ইরানে বিক্ষোভ গড়িয়েছে দ্বিতীয় সপ্তাহে, প্রাণহানি বেড়ে ১২

ইরানের অন্তত ৪০টি শহরে বিভিন্ন মাত্রায় চলমান বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছেছবি: এএফপি

ইরানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ঘিরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। গত রোববারও বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মানবাধিকার সংগঠন ও স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ১২ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছেন। হতাহত ব্যক্তিদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন। একই সময়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন অন্তত ৫৮২ জন।

গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানের রাজধানী তেহরানে দোকানদারদের ধর্মঘটের মধ্য দিয়ে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, গত রোববার তেহরান, দক্ষিণের শহর শিরাজ এবং পশ্চিম ইরানের কয়েকটি এলাকায় রাতভর বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভে বর্তমান শাসনব্যবস্থা (রেজিম) ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে স্লোগান শোনা গেছে।

চলমান বিক্ষোভকে ইরানের বর্তমান শাসকদের জন্য ২০২২-২৩ সালের আন্দোলনের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ‘নীতি পুলিশ’-এর হেফাজতে মাসা আমিনি নামের এক তরুণীর মৃত্যুকে ঘিরে ওই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। পরে তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে বর্তমান বিক্ষোভ এখনো সেই আন্দোলন বা ২০০৯ সালের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন-পরবর্তী গণবিক্ষোভের মতো বড় আকার নেয়নি।

সাম্প্রতিক বিক্ষোভ মূলত পশ্চিম ইরানের কুর্দি ও লোর জনগোষ্ঠী-অধ্যুষিত এলাকায় কেন্দ্রীভূত। তবু এটি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে। কারণ, গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং নিরাপত্তা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা নিহত হন। ৮৬ বছর বয়সী খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে ক্ষমতায় আছেন।

অর্থনৈতিক সংকট সুরাহা করতে সরকার এখনো বিশ্বাসযোগ্য কোনো পরিকল্পনা জনগণের সামনে হাজির করতে পারেনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, আগামী চার মাস নাগরিকদের প্রতি মাসে প্রায় ৭ ডলার (প্রায় ৮৫৪ টাকা) সমপরিমাণ ভাতা দেওয়া হবে।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের প্রাণহানি অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ‘কঠোর প্রতিক্রিয়া’ দেখাবে। রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বহনকারী উড়োজাহাজ এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। তারা যদি অতীতের মতো মানুষ হত্যা শুরু করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাবে।’

এএফপির হিসাব অনুযায়ী, চলমান বিক্ষোভ ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে অন্তত ২৩টিতে ছড়িয়ে পড়েছে। অন্তত ৪০টি শহরে বিভিন্ন মাত্রায় বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে। এর বেশির ভাগই ছোট ও মাঝারি আকারের শহর। সরকারি ঘোষণা ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এএফপি এ হিসাব করেছে।