ইরানের অনুমতি নিয়ে হরমুজ প্রণালি পেরোল ভারতগামী দুটি জাহাজ
ইরানের অনুমতি পাওয়ার পর হরমুজ প্রণালি নিরাপদে অতিক্রম করেছে ভারতগামী দুটি জাহাজ। জাহাজ দুটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বহন করছে। আজ শনিবার নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ভারতের বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব রাজেশ কুমার সিনহা।
রাজেশ কুমার বলেন, ভারতীয় পতাকাবাহী দুটি জাহাজ এলপিজি নিয়ে আজ সকালে নিরাপদে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। জাহাজ দুটি দেশের পশ্চিমাঞ্চলের বন্দরগুলোর দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। এর পর থেকে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল অনেকাংশেই বন্ধ করে দেয় তেহরান। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এবং সমুদ্রপথে পরিবহন হওয়া তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশই এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। এই অবরোধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং ভারতেও রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
ইরান আগেই জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র বা তাদের মিত্রদের কোনো সরবরাহকারী জাহাজ এই প্রণালি পার হতে দেওয়া হবে না। তবে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক থাকায় ভারত এ ক্ষেত্রে নিজেদের জন্য ছাড় চেয়েছিল।
গত বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনের বিষয়ে কথা বলেছেন।
ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাথালি জানান, বিরল ব্যতিক্রম হিসেবে তেহরান কিছু ভারতীয় জাহাজকে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে। আজ নয়াদিল্লিতে ইন্ডিয়া টুডে মিডিয়া গ্রুপ আয়োজিত এক সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
এদিকে দেশে রান্নার গ্যাসের সংকট এড়াতে গত সপ্তাহে ভারত সরকার জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে। এর আওতায় শোধনাগারগুলোকে এলপিজির উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এলপিজির ওপর নির্ভর ভারতের ৩৩ কোটি ৩০ লাখ পরিবারে যেন গ্যাসের সংকট না হয়, সে জন্য শিল্পকারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।