লেবাননে যুদ্ধবিরতির আহ্বান কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, জাপানসহ ১০ দেশের

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেনছবি: এএফপি ফাইল ছবি

লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের হত্যার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, জাপানসহ ১০টি দেশ। গতকাল মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়েছে। দেশগুলো লেবাননে অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

লেবাননে গত মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, কলম্বিয়া, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, সিয়েরা লিওন, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে গতকাল যৌথ বিবৃতিটি দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, লেবাননের ক্রমাবনতিশীল মানবিক পরিস্থিতি ও বাস্তুচ্যুতি সংকট নিয়ে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েল বা ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি।

গত মাসে লেবাননে তিন ইন্দোনেশীয় শান্তিরক্ষী নিহত হওয়ার ঘটনায় এ যৌথ বিবৃতিটি দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জাতিসংঘ বলেছে, তিনজনের মধ্যে একজন ইসরায়েলি ট্যাংক থেকে ছোড়া গোলার আঘাতে এবং অন্য দুজন একটি বিস্ফোরক ডিভাইস বিস্ফোরিত হওয়ার কারণে নিহত হন। বিস্ফোরক ডিভাইসটি হিজবুল্লাহ বসিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর পর গত ২ মার্চ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেয় হিজবুল্লাহ। এরপর লেবাননে নির্বিচার বিমান হামলা চালাতে থাকে ইসরায়েল। দেশটি দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযানও সম্প্রসারণ করেছে। লেবাননের হাজার হাজার বাসিন্দাকে গ্রাম ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে তারা। লেবানন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ অভিযানে ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

হিজবুল্লাহ মূলত ইসরায়েলের উত্তর সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে থাকলেও কিছু বড় শহরেও হামলা হয়েছে। ইসরায়েলের তথ্যমতে, ২ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ২ জন বেসামরিক নাগরিক ও ১৩ জন সেনা নিহত হয়েছেন।

১০ দেশের পক্ষ থেকে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের হত্যা এবং দক্ষিণ লেবাননে মানবিক সহায়তাকর্মীদের ঝুঁকি উল্লেখজনকভাবে বেড়ে যাওয়ার জন্য দায়ী বলে বিবেচিত কর্মকাণ্ডগুলোর বিরুদ্ধে আমরা কঠোর নিন্দা জানাচ্ছি।’

এসব দেশ আরও বলেছে, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানাই। আমরা লেবাননে অবিলম্বে যুদ্ধপরিস্থিতি বন্ধের আহ্বান জানাই।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে আগ্রাসন চালায়। জবাবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোয় পাল্টা হামলা চালায় ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া দুই সপ্তাহের নাজুক যুদ্ধবিরতির এখনো এক সপ্তাহ বাকি রয়েছে।

ইরান বলেছে, বড় পরিসরে সংঘাত থামাতে হলে লেবাননে ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধকেও চুক্তির অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তবে লেবাননে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইসরায়েল। হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার জন্য লেবানন সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে তারা।