দোহার আলোচনায় হরমুজ নিয়ে মূল দর-কষাকষি

ইরানের রাজধানী তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী একটি ম্যুরালের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন দুই তরুণী। ৩০ জুন, তেহরানছবি: রয়টার্স

যুদ্ধবিরতি টেকসই করা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির পথ তৈরি করতে কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কারিগরি আলোচনা শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে শুরু হওয়া এ পরোক্ষ আলোচনা আজ বুধবারও চলেছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র ও ইরানের এক কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন। হরমুজ নিয়ে মূল দর-কষাকষি হলেও গত মাসে দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) সার্বিক বাস্তবায়নই এ আলোচনার মূল লক্ষ্য।

আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে কাতার। পাকিস্তানও এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছে। আলোচনা শুরুর পর বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তিনজন ‘আলোচনার অগ্রগতি’ নিয়ে আলোচনা করেন। তবে উইটকফ বা কুশনার—কেউ-ই মূল কারিগরি আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন না।

দোহায় আলোচনা চলার মধ্যে বুধবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘খুব ভালোভাবে’ এগোচ্ছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে ‘চমৎকার বৈঠক’ হয়েছে। তবে তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, ইরানের হাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে দেওয়া হবে না।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, সাম্প্রতিক সমঝোতার ফলে দেশটির ওপর আরোপিত কিছু আর্থিক ও বৈদেশিক মুদ্রা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল হয়েছে। তেল রপ্তানি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগও তৈরি হয়েছে বলে তাঁর দাবি।

ইরানের বন্দর আব্বাস সৈকতের কাছে হরমুজ প্রণালিতে কয়েকটি নৌযান। ১৭ জুন ২০২৬
ছবি: রয়টার্স

হরমুজ ও জব্দ অর্থে জোর

বর্তমান আলোচনায় ইরানের প্রধান অগ্রাধিকার দুটি—হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা এবং কাতারে আটকে থাকা ৬০০ কোটি ডলারের ইরানি সম্পদ ছাড়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা।

দুটি জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, যুদ্ধের সময় ব্যাহত হওয়া এই নৌপথে জাহাজ চলাচল আংশিকভাবে শুরু হলেও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আবারও বড় ধরনের সামরিক অভিযানের বিকল্প বিবেচনা করলেও আপাতত কূটনীতিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তিনি গত কয়েক দিনে সহযোগীদের জানিয়েছেন, পারমাণবিক চুক্তির জন্য নির্ধারিত ১৮ আগস্টের সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও আলোচনা চালিয়ে যেতে তাঁর আপত্তি নেই।

সরাসরি আলোচনা হচ্ছে বলে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করলেও ইরান তা অস্বীকার করেছে। তেহরানের ভাষ্য, কাতারের মধ্যস্থতায় কেবল পরোক্ষ আলোচনা চলছে। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদির নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্য ইনস্টিটিউটের গবেষক অ্যালেক্স ভাতাঙ্কা আল-জাজিরাকে বলেন, দোহার আলোচনা সফল হলে এ অঞ্চলে উত্তেজনা কমানোর নতুন কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি হতে পারে।