তেহরানে শিক্ষার্থীদের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ

তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে শিক্ষার্থীদের সরকারবিরোধী বিক্ষোভছবি: ইনস্টাগ্রামের একটি ভিডিও থেকে

ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে আয়োজিত শোক র‍্যালিতে দেশটির শিক্ষার্থীরা সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়েছেন। শনিবার স্থানীয় ও প্রবাসীদের ইরানবিষয়ক কয়েকটি গণমাধ্যম এই খবর জানিয়েছে। এদিন ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী এবং সরকার সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ঘটনাও ঘটেছে।

শনিবার রাজধানী তেহরানের শীর্ষ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভের কিছু ভিডিওর সত্যতা যাচাই করতে পেরেছে বার্তা সংস্থা এএফপি। এসব ভিডিওতে দেখা যায়, ভিড়ের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয় এবং লোকজন ফারসি ভাষায় ‘নির্লজ্জ’ বলে চিৎকার করছেন।

বিদেশ থেকে পরিচালিত ফারসি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’-এর ফুটেজেও তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে বিক্ষোভকারীদের সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি তুঙ্গে ওঠে। এতে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শিয়াধর্মাবলম্বীদের শোক পালনের প্রথা অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তিদের ৪০তম দিনে স্মরণ করা হয়। এরই অংশ হিসেবে বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে চলতি সপ্তাহে ইরানের জনগণ আবারও রাস্তায় নেমে আসেন। স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার রাজধানীর কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হন।

দীর্ঘদিন ধরে চলা আর্থিক দুরবস্থার জেরে গত ডিসেম্বরে ইরানের রাজধানী তেহরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। দ্রুত তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং বড় ধরনের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর হাতে বিক্ষোভ দমন করে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, সরকারি বাহিনীর হাতে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন

ইরান কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহতের কথা স্বীকার করেছে। তবে তাদের দাবি, ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ কারণে এই সহিংসতা হয়েছে, যাদের ইরানের শত্রুরা উসকে দিয়েছিল।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘এইচআরএএনএ’র তথ্যমতে, সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলনে সাত হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাঁদের বেশির ভাগই বিক্ষোভকারী। তবে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘ফার্স’ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে শিক্ষার্থীদের একটি ‘শান্তিপূর্ণ ও নীরব অবস্থান’ কর্মসূচি ছিল। কিন্তু ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’—এমন স্লোগান দেওয়া শুরু হলে তা পণ্ড হয়ে যায়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে ইঙ্গিত করে এই স্লোগান দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

ফার্সের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একদল লোক ইরানের পতাকা হাতে স্লোগান দিচ্ছেন। তাঁরা মাস্ক পরা অন্য একদল বিক্ষোভকারীর মুখোমুখি অবস্থান নেন। স্যুট পরা কিছু মানুষ বিক্ষোভকারীদের ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। উভয় পক্ষের হাতে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে নিহত কিছু মানুষের ছবি দেখা গেছে।

এমন এক সময়ে এসব বিক্ষোভ হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি করা নিয়ে ইরানের ওপর চাপ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে ইরানের কাছাকাছি এলাকায় সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে।

এর আগে বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আরও পড়ুন