গাজাকে দুই ভাগ করার চেষ্টায় ইসরায়েল
ফিলিস্তিনের গাজার আরও ভেতরে প্রবেশ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। একাধিক দিক থেকে তারা অগ্রসর হচ্ছে। ইসরায়েলি সেনারা গাজাকে উত্তর ও দক্ষিণ দুই ভাগে ভাগ করার চেষ্টা করছেন। হামাস সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ মঙ্গলবার এ কথা বলেছে। এদিকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ২৫ দিনে নিহতের সংখ্যা সাড়ে আট হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
গাজায় হামাস সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইয়াদ আল-বাজুম আল-জাজিরাকে বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী বর্তমানে সালাহউদ্দিন সড়কে অবস্থান নিয়েছে। তারা উপকূলীয় সড়ক আল-রাশিদে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।
ইয়াদ আল-বাজুম বলেন, দখলদার বাহিনী গাজার উত্তরাঞ্চলকে দক্ষিণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার চেষ্টা করছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, গাজার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল দিয়েও ইসরায়েলি বাহিনী ট্যাংক নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। আল-কারামা এলাকায় তাদের সাঁজোয়া যান দেখা গেছে।
জাতিসংঘের ৬৪ কর্মী নিহত
গত ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা শুরুর পর এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৫২৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ৩ হাজার ৫৪২ শিশু রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গতকাল এ কথা জানিয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় এখন পর্যন্ত ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য পরিচালিত জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর ৬৪ কর্মী নিহত হয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে সংস্থাটির যোগাযোগ পরিচালক জুলিয়েট টোমা এ কথা জানিয়েছেন। তিনি আরও লিখেছেন, ‘তাদের হারানোয় ইউএনআরডব্লিউএ আর কখনো আগের মতো থাকবে না।’
ইসরায়েলি বাহিনী একটি খাবারের গুদামেও হামলা করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ওই গুদাম থেকে খাবার ও রান্না করার উপকরণ পাচ্ছিলেন তাল আল-হাওয়া এলাকার বেসামরিক নাগরিকেরা।
এ ছাড়া ইসরায়েলি হামলায় গাজার একমাত্র ক্যানসার হাসপাতাল ‘টার্কিশ-প্যালেস্টিনিয়ান ফ্রেন্ডশিপ হসপিটাল’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অনেক ক্যানসার রোগী ‘প্যানিক অ্যাটাকে’ আক্রান্ত হন বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়। এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল-কুদরা বলেন, চিকিৎসাকর্মীদের ওপর হামলা অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৩০ জন হাসপাতাল কর্মী নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে হাসপাতালে হামলা করছে। ৫৭টি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, উপচে পড়া ভিড়, ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি এবং পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গাজা ‘জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ের’ দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।