বিক্ষোভে ‘হাজার হাজার মৃত্যুর’ পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল: খামেনির অভিযোগ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শিক্ষার্থীদের এক বৈঠকে বক্তৃতা করছিলেন। ৩ নভেম্বর ২০২৫, তেহরানছবি: এএফপি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ‘কয়েক হাজার’ মানুষের মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত অপশক্তি দায়ী।

আজ শনিবার খামেনি বলেন, ‘ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা এই বিক্ষোভের সময় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছেন এবং কয়েক হাজার মানুষকে হত্যা করেছেন।’

ব্যাপক বিক্ষোভে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইরান অশান্ত ছিল। তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন বলে বেসরকারি সূত্র দাবি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সরাসরি এই সহিংসতার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একজন ‘অপরাধী’ হিসেবে বর্ণনা করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তাঁর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, ‘এবারের ইরানবিরোধী ষড়যন্ত্র ছিল আলাদা। কারণ, এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজে ব্যক্তিগতভাবে যুক্ত ছিলেন।’

ইরানের কর্তৃপক্ষ ক্রমাগত এই অস্থিরতার জন্য তাদের চিরশত্রু মূলত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করছে। তাদের দাবি, বিদেশি শক্তিগুলো দেশটিতে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে এবং মাঠপর্যায়ে বিশৃঙ্খলায় ইন্ধন জুগিয়েছে।

খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরান দেশের বাইরে যুদ্ধ টেনে নেবে না। তবে এই মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা দেশকে যুদ্ধে জড়াব না, কিন্তু দেশি বা আন্তর্জাতিক অপরাধীদের শাস্তি না দিয়ে ছাড়ব না।’

নতুন যা জানা গেল

তেহরান থেকে আল–জাজিরার প্রতিনিধি রসুল সরদার আতাস জানিয়েছেন, খামেনির এই বক্তব্যে একটি বিষয় উল্লেখযোগ্যভাবে নতুন ছিল। তা হলো নিহতের সংখ্যা।

আগে সরকারি কর্মকর্তারা কয়েক শ মানুষের মৃত্যুর কথা বললেও এবারই প্রথম সর্বোচ্চ নেতা ‘হাজার হাজার’ মানুষ নিহতের কথা স্বীকার করলেন।

বিক্ষোভকারীদের সহিংসতায় এই বিপুল প্রাণহানি হয়েছে বলে খামেনি দাবি করেছেন।

তবে মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ বলছে, বিক্ষোভে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

ধ্বংসযজ্ঞ ও গ্রেপ্তার

খামেনির অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। এর মধ্যে ২৫০টির বেশি মসজিদ এবং চিকিৎসাকেন্দ্রে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া বিক্ষোভের ঘটনায় প্রায় তিন হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত ২৮ ডিসেম্বর দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কষ্টের কারণে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, যা শুরুতে শান্তিপূর্ণ ছিল। সরকার প্রথমে সাধারণ মানুষের দাবি ও কষ্টের কথা স্বীকার করে নিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এই আন্দোলনকে ‘হাইজ্যাক’ বা দখল করে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে ইরান সরকার। তাদের দাবি, বিক্ষোভকারীরা বিদেশি শক্তির নির্দেশে সহিংস হয়ে ওঠে। খামেনির মতে, ট্রাম্প ছিলেন এই পুরো ষড়যন্ত্রের মূল কেন্দ্রে।

আজ শনিবার আধা সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দেশজুড়ে আট দিন প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধ রাখার পর ধাপে ধাপে ইন্টারনেট–সেবা চালু করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে মোবাইল এসএমএস সেবা আবার চালু করা হয়েছে।