জেনেভায় আলোচনা
মূল বিষয়ে একমত ইরান–যুক্তরাষ্ট্র
আলোচনায় দুই দেশের পরমাণুবিজ্ঞানী, আইনবিশেষজ্ঞ এবং অর্থনীতিবিদেরা উপস্থিত ছিলেন।
ওমানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পারমাণবিক ইস্যুতে প্রস্তাব বিনিময় করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার পরোক্ষ পরমাণু আলোচনা শেষ হয়েছে। আলোচনা শেষে এক ইতিবাচক বার্তা দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, জেনেভা বৈঠকে তেহরান ও ওয়াশিংটন চুক্তির ‘মূল নীতিগুলোর’ বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।
আরাগচি সাংবাদিকদের বলেন, যদিও অনেক কারিগরি দিক এখনো বাকি, তবে আলোচনার মূল ভিত্তি বা প্রধান নীতিগুলোর বিষয়ে দুই দেশই একমত হতে পেরেছে। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার পর একে বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরাগচি বলেন, ‘তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জনের কোনো চেষ্টা করছে না। এ কথা আমরা বারবার বলে আসছি।’
জেনেভায় আলোচনা
প্রায় চার ঘণ্টা ধরে জেনেভায় ওমানের দূতাবাসে এই বৈঠক হয়। ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। বৈঠকে দুই পক্ষই ওমানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পারমাণবিক ইস্যুতে নিজেদের ‘নোট’ বা প্রস্তাব বিনিময় করেছে। আলোচনায় দুই দেশের পরমাণুবিজ্ঞানী, আইনবিশেষজ্ঞ এবং অর্থনীতিবিদেরা উপস্থিত ছিলেন। দ্বিতীয় দফার এই আলোচনায় মূলত পারমাণবিক চুক্তির কারিগরি বা টেকনিক্যাল দিকগুলোর ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ নিয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
চুক্তির খসড়া তৈরি করবে দুই পক্ষ
তৃতীয় দফার বৈঠকের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। আরাগচি বলেন, একটি সম্ভাব্য চুক্তির প্রাথমিক খসড়া তৈরির পর উভয় পক্ষ পরবর্তী বৈঠকের সময় নির্ধারণ করবে। উভয় পক্ষ এই বিষয়ে একমত হয়েছে যে একটি সম্ভাব্য চুক্তির জন্য এখন খসড়া তৈরির কাজ চলবে। এরপর সেই খসড়াগুলো একে অপরের সঙ্গে বিনিময় করা হবে এবং তার ভিত্তিতেই পরবর্তী আলোচনার দিনক্ষণ চূড়ান্ত হবে।
ইরানের মহড়া
যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গতকাল মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে সামরিক মহড়া শুরু করেছে ইরান। এতে গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ করার পথটির কিছু অংশ বন্ধ হয়ে গেছে। পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে গতকাল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার মধ্যেই এ মহড়া শুরু করে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও খামেনির জবাব
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সোমবার এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ‘পরোক্ষভাবে’ যুক্ত থাকবেন। তবে গতকালের বৈঠকে তিনি যুক্ত ছিলেন কি না, তা জানা যায়নি। ট্রাম্পের মতে, তেহরান এখন চুক্তিতে পৌঁছাতে মরিয়া। তিনি বলেন, চুক্তি না করার ভয়াবহ পরিণতি তারা ভোগ করতে চাইবে না। চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইরান হয়তো কঠোর দর-কষাকষির চেষ্টা করবে। তবে গত গ্রীষ্মে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে মার্কিন বোমাবর্ষণের পর এ ধরনের অনমনীয় অবস্থানের পরিণতি সম্পর্কে তাঁরা এখন অবগত।
আলোচনা শুরুর পরপরই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এক ভাষণে বলেন, ওয়াশিংটন জোর করে তাঁর সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে না। ট্রাম্পের সরকার পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলছেন, তাঁদের সেনাবাহিনী বিশ্বের শক্তিশালী। কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনীকেও মাঝেমধ্যে এমন জোরে চড় মারা যায় যে তারা আর উঠে দাঁড়াতে পারে না।