‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’র মাধ্যমে এ অঞ্চলে নতুন একটি নিরাপত্তা ও সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় ওই চুক্তির আওতায় সোমবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে প্রথম বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই গঠিত হয়েছে বলে উল্লেখ করে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই জোট এ অঞ্চলে আরও বেশি স্থিতিশীলতা আনবে এবং অনিশ্চয়তা কমাতে ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, ‘এই চুক্তির মাধ্যমে আমাদের অঞ্চলে নতুন একটি নিরাপত্তা ও সহযোগিতা কাঠামো পরীক্ষার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’ নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক দেশগুলোর এখন জরুরি ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রসঙ্গে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আজ থেকে আমরা জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। রিয়াদে একটি সচিবালয় স্থাপন করা হয়েছে এবং আমাদের পাকিস্তানি ভাইদের মধ্য থেকে প্রথম মহাসচিব নিযুক্ত করা হবে।’
বৈঠকে পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ও সেনাপ্রধান অসীম মুনির। সৌদি আরবের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং তুরস্কের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলারসহ শীর্ষ সামরিক ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নেন। মূল বৈঠকের পাশাপাশি অংশীদার দেশগুলোর মধ্যে কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে যৌথ প্রতিরক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়।
৬–৭টি দেশ যোগ দিতে আগ্রহী
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে আরও ছয়–সাতটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ যোগ দিতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন দেশগুলোর অন্তর্ভুক্তি সহজ করতে জোটের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এই জোটে যুক্ত হতে আগ্রহ দেখিয়েছে বাংলাদেশও। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মক্কা চুক্তির বিষয়ে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগিয়ে চলছে এবং এতে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ঝুঁকি দেখছে না সরকার।
গত ৭ আগস্ট মক্কায় জোটের মূল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির একটি অন্যতম প্রধান শর্ত হলো সদস্যদেশগুলোর যেকোনো একটির ওপর আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, এই জোট কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয় এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় এটি কাজ করবে। জোটটি নতুন সদস্য গ্রহণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, তবে সে ক্ষেত্রে নির্ধারিত কিছু শর্ত ও মানদণ্ড বজায় রাখতে হবে।