হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া নিয়ে ওমান ও ইরানের বৈঠক

ওমান উপসাগর উপকূলে আমিরাতের শারজাহর খোর ফাক্কান ডকইয়ার্ডের পটভূমিতে বসে আছে একটি পরিবার। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ছবি: এএফপি

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করেছে ওমান। ওমানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সংবাদ সংস্থাটি জানায়, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী পর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা আবার হরমুজ প্রণালি চালুর বিষয়ে সম্ভাব্য বিভিন্ন ‘বিকল্প’ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

হরমুজ প্রণালি ওমানের সীমান্তবর্তী। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে তেহরান এই জলপথ বন্ধ করে রেখেছে।

এদিকে ইরানজুড়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইরানের কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমদ প্রদেশে মার্কিন হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা ইরানের ১২০টির বেশি বিমান প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থায় আঘাত হেনেছে।

ইরানের সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় হামলায় ৫ জন নিহত ও প্রায় ১৭০ জন আহত হয়েছেন। ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) পাঁচ সদস্যও পৃথক হামলায় নিহত হয়েছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানায়, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আরদাবিল প্রদেশে আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘মোগান সমভূমিতে মার্কিন-ইসরায়েলি শত্রুদের বর্বরোচিত হামলায় আইআরজিসির পাঁচ যোদ্ধা শাহাদাত বরণ করেছেন।’

এদিকে ড্রোন হামলায় কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাহরাইন জানিয়েছে, ইরানের হামলার পর তাদের ‘বাপকো’ স্থাপনায় লাগা আগুন তারা নিভিয়ে ফেলেছে। আবুধাবির ‘বোরুজ’ পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় আকাশপথে প্রতিহত করা ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুন ধরে যায়। এর ফলে সেখানে কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

এদিকে দক্ষিণ ইসরায়েলের একটি কারখানায় একটি ইরানি রকেট আঘাত হেনেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এতে ওই এলাকায় রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রকেটটি বীরশেবার ‘নেওত হোভাভ’ শিল্প এলাকায় আঘাত হানে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই নিয়ে ওই এলাকায় তৃতীয়বার হামলা হলো।

এর আগে ইরান থেকে বীরশেবা ও দিমোনা শহর অভিমুখে ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার বিষয়টি শনাক্ত করার পর সতর্কতা জারি করে ইসরায়েলের হোম ফ্রন্ট কমান্ড। অন্যদিকে লেবানন থেকে রকেট হামলার পর আপার গ্যালিলিতেও সাইরেন বেজে ওঠে।