ইরানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ, বেশ কয়েকজন নিহত

ইরানের ফাসা শহরে একটি সরকারি ভবনের মূল ফটক ভেঙে ফেলার চেষ্টার করছে বিক্ষোভকারীরা। ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ছবি: টেলিগ্রাম থেকে নেওয়া

পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় কোণঠাসা হয়ে থাকা ইরানে চরম অর্থনৈতিক সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। গত তিন বছরের মধ্যে দেশটিতে হওয়া সবচেয়ে বড় এ বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ জানিয়েছে, গতকাল সন্ধ্যায় লোরেস্তান প্রদেশের একটি পুলিশ সদর দপ্তরে হামলার সময় অন্তত ৩ বিক্ষোভকারী নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা সেখানে কয়েকটি পুলিশ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেন।

এ ছাড়া লোর্দেগান, কুহদাশত ও ইসফাহান প্রদেশেও মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মানবাধিকার সংস্থা ‘হেনগাও’ দাবি করেছে, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বিক্ষোভকারীরা প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ডস বলেছে, কুহদাশতে বিক্ষোভকারীদের হামলায় তাদের আধা সামরিক বাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন।

গত রোববার থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মুদ্রার মান পড়ে যাওয়া এবং নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে দোকানপাট বন্ধ রেখে আন্দোলন শুরু করেন। পরে এ আন্দোলন সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

গত রোববার থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মুদ্রার মান পড়ে যাওয়া ও নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে দোকানপাট বন্ধ রেখে আন্দোলন শুরু করেন। পরে এ আন্দোলন সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন

রয়টার্সের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের মান প্রায় অর্ধেক কমে গেছে। বর্তমানে দেশটিতে মূল্যস্ফীতির হার ৪২ দশমিক ৫।

দীর্ঘদিনের পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং গত বছরের জুন মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় পারমাণবিক ও সামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইরানের অর্থনীতি বর্তমানে একরকম খাদের কিনারে পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতিতে বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান সরকার।

আরও পড়ুন

তেহরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেছেন, সরকার ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে বসতে রাজি।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত বুধবার দেশজুড়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। তা সত্ত্বেও গতকাল মারভদাশত, কেরমানশাহ, হামেদানসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ও ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন