সিরিয়ার সেনাবাহিনীতে মিশে যাচ্ছে কুর্দি-নেতৃত্বাধীন এসডিএফ
সিরিয়ার কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র গোষ্ঠী সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে একটি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ধাপে ধাপে এসডিএফকে সিরিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে একীভূত করা হবে।
আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে এসডিএফ জানায়, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পর এই সমঝোতা হয়েছে। পরে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, সরকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চুক্তিটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হবে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদ্রোহীদের ঝটিকা হামলার ফলে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন হয়। এরপর বিদ্রোহীদের নেতা আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়।
বাশারের পতনের কয়েক সপ্তাহ পর শারার সরকার উত্তর ও উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় এসডিএফের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এ অভিযান ছিল পুরো দেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার গঠনের মূল লক্ষ্য।
সম্প্রতি সরকারি বাহিনী ও এসডিএফের মধ্যে ব্যাপক সংঘাত হয়। তবে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বজায় আছে। এর ধারাবাহিকতায় এসডিএফকে কেন্দ্রীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে একীভূত করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় সিরিয়ার সেনাবাহিনী উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা এসডিএফের কাছ থেকে দখলে নেয়। এই দ্রুত অগ্রগতির ফলে শারার নেতৃত্ব আরও দৃঢ় হয়েছে। সংঘাতের আগে এসডিএফের যোদ্ধা ও কুর্দি রাজনৈতিক কাঠামোকে কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করা নিয়ে কয়েক মাস ধরে আলোচনা চলছিল; কিন্তু কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি।
চুক্তির মূল দিকগুলো
চুক্তি অনুযায়ী, উভয় পক্ষ সংঘাতের সম্মুখভাগ থেকে নিজ নিজ বাহিনী ও যোদ্ধাদের প্রত্যাহার করবে। হাসাকাহ ও কামিশলি শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কেন্দ্রীয় সরকারের সেনা ও নিরাপত্তা ইউনিট মোতায়েন করা হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সঙ্গে একীভূত করা হবে।
এসডিএফ এক বিবৃতিতে জানায়, একটি নতুন সামরিক ডিভিশন গঠন করা হবে। এতে এসডিএফের তিনটি ব্রিগেড অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এ ছাড়া কুর্দি-নিয়ন্ত্রিত শহর কোবানি (আইন আল-আরব) এলাকায় থাকা বাহিনী নিয়ে একটি আলাদা ব্রিগেড গঠন করা হবে, যা আলেপ্পো গভর্নরেটের অধীনে থাকবে।
চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এসডিএফ পরিচালিত স্বশাসিত প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে একীভূত করা হবে। এতে বেসামরিক কর্মীদের চাকরি ও অবস্থান বহাল রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
যুদ্ধবিরতি মোটামুটি কার্যকর রয়েছে। তবে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। সরকার বাকি কুর্দি-নিয়ন্ত্রিত এলাকা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আওতায় আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এসডিএফ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নিজেদের শেষ কয়েকটি ঘাঁটি ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আহমেদ আল-শারার সঙ্গে ফোনালাপের পর তিনি বলেন, সিরিয়ার সাম্প্রতিক অগ্রগতিতে তিনি ‘খুব খুশি’।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, আল-শারা ট্রাম্পকে দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সিরিয়ার পূর্ণ অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রক্ষা ও নাগরিক শান্তি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
আইএসবিরোধী লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে এসডিএফকে সমর্থন দিয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে। এখন যুক্তরাষ্ট্র আল-শারাকেই সিরিয়ায় তাদের প্রধান অংশীদার হিসেবে দেখছে।
গত বুধবার আল-শারা মস্কোতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সিরিয়ায় রাশিয়ার একাধিক সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি রক্ষা ও গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলোর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতেই ক্রেমলিন এই বৈঠকে আগ্রহী ছিল।