দুই বছর পর নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানই বাড়িটির আসল মালিক। বেশ কয়েকটি শেল কোম্পানিকে (নামমাত্র কোম্পানি) ব্যবহার করে এ বাড়ি কেনেন তিনি।

স্থানীয় সরকারের কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ফ্রান্সের সময় বৃহস্পতিবার রাতে মাখোঁর সঙ্গে ভোজের আগের সময়টুকুতে ওই বাড়িতে অবস্থান করছেন বিন সালমান।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, বাড়ির মূল ফটকে নিরাপত্তারক্ষীরা পাহারা দিচ্ছেন। সামনে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন আছে। ছয়টি গাড়িও দেখা গেছে সেখানে।
বৃহস্পতিবার রাতে মাখোঁ ও বিন সালমানের এলিসি প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এ বৈঠক নিয়ে ফ্রান্সে সমালোচনা চলছে। অনেকে একে অযথার্থ বলে উল্লেখ করেছেন।

মার্কিন গোয়েন্দারা ২০১৮ সালে তুরস্কের সৌদি দূতাবাসে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যার ঘটনায় সৌদি যুবরাজের ইন্ধনকে দায়ী করে থাকেন। তবে চার বছরের মাথায় রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ায় আবারও সৌদি যুবরাজের শরণাপন্ন হচ্ছেন পশ্চিমা নেতারা।

শাতোয়া লুইস চতুর্দশ নামের ভবনটি নির্মাণ করেছেন খাসোগির চাচাতো ভাই ইমাদ খাসোগি। ফ্রান্সে বিলাসবহুল আবাসন প্রকল্পের ব্যবসা করেন তিনি।

শাতোয়াতে আছে একটি নাইট ক্লাব, সোনায় তৈরি ঝরনা, একটি সিনেমা হল। আরও আছে পানির তলদেশে কাচের তৈরি ঘর, যা দেখতে বিশাল অ্যাকুয়ারিয়ামের মতো। এর ভেতরে সোফা রাখা আছে।

ইমাদ খাসোগির কোম্পানি কোজেমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ছবিতে একটি ওয়াইন বিক্রির জায়গাও দেখা গেছে, যদিও সৌদি আরবে অ্যালকোহল কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

২০০৯ সালে শাতোয়া লুইস চতুর্দশ নির্মিত হয়েছে। উনিশ শতকের একটি ভবন গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে এ ভবন নির্মাণ করা হয়।

সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের ছেলে মোহাম্মদ বিন সালমানের অতিরিক্ত খরচ নিয়ে বেশ কয়েকবারই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো শিরোনাম করেছে। মোহাম্মদ ২০১৫ সালে ৫০ কোটি ডলার মূল্যের একটি প্রমোদতরি কিনেছিলেন। বলা হয়ে থাকে, ২০১৭ সালে ৪৫ কোটি ডলার মূল্যে বিক্রি হওয়া লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির চিত্রশিল্পটির গোপন ক্রেতাও সৌদি যুবরাজ। অবশ্য চিত্রশিল্পটি কেনার কথা অস্বীকার করে আসছেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন