ইসরায়েল আল-জাজিরার সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা ৯০ দিনের জন্য বাড়াল

কাতারের দোহায় আল-জাজিরার কার্যালয়ফাইল ছবি: রয়টার্স

নিজেদের দেশে আল-জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্কের সম্প্রচার এবং প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় পরিচালনার ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও ৯০ দিনের জন্য বাড়িয়েছে ইসরায়েল।

ইসরায়েলের যোগাযোগমন্ত্রী শলোমো কারাহির সই করা এবং গতকাল রোববার ঘোষণা দেওয়া এক আদেশে আল-জাজিরার ওপর এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো হয়।

একই সঙ্গে একাধিক সম্প্রচার ও ইন্টারনেট কোম্পানি এবং ইউটিউবকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে নেটওয়ার্ক পরিষেবা দিতে নিষেধ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা দেশটিতে আল-জাজিরার কার্যক্রম বন্ধের পক্ষে ভোট দেয়। তখন ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধ তুঙ্গে ছিল।

আরও পড়ুন

এর কয়েক সপ্তাহ আগে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে একটি আইন পাস করা হয়। এই আইনে ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এমন বিদেশি সম্প্রচারমাধ্যমের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধের অনুমতি দেওয়া হয়।

ওই বছরের সেপ্টেম্বরে অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ শহরে আল-জাজিরার কার্যালয়ে তল্লাশি চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। সেখান থেকে বিভিন্ন সরঞ্জাম ও নথিপত্র জব্দ করা হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় ওই কার্যালয়।

গত বছরের ডিসেম্বরে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট ২০২৪ সালে পাস করা আইনটির মেয়াদ আরও দুই বছরের জন্য বাড়ানোর প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়। এটি ‘আল-জাজিরা আইন’ নামে পরিচিতি।

জেরুজালেম ও রামাল্লায় আল-জাজিরা আরবির ব্যুরো প্রধান ওয়ালিফ আল-ওমারি বলেন, ইসরায়েলের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ৯ দিন আগেই বলেছে, আল-জাজিরা আরবির সম্প্রচারকে ইসরায়েলি নিরাপত্তা পরিষেবা ও সামরিক বাহিনী ‘নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ মনে করছে।

আরও পড়ুন

কয়েক বছর ধরেই আল-জাজিরাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আসছে ইসরায়েল। এর আগে ২০১৭ সালে জেরুজালেমে সম্প্রচারমাধ্যমটির কার্যালয় বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। ২০২১ সালে ফিলিস্তিনের গাজায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আল-জাজিরার কার্যালয় ভবন ধ্বংস করে দেয় ইসরায়েলি বাহিনী।

গাজা উপত্যকায় এবারের নৃশংস যুদ্ধে নিহত হওয়া দুই শতাধিক সংবাদকর্মীর মধ্যে আল-জাজিরার অনেকে এবং অনেকের পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন।
২০২২ সালের মে মাসে আল-জাজিরার সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনারা গুলি করে হত্যা করে। শুরুর দিকে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এ ঘটনা অস্বীকার করা হয়। পরে স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়। যদিও বলা হয়েছিল, ওই সাংবাদিককে লক্ষ্য করে তাঁদের একজন সেনার গুলি করার ‘উচ্চ সম্ভাবনা’ রয়েছে।

আরও পড়ুন