যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনায় ‘মধ্যস্থতা’ করতে তেহরানে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস্কান্দার মোমেনির সঙ্গে বৈঠক করছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভি (বাঁয়ে)। তেহরান, ইরান। ১৬ মে ২০২৬ছবি: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিওর স্ক্রিনশট।

একটি নাজুক যুদ্ধবিরতির পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনা থমকে আছে। এই আলোচনা এগিয়ে নিতে গতকাল শনিবার তেহরানে গেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। ইরানের সংবাদমাধ্যম এই তথ্য জানিয়েছে।

দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ‘আলোচনা এগিয়ে নেওয়া এবং এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য পাকিস্তান টানা চেষ্টা করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে মহসিন নাকভি আজ (শনিবার) দুই দিনের সরকারি সফরে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে পৌঁছেছেন।’

ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস্কান্দার মোমেনি তাঁকে স্বাগত জানান। কয়েক দিন আগেই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির তেহরান সফর করেছিলেন। এরপরই নাকভি এই সফরে গেলেন।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনায় পাকিস্তান সক্রিয়ভাবে মধ্যস্থতা করছে। গত মাসেই তারা দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করেছিল।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানে হামলা চালালে যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর ৯ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হলে এই লড়াই অনেকটাই থেমে যায়।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গত শুক্রবার বলেন, তাঁরা ওয়াশিংটনের কাছ থেকে কিছু বার্তা পেয়েছেন। এসব বার্তায় বোঝা যাচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী।

এর আগে ইরানের দেওয়া একটি পাল্টা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন যে, যুদ্ধবিরতি এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’ আছে। এরপর গত মঙ্গলবার ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ওয়াশিংটনের উচিত শান্তির জন্য তেহরানের দেওয়া প্রস্তাব মেনে নেওয়া। তা না হলে তাদের ‘ব্যর্থতার’ মুখে পড়তে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, ‘১৪ দফার প্রস্তাবে ইরানের জনগণের যে অধিকারের কথা বলা হয়েছে, তা মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। অন্য কোনো পথে গেলে কোনো ফল আসবে না; বরং একের পর এক ব্যর্থতা জুটবে।’