যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতার পথে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান

ইরানের রাজধানী তেহরানে একটি ম্যুরালের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক নারী। ৬ মে, ২০২৬ছবি: রয়টার্স

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। যুদ্ধ ঘিরে দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করার কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে তেহরান ও ওয়াশিংটন। এই সমঝোতা স্মারকে সইয়ের মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি চালু হবে। এরপর একটি চুক্তির জন্য আলোচনার টেবিলে বসবেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

যুদ্ধ বন্ধের চুক্তির জন্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে পাকিস্তান। এই মধ্যস্থতার বিষয়ে জানাশোনা আছে—এমন একটি সূত্র গতকাল বুধবার প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক-সংক্রান্ত তথ্য রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে। এর আগে সূত্রের বরাতে একই তথ্য দেয় মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। এক পাতার ওই সমঝোতা স্মারকে থাকা ১৪ দফার কিছু অংশও প্রকাশ করেছে তারা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এ যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় যে অগ্রগতি হচ্ছে, তার ইঙ্গিত আগেই পাওয়া যাচ্ছিল। অ্যাক্সিওসে খবর প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছিলেন, আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযান স্থগিত করছেন তিনি। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিরুদ্ধে এ অভিযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত যদি সত্যিই ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা হয়, তা হবে মধ্যপ্রাচ্যসহ পুরো বিশ্বের জন্য স্বস্তির খবর। যেমন সমঝোতার সম্ভাবনার খবরেই গতকাল জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল কমে ১০০ ডলারের নিচে নামে। যুদ্ধের জেরে এই তেলের দাম দ্বিগুণ বেড়ে ১২০ ডলারের ওপরে উঠেছিল। এ ছাড়া যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ছয় হাজারের বেশি প্রাণহানিসহ মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি তো হয়েছেই।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি: রয়টার্স

সমঝোতা স্মারক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, তাঁরা ওয়াশিংটনের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখছেন। দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান–প্রদান চলছে। তবে প্রস্তাবের জবাব এখনো দেওয়া হয়নি। আর সূত্রের বরাতে ইরানের তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবে অগ্রহণযোগ্য কিছু বিষয় রয়েছে।

সব মিলিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি নিয়ে আশাবাদী গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর মিডল ইস্ট স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক আবাস আসলানি। আল–জাজিরাকে তিনি বলেন, তিনি আশা করছেন গতকালের ঘটনাগুলো ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি চুক্তির দিকে অগ্রগতির পথ তৈরি করেছে। আশা করা হচ্ছে, কয়েক দিনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক নিয়ে ইরান একটি জবাব দেবে।

৩০ দিনের আলোচনায় চূড়ান্ত চুক্তি

ইরান যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে পাকিস্তান। গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে তেহরান ও ওয়াশিংটনকে এক টেবিলে বসাতে সফলও হয়েছিল তারা। সেখান থেকে ইতিবাচক কোনো ফল আসেনি। এরপর চেষ্টা করেও দুই পক্ষকে আর একসঙ্গে বসানো যায়নি। যদিও পাকিস্তানের মাধ্যমে পর্দার আড়ালে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বার্তা আদান-প্রদানের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল।

আড়ালের ওই বার্তা আদান-প্রদানের ফলেই এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে গতকাল পাকিস্তানি একটি সূত্র রয়টার্সকে বলে, ‘আমরা এটি খুব তাড়াতাড়ি শেষ করব। আমরা কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছি।’ আর অ্যাক্সিওসের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রও বিশ্বাস করে, এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধ সম্ভব। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তারা।

বিলবোর্ডে শোভা পাচ্ছে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবি, তার সামনে দিয়ে মোটরসাইকেলে যাচ্ছে লোকজন। তেহরান, ৬ মে ২০২৬
ছবি: রয়টার্স

সংবাদমাধ্যমটির খবর অনুযায়ী, ওই সমঝোতা স্মারকের খসড়া নিয়ে ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার। এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ হলে চূড়ান্ত একটি চুক্তি করতে দুই পক্ষ ৩০ দিনের আলোচনায় বসবে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ বা সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে এ আলোচনা হতে পারে।

খসড়া স্মারকের দফা অনুযায়ী, আলোচনার ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ তুলে নেবে ইরান। আর ইরানের বন্দরে অবরোধ তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। এর ব্যত্যয় হলে আবার হামলা শুরু করতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পও গতকাল ট্রুথ সোশ্যালে বলেছেন, হরমুজ চালু করার চুক্তিতে ইরান রাজি না হলে, ‘আরও বড় পরিসরে ও তীব্রতার’ সঙ্গে দেশটিতে হামলা চালানো হবে।

আলোচনায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে দেশটির পরমাণু কর্মসূচিকে মূল কারণ হিসেবে দেখিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘের তথ্যমতে, ইরানের কাছে প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। এটি পরমাণু অস্ত্র তৈরির মাত্রার খুব কাছাকাছি। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদের দাবি, ইরান এই ইউরেনিয়াম দিয়ে পরমাণু অস্ত্র বানাতে চায়। যদিও তেহরান বরাবরই বলে এসেছে, তারা কখনোই এমন অস্ত্র বানাবে না।

যুদ্ধ শুরুর পরও দুই দেশের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে অগ্রগতির খবর সামনে আসেনি। এখন অ্যাক্সিওস বলছে, খসড়া সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, চূড়ান্ত চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত ও পরমাণু অস্ত্র না তৈরির প্রতিশ্রুতি দেবে ইরান। বিনিময়ে ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। জব্দ থাকা ইরানের দুই হাজার কোটি ডলারও ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

ইরান কত সময়ের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখবে, তারও একটি ধারণা দিয়েছে অ্যাক্সিওস। সূত্রের বরাতে তারা বলেছে, এই সময়টা ১২ বা ১৫ বছর হতে পারে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান ২০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখুক। আর তেহরানের দাবি, সময়সীমাটা পাঁচ বছরে সীমিত রাখা হোক। সময়সীমা শেষে ইরান ৩ দশমিক ৬৭ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ২০১৫ সালে একটি পরমাণু চুক্তি হয়েছিল। ২০১৯ সালে সেই চুক্তি থেকে ট্রাম্প সরে যান। তাই আবার দুই দেশের মধ্যে পরমাণু চুক্তি অতটা সহজ হবে না বলে মনে করেন যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-৬-এর সাবেক প্রধান জন সয়ার্স। বিবিসিকে তিনি বলেন, কিন্তু পরমাণু কর্মসূচির মতো জটিল বিষয়গুলোর সমাধান এক বা দুই দিনের আলোচনায় হবে না। ২০১৫ সালের চুক্তির সময় প্রায় দুই বছর ধরে আলোচনা চলেছিল।

লেবাননে নৃশংসতা থামছে না

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। প্রায় ছয় সপ্তাহ ওই অভিযানের পর ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতিতে যায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। ২২ এপ্রিল ওই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বৃদ্ধি করেন ট্রাম্প। এরপর গতকাল এপিক ফিউরি অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ পর্ব শেষ হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র যে ইরান যুদ্ধ বন্ধ করতে চাইছে—রুবিওর বক্তব্য তারও একটি ইঙ্গিত। তবে থামছে না ইসরায়েল। ৮ এপ্রিল থেকে তারা ইরানে হামলা বন্ধ রাখলেও লেবাননে নৃশংসতা চালিয়ে যাচ্ছে। লেবানন সরকারের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতিকে পাশ কাটিয়ে গতকালও টায়ার, খিরবেত সেলমসহ দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন।

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের একটি জায়গা থেকে ধোঁয়া উড়ছে। এখনো দেশটিতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। ৬ মে, ২০২৬
ছবি: রয়টার্স

লেবাননে এ নিয়ে ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ফলে ইসরায়েল দেশটিতে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে নির্মূলের কথা বললেও দেখা যাচ্ছে বেসামরিক মানুষই বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন লাখ লাখ মানুষ। গতকালও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ১২টি শহর থেকে বেসামরিক লোকজনকে সরে যেতে বলেছে ইসরায়েল।

আসলে ইসরায়েলের জনগণই চায় না যুদ্ধ শেষ হোক। ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউট নামের একটি গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের জরিপে দেখা গেছে, ৬২ শতাংশ ইসরায়েলি চায়, ইরানের বিরুদ্ধে আবার পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধে ফিরে আসুক ইসরায়েল। গতকাল ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরও বলেছেন, ‘ইরানে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর আরও একটি তালিকা আমরা প্রস্তুত করেছি। আমরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছি, যেন ইরানে আবার একটি শক্তিশালী ও বিস্তৃত অভিযান শুরু করা যায়।’

হরমুজ চালু কতটা সহজ হবে

যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি দর-কষাকষিতে ইরানের মূল হাতিয়ার হলো হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধ শুরুর পরই বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহের এই পথ বন্ধ করে দিয়েছিল দেশটি। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ ছিল এটি। যুক্তরাষ্ট্রেরও তেলের দাম বেড়ে ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। ইরানের এই পদক্ষেপ ট্রাম্পের জন্য মাথাব্যথার বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এমন পরিস্থিতিতে ইরানকে পাল্টা চাপে ফেলতে ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরে অবরোধ শুরু করে মার্কিন বাহিনী। এর লক্ষ্য ছিল ইরানে পণ্য ও তেলবাহী জাহাজ যাওয়া-আসা বন্ধ করা। এরপর আবার গত সোমবার হরমুজে প্রজেক্ট ফ্রিডম অভিযানের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তাঁর এ ঘোষণার পর প্রণালিটিতে সামরিক-বেসামরিক জাহাজে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় আবার উত্তেজনা দেখা দেয়।

হরমুজ প্রণালিতে নৌযান। মুসানদাম, ওমান, ৬ মে ২০২৬
ছবি: রয়টার্স

এ নিয়ে যুদ্ধের পর থেকে হরমুজ ও এর আশপাশের জলসীমায় ২৬টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে বলে গতকাল জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস। তবে ট্রাম্প প্রজেক্ট ফ্রিডম স্থগিত করার পর ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোর বলেছে, হরমুজ দিয়ে নিরাপদে জাহাজ পারাপার নিশ্চিত করা হবে। আর সমঝোতা স্মারকে ঐকমত্য হলে, দুই দেশই অবরোধ তুলে নিতে পারে।

হরমুজ পুরোপুরি চালু হলে হামলার শঙ্কা কমবে। এরপরও যুদ্ধের আগে যেমন দিনে প্রায় ১৪০টি জাহাজ প্রণালিটি পাড়ি দিত, সে পর্যায়ে পৌঁছানো অতটাও সহজ হবে না বলে মনে করেন বিশ্লেষকদের অনেকে। যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল সাইমন মেয়ল আল-জাজিরাকে বলেন, ইরান এখন কারা নিয়ন্ত্রণ করছেন, তা পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রেরও পথ বদলের ইতিহাস রয়েছে। ফলে সমঝোতা স্মারকে দুই পক্ষ যদি সই করে, তারপরও হরমুজ পাড়ি দিতে বেসামরিক জাহাজগুলো খুবই সতর্ক থাকবে। অনেকে প্রণালিতে জাহাজ পাঠাতে চাইবে না। এমন অবস্থায় তাদের মধ্যে ধাপে ধাপে আস্থা ও বিশ্বাস গড়ে তুলতে হবে।