হামলার ‘কঠিন জবাব দেবে’ ইসরায়েল, আকাশসীমা বন্ধ করল ইরান
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ‘কঠিন জবাব দেবে’ ইসরায়েল। রোববার রাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরায়েলি দুটি সূত্র সিএনএন-কে এই তথ্য জানিয়েছে। এদিকে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে ইরান।
ইসরায়েল লক্ষ্য করে অন্তত তিন দফায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ‘এখন পর্যন্ত’ ইরানের সব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। সূত্রের একজন জানিয়েছেন, অন্তত ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা উত্তর ইসরায়েলের হাইফা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
আইআরজিসি বলেছে, এই ইসরায়েলি বিমানঘাঁটিই ছিল দক্ষিণ লেবানন এবং বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে চালানো ‘আগ্রাসনের উৎস’।
ইরানের আকাশসীমা বন্ধ
এদিকে সম্ভাব্য ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কায় ইরান দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় আকাশসীমা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে। দেশটির আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এ কথা জানিয়েছে।
এ ছাড়া সাময়িকভাবে নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে ইরাক ও সিরিয়াও। দেশ দুটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন। ইরানে হামলা করতে ইসরায়েল সাধারণত এই দেশ দুটির আকাশসীমা ব্যবহার করে থাকে।
এদিকে আইআরজিসি হুমকি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে আরও ‘বড় পরিসরে’ পাল্টা হামলা চালানো হবে। তারা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই শর্তে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল যে, ‘সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি হবে’।
আইআরজিসির অভিযোগ, লেবাননে হামলা চালিয়ে এবং হরমুজ প্রণালি, ওমান সাগর ও ভারত মহাসাগরে ইরানের উপকূল ও জাহাজগুলোতে বারবার আক্রমণের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে।
উল্লেখ্য, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা চলমান থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ বজায় রেখেছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক কয়েকটি হামলা চালিয়েছে।
বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ‘আজ (রোববার) রাতের অভিযানটি ছিল একটি সতর্কবার্তা।’ তারা আরও বলেছে, ‘যদি আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটে, তবে এর জবাব হবে আরও ব্যাপক।’