ইরানে বিক্ষোভে নিহত পাঁচ শতাধিক: মানবাধিকার সংস্থা

বিক্ষোভকারীরা অবস্থান নিয়েছেন, এমন একটি স্থান থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যাচ্ছে। ইরানের রাজাভি খোরাসান প্রদেশের মাশহাদ শহরের ভকিলাবাদ এলাকায় মহাসড়কের কাছে, ১০ জানুয়ারি ২০২৬। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি ভিডিও থেকে নেওয়া স্ক্রিনগ্র্যাবছবি: রয়টার্স

ইরানে চলমান বিক্ষোভে সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)। রোববার এমন এক সময়ে এ তথ্য সামনে এল, যখন বিক্ষোভকারীদের পক্ষ নিয়ে ইরানে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে শক্ত জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

ইরানে ২০২২ সালের পর এবারই সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হচ্ছে। এতে করে দেশটির শাসকগোষ্ঠী নতুন করে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর বলপ্রয়োগ করা হলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে পারে।

এইচআরএএনএ জানিয়েছে, ইরানের ভেতরে ও বাইরে থাকা কর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করে তারা গত দুই সপ্তাহে ৪৯০ জন বিক্ষোভকারী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করতে পেরেছে। একই সময়ে ১০ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এখন পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। অন্যদিকে রয়টার্সও এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

এদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রোববারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার ট্রাম্পকে তাঁর কর্মকর্তারা ইরান-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে ব্রিফ করার কথা ছিল। এতে সামরিক হামলা, গোপন সাইবার অস্ত্র ব্যবহার, নিষেধাজ্ঞা আরও সম্প্রসারণ এবং সরকারবিরোধী অনলাইন সোর্সগুলোকে সহায়তা দেওয়ার বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ ওয়াশিংটনকে ‘ভুল হিসাব-নিকাশ’ করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। ইরানের অভিজাত বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সাবেক এ কমান্ডার বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, ইরানের ওপর হামলা হলে অধিকৃত ভূখণ্ডসহ (ইসরায়েল) যুক্তরাষ্ট্রের সব ঘাঁটি ও জাহাজ আমাদের বৈধ নিশানায় পরিণত হবে।’

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। কিন্তু দ্রুত তা সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভে রূপ নেয়। ইরানের বর্তমান সরকারের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিক্ষোভে ইন্ধন জোগাচ্ছে।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার থেকে ইরান প্রায় সব ধরনের ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে দেশটির পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।