ইরানে হামলা ‘যুদ্ধাপরাধ’ হতে পারে, শতাধিক মার্কিন বিশেষজ্ঞের খোলাচিঠি
ইরানে নির্বিচার হামলার জন্য নিজ দেশেই সমালোচনার মুখে পড়ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানকে প্রস্তরযুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার হুমকিকে ‘নিন্দনীয় ও ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতারা। আর ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মধ্যে শতাধিক মার্কিন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, এমন হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে।
ওই বিশেষজ্ঞরা এমন বক্তব্য দিয়েছেন একটি খোলাচিঠিতে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই চিঠিতে সই করা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে রয়েছেন হার্ভার্ড, ইয়েল, স্ট্যানফোর্ড ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাও। গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘শুধু মজার জন্য’ ইরানে হামলা চালাতে পারে মার্কিন বাহিনী। ওই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই এই খোলাচিঠি দেওয়া হয়েছে।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিট হেগসেথও বলেছিলেন, যুদ্ধের ‘বোকামিপূর্ণ’ নিয়মগুলো মাথায় রেখে লড়ছে না যুক্তরাষ্ট্র। সেদিকে ইঙ্গিত করে দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি আল-জাজিরাকে বলেন, হেগসেথের এমন বক্তব্য নজিরবিহীন। তাঁর এই বক্তব্য এবং বেসরকারি স্থাপনায় হামলা নিয়ে ট্রাম্পের হুমকি ইরানে যুদ্ধাপরাধের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের খোলাচিঠিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীগুলো যেটা করছে এবং দেশটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা যেসব বক্তব্য দিচ্ছেন, সেগুলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন এবং আসন্ন কোনো ইরানি হুমকির বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই সামরিক অভিযান শুরু করা হয়েছিল বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাঁদের চিঠিতে বলা হয়, ‘অন্য একটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ শুধু তখনই অনুমোদন পায়, যখন তা প্রকৃত বা আসন্ন সশস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার জন্য করা হয় অথবা যখন তা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন নিয়ে করা হয়। নিরাপত্তা পরিষদ এই হামলার অনুমোদন দেয়নি। ইরান ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রে আক্রমণ করেনি।’
বিশেষজ্ঞরা যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্তের বৈধতা; যুদ্ধ পরিচালনার পদ্ধতি; উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হুমকিমূলক বক্তব্য এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার নীতি লঙ্ঘন—এই চারটি বিষয় নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
আইনবিশেষজ্ঞরা যুদ্ধের প্রথম দিন ইরানের মিনাব শহরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছেন। এই হামলায় অন্তত ১৭৫ জন মানুষ প্রাণ হারান, যাঁদের অধিকাংশই শিশু। সেই সঙ্গে ইরানের বিভিন্ন হাসপাতাল, পানি পরিশোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার বিষয়গুলোর ওপর আলোকপাত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং ঘরবাড়ি লক্ষ্য করে যেসব হামলা হয়েছে, সেগুলো নিয়ে আমরা খুব বেশি উদ্বিগ্ন।’
খোলাচিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাবেক প্রধান কেনেথ রথ, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক আইন উপদেষ্টা হ্যারল্ড হংজু কোহ এবং ইয়েল ল স্কুলের আন্তর্জাতিক আইনের অধ্যাপক এবং আমেরিকান সোসাইটি অব ইন্টারন্যাশনাল ল–এর প্রেসিডেন্ট ওনা এ হ্যাথাওয়ে, নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফিলিপ অ্যালস্টোন।
জাতিসংঘের যুদ্ধবিষয়ক রীতিনীতি নিয়ে একটি সনদ রয়েছে। সেটি জেনেভা সনদ নামে পরিচিত। সে অনুযায়ী, যুদ্ধ চলাকালে হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, সেতুর মতো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো যাবে না। ট্রাম্প বুধবার ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দিলেও ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর দিন থেকেই দেশটিতে এমন স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল।
প্রথম দিনেই মিনাব শহরে স্কুলে হামলা চালিয়ে শিশুসহ ১৭৫ জনকে হত্যা ছাড়াও ইরান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে হামলা চালানো হয়েছে। এমনকি গোলেস্তান প্রাসাদ, মসজিদ-ই-জামে ও চেহেল সোতুন প্রাসাদের মতো ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় থাকা স্থাপনাগুলোও রেহাই পায়নি। ইরানের সবচেয়ে পুরোনো স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনা পাস্তুর ইনস্টিটিউটেও হামলা হয়েছে।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির গত মঙ্গলবারের তথ্য অনুযায়ী, ইরানে এক মাসের বেশি সময় ধরে চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ১ লাখ ১৫ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এ সময় দেশটিতে দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তেহরান সরকার। আহত হয়েছেন ২৬ হাজারের বেশি। এ ছাড়া প্রাণ বাঁচাতে ঘরবাড়ি ছেড়েছেন বহু মানুষ।
মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত
ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইরানের প্রভাবশালী বাহিনীটির দাবি, যুদ্ধবিমানটি মার্কিন বাহিনীর অত্যাধুনিক এফ-৩৫ মডেলের। যদিও বিভিন্ন সূত্র বলছে, যুদ্ধবিমানটি এফ-১৫ই। যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা বিমানটির একজন পাইলটকে উদ্ধার করেছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে।
ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর দেশটির বাহিনী এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের কোনো যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করল। এমন সময় এ ঘটনা ঘটল, যখন এক দিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি দিয়েছেন। এর আগেই ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের আকাশে যুক্তরাষ্ট্র আধিপত্য নিশ্চিত করেছে।
যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করার পর ইরানের সংবাদমাধ্যমে সেটির ধ্বংসাবশেষের ছবি প্রকাশ করা হয়। যদিও আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী সেটি এফ-৩৫ কি না, তা ছবিতে নিশ্চিত করা হয়নি। পরে ওই ছবি বিশ্লেষণ করে দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, বিধ্বস্ত হওয়া যুদ্ধবিমানটি এফ-১৫ই মডেলের। এই যুদ্ধবিমানে সাধারণত দুজন পাইলট থাকেন। বিমানটি স্থলে এবং আকাশে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে সক্ষম।
যুদ্ধবিমানটি ধ্বংসের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। তাই যুদ্ধবিমানটির মডেল ও তাতে কতজন ছিলেন—সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য জানা যায়নি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট। মার্কিন বাহিনী যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারের সময় ইরানের স্থলবাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের খবরও পাওয়া গেছে। উদ্ধারকাজে যুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের একটি হেলিকপ্টারে হামলা চালিয়ে ভূপাতিত করার দাবিও করেছে ইরান। শেষ পর্যন্ত একজন পাইলটকে মার্কিন সেনারা উদ্ধার করেছেন বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম সিবিএস।
যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত নিয়ে ইরানের উপহাস
সম্প্রতি করা নানা বক্তব্যে ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জয় দাবি করেছেন ট্রাম্প। শুক্রবার যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর তাঁর এমন বক্তব্য নিয়ে উপহাস করেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতা নিহত হওয়ার পর সরকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন গালিবাফ।
উপহাস করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে গালিবাফ লেখেন, ‘তাদের (যুক্তরাষ্ট্রের) শুরু করা “এই দুর্দান্ত কৌশলহীন যুদ্ধ” এখন (ইরানে) “শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন” থেকে “দয়া করে কেউ কি আমাদের পাইলটদের খুঁজে দেবেন?”—এই পর্যায়ে নেমে এসেছে।’ তিনি আরও লেখেন, ‘অবিশ্বাস্য উন্নতি। আসলেই তারা “অসাধারণ বিচক্ষণ”।’
যদিও চলতি মাসের শুরুতেই ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ র্যাপটর ড্রোন ধ্বংসের খবর সামনে এসেছিল। আর ইরানের হামলা ছাড়াও চলমান যুদ্ধে যুদ্ধবিমান হারিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এর মধ্যে যুদ্ধের শুরুর দিকে কাতারে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থেকে ভুল করে চালানো হামলায় তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়। এ ছাড়া দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান জরুরি অবতরণ করে। ওই বিমানে হামলা চালানোর একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিল ইরান।
‘ইরানের সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হবে’
যুদ্ধবিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে বুধবার ইরানকে নতুন করে হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ইরানে এখনো যা টিকে আছে, সেখানে হামলা শুরুই করেনি যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ইরানের সেতুগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাবেন তাঁরা; তারপর লক্ষ্যবস্তু হবে বিদ্যুৎকেন্দ্র অর্থাৎ বেসামরিক অবকাঠামোগুলো।
ট্রাম্প তাঁর হুমকি শেষ করেন এভাবে, ইরানের নতুন সরকারের নেতৃত্ব জানে কী করতে হবে এবং দ্রুত কী করতে হবে। এ কথা বলে সম্ভবত একটি চুক্তির দিকে ইঙ্গিত করেছেন ট্রাম্প। যুদ্ধ বন্ধে তাঁর ওপর চাপ দিন দিন বাড়ছে। যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে সৃষ্টি হওয়া অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার আঁচ যুক্তরাষ্ট্রেও পড়েছে। ট্রাম্প যে যুদ্ধ থেকে বেরোতে চান, তা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে এসেছে।
তবে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালানো নিয়ে ট্রাম্পের হুমকিও ফেলনা নয়। এই হুমকির আগেই তিনি একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে ইরানের নবনির্মিত একটি সেতুতে হামলা হতে দেখা যায়। গতকাল তেহরানের শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়েও হামলা হয়েছে। হামলায় আইআরজিসির নৌ গোয়েন্দার প্রধান বেহনাম রেজায়ি নিহত হওয়ার খবরও এদিন নিশ্চিত করেছে ইরান।
ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোয় যুক্তরাষ্ট্রের এমন হামলার সমালোচনা করে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ সারা সেগনেরি আল-জাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ‘প্রস্তরযুগে’ ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলছে। আসলে আন্তর্জাতিকভাবেই বেসামরিক স্থাপনায় হামলার মতো কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তির সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রকে এমন পদক্ষেপ নিতে সাহসী করে তুলছে।
ট্রাম্পের নতুন হুমকির পর আইআরজিসির খতম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি বলেছেন, ‘আমাদের (বেসামরিক) অবকাঠামো স্পর্শ করে দেখুন, এ অঞ্চলে আপনাদের অবকাঠামো ও সম্পদ ধ্বংস করে ছাড়ব।’ মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, তাদের এসব ঘাঁটি বন্ধ করার আহ্বানও জানান তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে দেশে দেশে পাল্টা হামলা
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্যে শুক্রবার ও আগের রাতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বেসামরিক স্থাপনা হামলার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে কুয়েতের একটি জ্বালানি তেল পরিশোধনাগারে হামলায় ইরানের হামলায় আগুন ধরে যায়। দেশটিতে একটি পানি শোধনাগারেও হামলা হয়েছে। এদিন সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে হামলা ঠেকাতে গিয়ে এক গ্যাসকেন্দ্রে আগুন ধরে যায়।
শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও বাহরাইনে হামলার খবর পাওয়া গেছে। হামলায় আক্রান্ত হয়েছে হাইফা শহরসহ ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা। হাইফায় ইসরায়েলের ৭০ শতাংশ তেল পরিশোধন করা হয়। ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গতকাল জানিয়েছে, আগের ২৪ ঘণ্টায় হামলায় দেশটিতে ১৪৮ জন আহত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশটিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আহত হলেন ৬ হাজার ৫৯৪ জন।
লেবাননে হামলা চালিয়ে শুক্রবার সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ১৫ সদস্যকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে ১১ লাখের বেশি মানুষ। এই বাস্তুচ্যুত মানুষদের নিয়ে কাজ করা রাবাব খাদ্দাজ বিবিসিকে বলেন, সবাই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। এমনকি যুদ্ধের কারণে যাঁদের ঘরবাড়ি ছাড়তে হয়নি, তাঁরাও।