লেবাননে ইসরায়েলের হামলা: হিজবুল্লাহর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ নিহত ১০, আহত অর্ধশত
লেবাননের বেকা উপত্যকায় গতকাল শুক্রবার ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত ও ৫০ জন আহত হয়েছেন। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর দুটি সূত্র রয়টার্সকে এ খবর নিশ্চিত করেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা বালবেক এলাকায় হিজবুল্লাহর বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে এ হামলা চালিয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর মধ্যে পূর্ব লেবাননে এটি অন্যতম রক্তক্ষয়ী ইসরায়েলি হামলার ঘটনা। এই হামলার ফলে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিটি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ল। এর আগে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আসছিল।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা বালবেক এলাকায় হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টারগুলোতে নির্ভুল হামলা চালিয়েছে।
লেবাননের নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে হিজবুল্লাহর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়েছেন। তবে এ হামলার বিষয়ে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সীমান্ত সংঘাত নিরসনে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েল একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি করে। চুক্তিটির মূল লক্ষ্য ছিল ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সক্ষমতা কমিয়ে সংঘাত থামানো। তবে চুক্তির পর থেকেই দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে আসছে।
মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা হিজবুল্লাহর অস্ত্রভান্ডার নিয়ন্ত্রণে লেবানন সরকারের ওপর অব্যাহত চাপ বাড়াচ্ছেন। তবে লেবাননের রাজনৈতিক নেতারা সতর্ক করেছেন, ইসরায়েলের এ ধরনের ব্যাপক হামলা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটে জর্জরিত দেশটিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
একই দিনে পৃথক এক অভিযানে দক্ষিণ লেবাননের সিডন শহরের নিকটবর্তী আইন আল-হিলওয়েহ শরণার্থীশিবিরে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, সেখানে হামাসের একটি কমান্ড সেন্টার ছিল। তবে হামাস এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, যেখানে হামলা হয়েছে, সেটি শরণার্থী শিবিরের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে থাকা যৌথ নিরাপত্তা বাহিনীর একটি দপ্তর।