নেতানিয়াহু না জিতলে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে লিকুদ পার্টি

ব্যালট হাতে ভোট কেন্দ্রে যুদ্ধবাজ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ২৭ অক্টোবর ২০২৬, জেরুজালেমছবি: এএফপি

ইসরায়েলের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু না জিতলে ফল চ্যালেঞ্জ করে ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে তাঁর দল লিকুদ পার্টি। হিব্রু সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে অভিযোগ তুলেছিলেন, লিকুদ পার্টিও একই কায়দায় প্রচার চালানোর কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছে।

ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল টুয়েলভ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আরব জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত ভোটকেন্দ্রগুলোর জন্য জালিয়াতির একাধিক অভিযোগের খসড়া ইতিমধ্যে তৈরি করে রেখেছে লিকুদ পার্টি। দলটির নেতা–কর্মীরা পুরো মুখ ঢাকা বোরকা পরা নারী ভোটার এবং পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা সময়ে ভোট নেওয়ার মতো বিষয়গুলো ধরে অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এসব কেন্দ্রে ‘নজরদারি’ করতে লিকুদ পার্টি আরব অধ্যুষিত এলাকায় ইতিমধ্যে কয়েক হাজার দলীয় কর্মী পাঠিয়েছে। টেলিভিশন চ্যানেলটি জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের বিদ্যমান বিধিমালায় এসব বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তা সত্ত্বেও জালিয়াতির অভিযোগ তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে লিকুদ পার্টি।

ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম হারেৎজ জানিয়েছে, নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পরিস্থিতি মাথায় রেখে দলটির শীর্ষ নেতারা আগে থেকেই পরিকল্পনা করছেন। সেখানে ব্যাপকভাবে কারচুপির অভিযোগ তোলার বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

নেতানিয়াহুর এক ঘনিষ্ঠ সূত্র হারেৎজকে বলে, পরাজয়ের ক্ষেত্রে কী করণীয়, তা নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। সেখানে ২০২০ সালে জো বাইডেনের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো ‘নির্বাচনে ভোট চুরি ও কারচুপি হয়েছে’ বলে প্রচার চালানোর পক্ষে স্পষ্ট মতামত এসেছে। এসব আলোচনায় নেতানিয়াহু নিজে যুক্ত ছিলেন না। তবে নির্বাচনে হারলে ফল চ্যালেঞ্জ করার বিকল্পটি তিনি বিবেচনা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরব এলাকায় সম্ভাব্য ভোট জালিয়াতি নিয়ে লিকুদ পার্টির একটি সূত্র হারেৎজকে বলেন, ‘ধরা যাক, একজন নারী বোরকা পরে ভোট দিতে এলেন। এর কয়েক মিনিট পর আরেকজন নারী বোরকা পরে এলেন। তিনি আগের নারীই কি না, তা আমাদের যাচাই করে দেখতে হবে।’

হারেৎজ জানিয়েছে, ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের পরিচয় জানতে চাওয়ার কোনো এখতিয়ার দলীয় কর্মীদের নেই। কোনো নারী তাঁদের কাছে নিজের পরিচয় জানাতে অস্বীকৃতি জানালে কর্মীরা কী করবেন, সে বিষয়েও লিকুদ সূত্রটি স্পষ্ট করে কিছু বলেনি। তবে ওই সূত্র দাবি করে, ‘আরব এলাকায় জালিয়াতি ঠেকাতে আমরা সবচেয়ে বড় ও ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছি।’

লিকুদ পার্টি ও তাদের কট্টর ডানপন্থী মিত্র রিলিজিয়াস জায়োনিজম পার্টি আরব ভোটকেন্দ্রগুলোতে দুই হাজার কর্মী পাঠানোর ঘোষণা দেওয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছে নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো। তারা বলছে, এসব কর্মীর কোনো আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব বা নজরদারির আইনি এখতিয়ার নেই।

আরব অধ্যুষিত এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোতে জালিয়াতির আশঙ্কা কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, তা লিকুদ ও রিলিজিয়াস জায়োনিজম পার্টি ব্যাখ্যা করেনি। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের মহাপরিচালক দিন লিবনে সাফ জানিয়েছেন, ইসরায়েলের নির্বাচনে বড় ধরনের কোনো জালিয়াতির প্রমাণ নেই এবং বিদ্যমান সুরক্ষাব্যবস্থাই যথেষ্ট। অন্যদিকে ‘মুভমেন্ট ফর কোয়ালিটি গভর্নমেন্ট ইন ইসরায়েল’ জানিয়েছে, নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটামাত্র কর্তৃপক্ষকে জানাতে তারা একটি হটলাইন চালুর ঘোষণা দিয়েছে।