কর বলেন, ‘আমি যদি তিন লাখ টন ওজনের একটি ভিএলসিসির (খুব বড় অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ) মালিক হতাম, যার দাম প্রায় ২৫ কোটি ডলার হতে পারে...তবে ইরানিরা যদি বলে যে তারা মাইন পুঁতে রেখেছে, আমি তাদের কথাই বিশ্বাস করতাম।’