ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজে হামলাকারী কে, তাঁকে নিয়ে কী বলছে ইসরায়েল

ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজের যাত্রীদের দেখা যাচ্ছে। জরুরি সংকেতের পর ইসরায়েলগামী উড়োজাহাজটি সৌদি আরবে ঘুরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭ ফ্লাইটের মূল পাইলটকে হামলা চালিয়ে সহকারী পাইলট উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে তাঁর সম্পর্কে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। তাঁর হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা-ও এখনো জানা যায়নি। তিনি কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেছিলেন, তা-ও নিশ্চিত নয়।

তবে হামলাকারী সম্পর্কে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, অভিযুক্ত সহ-পাইলট ওমানের নাগরিক।

ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা সিএনএনের কাছে দাবি করেন, ওই ব্যক্তি মাত্র আট মাস ধরে ফ্লাইদুবাইয়ে কাজ করছেন।

ওই ব্যক্তি উড়োজাহাজের ‘যন্ত্রপাতি অচল করে দেওয়ার’ চেষ্টা করছিলেন দাবি করে নেতানিয়াহু সিএনএনকে বলেন, তখন এক যাত্রী হামলাকারীকে নিরস্ত্র করার জন্য ককপিটে ঢুকে পড়েন। পরে ওই যাত্রীর পরিচয় জানা যায়। তাঁর নাম ইয়ানিভ হায়ুন। তিনি পেশায় পানির পাইপ মেরামতের কারিগর (প্লাম্বার)।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, হামলার আগে ইসরায়েল কোনো গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সতর্কবার্তা পায়নি।

নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলো, বিশেষ করে হিজবুল্লাহ ও হামাস ইসরায়েল ও বিদেশে থাকা ইসরায়েলি নাগরিকদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করছে—আমরা এ ধরনের অনেক তথ্য পাচ্ছিলাম। কিন্তু এ হামলা সম্পর্কে আমাদের কাছে নির্দিষ্ট কোনো সতর্কবার্তা ছিল কি না, তা আমি জানি না।’

সন্দেহভাজন ব্যক্তি একটি কুঠার ব্যবহার করেছিলেন বলে দাবি করেন নেতানিয়াহু। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আমাদের মধ্যে বেশিক্ষণ ধস্তাধস্তি হয়নি। আমরা খুব দ্রুতই তাঁকে কাবু করি। আসলে তেমন কোনো লড়াই হয়নি। কেউ ঘুষিও মারেনি, এমন কিছুই হয়নি।
আসাফ রাজুয়ান, যাত্রী, ফ্লাইদুবাই
আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক তদন্ত

নেতানিয়াহু বলেন, সন্দেহভাজন হামলাকারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিগগিরই সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) নেওয়া হতে পারে। তদন্তে ইসরায়েলও যুক্ত থাকবে।

ওমান ও ইসরায়েলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তাই ওমানের ওই পাইলট কীভাবে ইসরায়েলে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছিলেন, তা এখনো পরিষ্কার নয়। নেতানিয়াহু গতকাল বুধবার বলেন, সন্দেহভাজন হামলাকারীকে আটক করা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

তবে ঘটনার সময় ঠিক কী হয়েছিল, তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে। ওই পাইলট কেন এমন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু করেছিলেন, সেটিও জানা যায়নি।

সৌদি আরবে জরুরি অবতরণের পর ফ্লাইদুবাইয়ের বিকল্প ফ্লাইটে করে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান যাত্রীরা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: রয়টার্স

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাই থেকে গতকাল সকালে ইসরায়েলের উদ্দেশে যাত্রা করে। জর্ডানের আকাশসীমায় উড়োজাহাজটি গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবে জরুরি ভিত্তিতে আবতরণের জন্য সংকেত পাঠায়। দেশটির তাবুক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটির অবতরণ করানো হয়।

ইসরায়েল নিজ দেশের যাত্রীদের ফিরিয়ে আনার জন্য সৌদি আরবে সামরিক বা বেসামরিক উড়োজাহাজটি পাঠাতে চেয়েছিল। কিন্তু সৌদি কর্তৃপক্ষ তা নাকচ করে দেয়। পরে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিকল্প ফ্লাইটে করে যাত্রীরা নিরাপদে ইসরায়েলে পৌঁছান।

সন্দেহভাজন ব্যক্তি একটি কুঠার ব্যবহার করেছিলেন বলে দাবি করেন নেতানিয়াহু। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

যাত্রী আসাফ রাজুয়ান বলেন, ক্যাপ্টেন স্মিথ মছার ওপর যে ব্যক্তি হামলা করেছিলেন, তাঁকে খুব দ্রুত কয়েকজন যাত্রী ও উড়োজাহাজের কর্মীরা ধরে ফেলেন।

এই যাত্রী আরও জানান, তিনি ও আরও প্রায় পাঁচ যাত্রী মিলে হামলাকারীকে কাবু করতে সাহায্য করেছেন।

আসাফ রাজুয়ান সিএনএনকে বলেন, ‘আমাদের মধ্যে বেশিক্ষণ ধস্তাধস্তি হয়নি। আমরা খুব দ্রুতই তাঁকে কাবু করি। আসলে তেমন কোনো লড়াই হয়নি। কেউ ঘুষিও মারেনি, এমন কিছুই হয়নি।’

আরও পড়ুন