ইয়েমেনের সব পক্ষকে সংলাপে বসার আহ্বান সৌদি আরবের

সংযুক্ত আরব আমিরাত-সমর্থিত বিদ্রোহী এসটিসি বাহিনীর ওপর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলা। গত শুক্রবার ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলেছবি: এএফপি

দক্ষিণ ইয়েমেনের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব। সম্পদসমৃদ্ধ হাদরামাউত প্রদেশে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) ব্যাপক এলাকা দখলে নিয়েছে। এরপর সেখানে সংঘর্ষ শুরু এবং সৌদি আরবে হামলা হওয়ায় গতকাল শনিবার এই আহ্বান জানায় রিয়াদ।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়েছে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে দক্ষিণাঞ্চলের সব পক্ষকে একত্র করে বিরোধের ন্যায্য সমাধান নিয়ে আলোচনা করতে বলা হয়েছে। এ জন্য নিজেদের রাজধানী রিয়াদে একটি সম্মেলনও আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আলোচনার জন্য এই আমন্ত্রণ ইয়েমেন সরকারই দিয়েছে।

সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বছরের পর বছর ধরে ইয়েমেনের বিভক্ত সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলে পরস্পরবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠীকে সমর্থন দিয়ে আসছে। তবে এসটিসির সাম্প্রতিক আক্রমণ রিয়াদকে ক্ষুব্ধ করেছে এবং তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় এই দুই শক্তিকে মুখোমুখি অবস্থানে এনে দিয়েছে।

এই সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি কথিত অস্ত্র চালানের বিষয়ে একাধিকবার সতর্কবার্তা ও বিমান হামলার পর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট গত শুক্রবার নতুন করে ব্যাপক হামলা শুরু করে। বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর দাবি অনুযায়ী, এসব হামলার মধ্যে হাদরামাউতের আল-খাশা সামরিক ঘাঁটিতে বিমান হামলাও ছিল, যাতে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন।

এএফপির এক সাংবাদিকের বরাতে বলা হয়, গতকাল সকালে ইয়েমেনের হাদরামাউত প্রদেশের রাজধানী মুকাল্লা শহরে গোলাগুলির আওয়াজ শোনা গেছে। প্রদেশের সেইয়ুন শহরে শুক্রবার জোটের হামলায় বিমানবন্দর ও একটি সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত করা হয়েছিল। শহরটির বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গতকাল সকালে তাঁরা গোলাগুলির আওয়াজ এবং সংঘর্ষের শব্দও শুনেছেন।

এসটিসি এখন স্বাধীনতা ঘোষণা করে একটি পৃথক রাষ্ট্র গঠনের চেষ্টা করছে, যা আরব উপদ্বীপের সবচেয়ে দরিদ্র রাষ্ট্রকে দুই ভাগে বিভক্ত করবে। শুক্রবার বিচ্ছিন্নতাবাদীরা স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করার উদ্দেশ্যে দুই বছরের একটি অন্তর্বর্তীকালীন সময়সূচি শুরুর ঘোষণা করেছে। তারা জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় সংলাপ ও স্বাধীনতার ওপর গণভোট অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ইয়েমেনের উত্তরে হুতি বিদ্রোহীদের উৎখাতের চেষ্টায় ২০১৫ সালে সৌদি-সমর্থিত জোটটি গঠন করা হয়েছিল।