ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা খামেনির জানাজা আশুরার পর হতে পারে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনে নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফনপ্রক্রিয়া মহররমের প্রথম ১০ দিনের (আশুরা) পর অনুষ্ঠিত হবে। খামেনির দাফন তদারকির দায়িত্বে থাকা কমিটি এ ঘোষণা দিয়েছে।
একই সঙ্গে অবিলম্বে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার যে গুঞ্জন উঠেছিল, তা–ও কমিটি নাকচ করে দিয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের সংবাদমাধ্যম ‘ওয়ানা ইরান’।
কমিটি তাদের দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা ও মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় তাঁর সঙ্গে নিহত হওয়া পরিবারের সদস্যদের আসন্ন রাষ্ট্রীয় জানাজা নিয়ে তৈরি ব্যাপক বিভ্রান্তি দূর করেছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘খামেনির জন্য মহিমান্বিত ও মর্যাদাপূর্ণ বিদায়, জানাজা এবং দাফন অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে ব্যাপক পরিকল্পনার প্রয়োজন।’
ইরান ও বিশ্বজুড়ে থাকা লাখ লাখ শিয়া মুসলিম যাতে কোনো বাধাবিঘ্ন ছাড়াই মহররমের প্রথম পবিত্র ১০ দিন পালন করতে পারেন, সে জন্য জাতীয় বিদায় অনুষ্ঠানটি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হবে।
ইসলামি ক্যালেন্ডারের প্রথম মাস মহররমের দশম দিনটি পবিত্র ‘আশুরা’ নামে পরিচিত। এটি মহিমান্বিত শোকের একটি দিন। এদিন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসেনের শাহাদাতকে স্মরণ করে শোক প্রকাশ করা হয়।
৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে বর্তমান ইরাকের কারবালা শহরের বাইরে দ্বিতীয় উমাইয়া খলিফা ইয়াজিদ বিন মুয়াবিয়ার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইমাম হোসেন শহীদ হন। ইমাম হোসেনকে কারবালার সোনার গম্বুজবিশিষ্ট মাজারে দাফন করা হয়েছে।
এ বছর আশুরার দিনটি ২৫ বা ২৬ জুন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিবৃতিতে খামেনির জানাজা ও দাফনের নির্দিষ্ট কোনো তারিখ বা সময় উল্লেখ করা হয়নি। তবে যাঁরা এতে অংশ নিতে চান, তাঁদের সেবা প্রদানের জন্য ‘চূড়ান্ত সমন্বয়’ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের শুরুতেই তেহরানে নিজের সরকারি বাসভবনে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় খামেনি নিহত হন। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন তাঁরই ছেলে আয়াতুল্লাহ মোজতবা আলী খামেনি। তবে বাবার মৃত্যুর পর থেকে তাঁকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ওই হামলায় তিনিও আহত হয়েছেন।
ইরানি কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার জন্য বিশাল জানাজা ও শোকযাত্রার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। তেহরানের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক ডেপুটি মেয়র মোহাম্মদ আমিন তাভাকোলিজাদেহ এ মাসের শুরুতে জানিয়েছিলেন, কর্তৃপক্ষ তিন দিনের ‘অনুষ্ঠানের’ পরিকল্পনা করছে। তেহরান, কোয়ম ও মাশহাদে এ কর্মসূচি নির্ধারিত রয়েছে।
তাভাকোলিজাদেহ আরও বলেন, তেহরানে জানাজা ও শোকযাত্রায় অন্তত ২৪ ঘণ্টা স্থায়ী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রায় দুই কোটি মানুষের সমাগমের কথা মাথায় রেখে প্রস্তুতি চলছে।