গত ২২ সেপ্টেম্বর নীলুফার হামেদি নামে ইরানের একজন সাংবাদিক অনলাইনে একটি ছবি পোস্ট করেন। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, যেদিন নীতি পুলিশের হেফাজতে মাসার মৃত্যু হয়, সেদিন তেহরানে এক হাসপাতালে মাসা আমিনির মা–বাবা একে অপরকে জড়িয়ে কাঁদছেন। ওই ছবি পোস্ট করায় নীলুফারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নীলুফারের আইনজীবী মোহাম্মদ আলী কামফিরৌজি টুইট করে তাঁর মক্কেলের গ্রেপ্তার হওয়ার কথা নিশ্চিত করে বলেন, নীলুফারকে এভিন কারাগারে এক নির্জন প্রকোষ্ঠে রাখা হয়েছে। ইরানে রাজনৈতিক বন্দী, সাংবাদিক ও বিদেশি নাগরিকদের সেখানে রাখা হয় বলে এভিন কারাগারকে অনেকে কুখ্যাত বলে বর্ণনা করেন।

ইরানের কঠোর পোশাকবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর মাসা আমিনিকে গ্রেপ্তার করে নীতি পুলিশ। পুলিশের হেফাজতে ১৬ সেপ্টেম্বর মাসার মৃত্যু হয়। মাসার মৃত্যুর প্রতিবাদে তেহরানে এক বিক্ষোভের ছবি তোলায় ১৯ সেপ্টেম্বর মারধরের পরে ইয়ালদা মোয়াইএরি নামে এক সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়।

দুই সপ্তাহ আগে আফরিন নামের এক সাংবাদিকের বাড়িতে অভিযান চালায় কর্তৃপক্ষ। আফরিন বলেন, ‘মাসা আমিনির মৃত্যুর খবর জানার পরে আমি বিক্ষোভে অংশ নিইনি এমনকি আমার সামাজিক মাধ্যম হ্যান্ডলেও কোনো পোস্ট শেয়ার করিনি। আমাকে বরখাস্তের একমাত্র কারণ টুইটারে কিছু পোস্টে লাইক দিয়েছিলাম।’

এভিন কারাগারে আগুন–গুলি

এদিকে শনিবার তেহরানের এভিন কারাগারে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় সেখানে গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দও শোনা গেছে। শনিবার অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরানের ওই কারাগারে আগুন জ্বলছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চারজন নিহত ও ৬১ জন আহত হয়েছেন।