ইরানের ২৫টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ

ইরানের রাজধানী তেহরানে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ছবি: এএফপি

ইরানে সহিংস বিক্ষোভ চলছেই। অর্থনৈতিক সংকটে ধুঁকতে থাকা দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভে নেমেছেন লোকজন। গতকাল এ বিক্ষোভ ১২ দিনে গড়িয়েছে। বিক্ষোভ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গুলি ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ৩৬ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। সরকারের সমালোচনা করে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন দেশটির নির্বাসিত নেতা রেজা পাহলভি।

বিশ্ববাজারে ইরানি রিয়ালের ব্যাপক দরপতন, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও কঠোর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাজনিত গভীর অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে তেহরানে গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীরা গত মাসের শেষ দিকে দোকানপাট বন্ধ করে প্রথম বিক্ষোভ শুরু করেছিলেন। তাঁদের সেই বিক্ষোভ এখন ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস গ্রুপ (আইএইচআর) জানিয়েছে, গত বুধবার কেরমানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহরে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশের কুহচেনার শহরের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে বিক্ষোভকারীদের রাতভর উল্লাস করতে দেখা গেছে। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের সাবেক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির একটি ভাস্কর্য ভেঙে ফেলেছেন বিক্ষোভকারীরা।

এইচআরএএনএ জানিয়েছে, গত ১২ দিনে ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২৫টি প্রদেশের ৩৪৮টি স্থানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার খবর জানতে পেরেছে তারা। বিক্ষোভকারীরা ইরানের রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন সড়কে আগুন জালিয়ে বিক্ষোভ করেছেন। এ ছাড়া বুরুজের্দ, আর্সানজান, গিলান-এ-ঘার্বসহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দিয়েছেন। কাস্পিয়ান সাগরের তীরবর্তী শহর তোনেকাবনে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির নির্বাসিত ছেলে রেজা পাহলভি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সবাইকে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেছেন, তিনি জানতে পেরেছেন বিক্ষোভ দেখে শাসকগোষ্ঠী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। তারা বিক্ষোভ দমাতে আবারও ইন্টারনেট বন্ধের চেষ্টা করছে।

নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস গ্রুপ (আইএইচআর) জানিয়েছে, গত বুধবার কেরমানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহরে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। এদিকে ইরানের কুর্দিশ দলও চলমান বিক্ষোভের সমর্থনে গতকাল দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট পালনের ডাক দেয়।