রিয়াদ বিমানবন্দরে বিস্ফোরণে অনেকে আহত, ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত

সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলীফাইল ছবি: রয়টার্স

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আজ শনিবার বিস্ফোরণে অনেক মানুষ আহত হয়েছেন। বিমানবন্দরের কিছু অংশ থেকে যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, তিনি বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখেছেন। এরপর বিমানবন্দরের ভেতরে মাটিতে বেশ কয়েকজন মানুষকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতেও দেখেছেন।

এ ছাড়া ১২টির বেশি অ্যাম্বুলেন্স বিমানবন্দরের দিকে ছুটে যেতে দেখা গেছে।

সৌদি সরকারের সংবাদমাধ্যম দপ্তর এবং দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছে আজকের বিস্ফোরণ সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল রয়টার্স। তবে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি।

বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, রিয়াদের এক বাসিন্দা অন্তত দুটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। তাঁর ভাষ্য, বিস্ফোরণের শব্দে রাজধানী কেঁপে ওঠে।

সব ফ্লাইট বাতিল বা ঘুরিয়ে দেওয়া

ফ্লাইট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদগামী সব ফ্লাইট হয় অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে, নয়তো বাতিল করা হয়েছে।

একপর্যায়ে বিমানবন্দরের ওপর শুধু একটি হেলিকপ্টারকে চক্কর দিতে দেখা যায়।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সেখানে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে। ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থাও যাচাই করতে বলা হয়েছে।

কুয়েত এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতির’ কারণে রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় তারা সৌদির রাজধানীগামী ও সেখান থেকে ছেড়ে আসা ফ্লাইট বাতিল করেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইতিহাদ এয়ারওয়েজ ও কাতার এয়ারওয়েজও রিয়াদগামী একাধিক ফ্লাইট বাতিল করেছে। কিছু ফ্লাইটের বাতিলের সময়সীমা সোমবার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

এক সপ্তাহে একাধিক হামলা

আজ রিয়াদ বিমানবন্দরের ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সৌদি আরবে বেড়েছে।

চলতি সপ্তাহে রিয়াদ বিমানবন্দরে এর আগেও হামলা হয়েছে। আগের হামলাগুলোতে চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। একটি উড়োজাহাজও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এপি জানিয়েছে, দুই দিন আগে একই বিমানবন্দরে হামলায় এক পাইলটসহ তিন সৌদি নাগরিক নিহত হন।

এখন পর্যন্ত হুতিরা আগের হামলাগুলোর দায় স্বীকার করলেও আজকের বিস্ফোরণ নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বিবৃতি দেয়নি।

ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশের জুবাবের কাছে গাড়িতে বসানো একটি অস্ত্র থেকে গুলি ছুড়ছেন সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর এক যোদ্ধা। সরকারি বাহিনীর দাবি, ইরান-সমর্থিত হুতিদের বিরুদ্ধে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময়কার দৃশ্য এটি। ২০২৬ সালের ৫ অক্টোবর প্রকাশিত একটি ভিডিও থেকে এই স্থিরচিত্র নেওয়া হয়েছে
ছবি: রয়টার্স

সৌদির আকাশসীমা নিয়ে হুতির হুমকি

ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী চলতি মাসের শুরুতে হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। এরপর হুতিরা সৌদি আকাশসীমাকে সামরিক অভিযানের এলাকা ঘোষণা করে এবং উড়োজাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোকে সৌদি আকাশসীমা এড়িয়ে চলতে সতর্ক করে।

চলতি সপ্তাহের আগের হামলাগুলোর পরই কয়েকটি উড়োজাহাজ সংস্থা রিয়াদে ফ্লাইট স্থগিত বা বাতিল করেছিল।

রিয়াদে ১১ থেকে ১৫ অক্টোবর পাঁচ দিনব্যাপী বিশ্ব পেট্রোলিয়াম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর বসবে ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এফআইআই) সম্মেলন। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেও সম্মেলনগুলো নির্ধারিত সময়ে আয়োজনের কথা জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

মিত্রদের সহায়তা চাইছে সৌদি আরব

নিজেদের বিমানবন্দর, সামরিক স্থাপনা ও তেল অবকাঠামোয় হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মিত্রের কাছে সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব।

এপি জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার হোয়াইট হাউসে রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘এটি ভালো কিছু নয়।...আমি এতে খুশি নই।’

তবে এসব হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিক সামরিক সহায়তা দেবে, এমন কোনো ইঙ্গিত দেননি ট্রাম্প।

সৌদি কর্তৃপক্ষ চলতি সপ্তাহে জনসাধারণকে সতর্ক করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার দৃশ্য কিংবা সেগুলো কোথায় আঘাত হানছে—এ ধরনের ভিডিও ধারণ, প্রকাশ বা তথ্য আদান-প্রদান করলে আইনি পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।