সিএনএনের অনুসন্ধান
স্যাটেলাইট চিত্রে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের হামলায় ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ
উপসাগরীয় আরব দেশগুলোয় থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। স্যাটেলাইট চিত্রে এসব স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা দেখা গেছে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষস্থানীয় নেতারা নিহত হন। ইরান এর যে কঠোর জবাব দিচ্ছে, তারই একটি অংশ মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে আক্রমণ।
৪৮ ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত ৯টি মার্কিন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্রের এসব সামরিক স্থাপনা ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে তুলনামূলকভাবে অনেক কাছের। কারণ, ইরান এর আগে ইসরায়েলের বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, যা এগুলোর চেয়ে বেশি দূরত্বে অবস্থিত।
এটাই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
শুয়াইবা (কুয়েতের) বন্দরে রোববার সকাল ৯টার পরপরই সেখানে থাকা একটি অস্থায়ী মার্কিন অপারেশন সেন্টারে হামলা চালায় ইরান। এতে সেখানে আগুন ধরে যায়। এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ছয়জন সেনাসদস্য নিহত হন। সেখানে আগুন লেগে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়।
সেখানে নিরাপত্তা বা প্রতিরক্ষার তেমন কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি।
আরেক হামলায় ক্যাম্প বুয়েহরিংয়ে (কুয়েতে অবস্থিত) মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি ক্যাম্পে ড্রোন আঘাত হানে। সেটি ‘আরশ ২’ ড্রোন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এতে একটি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘাঁটির ভেতরে পার্ক করে রাখা মার্কিন হেলিকপ্টারগুলো অল্পের জন্য রক্ষা পায়।
বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিতে একটি ‘শাহেদ’ ড্রোন আঘাত হানে। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মার্কিন নৌবহর। এই স্থাপনাকেও উদ্বেগজনকভাবে প্রতিরক্ষাবিহীন বলে মনে হয়। ড্রোনটি একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনালে আঘাত হানে, যা ছবিতে স্পষ্ট দেখা যায়।
এখানে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও বেশি স্পষ্ট হয়েছে। গুদামঘরসহ অন্যান্য ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া আলাদা একটি হামলায় ধ্বংস হয়েছে আরেকটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল।
পুরো অঞ্চলজুড়েই যেসব স্থাপনা আক্রান্ত হয়েছে, সেগুলো আঘাত হানার এমন ধরন দেখা গেছে। অন্তত পাঁচটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল ধ্বংস করা হয়েছে।
এটি দেখে ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্যই ইরান এই কৌশল নিয়েছে।
ইরান এবার নজিরবিহীনভাবে বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করেছে। তবে আকাশে থাকতেই এগুলোর বেশির ভাগ ভূপাতিত করেছে কোটি কোটি ডলারের মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা প্যাট্রিয়ট।
কিন্তু যেগুলো এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করে ভেতরে ঢুকেছে, সেগুলোই তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর নিরাপত্তা বলয় ভেঙে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। একই সঙ্গে এটি মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার নিরাপত্তাকাঠামোর হৃৎপিণ্ডেও গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে।