ট্রাম্প প্রশাসনের বিস্তৃত দাবি কি ইরানের সঙ্গে আলোচনাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আজ শুক্রবার ওমানে ইরানের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনা শুরু করেছে। একগুচ্ছ ‘ছাড়হীন শর্ত’ নিয়ে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, আলোচনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর কৌশল এখনো স্পষ্ট নয়।
আজ ওমানের রাজধানী মাসকাটে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গত বছরের জুন মাসে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর এটি দুই পক্ষের মধ্যকার প্রথম বৈঠক। বৈঠকে ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি নতুন চুক্তি করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে ইরান–ইসরায়েলের ১২ দিনের সংঘাত এবং পরবর্তী সময়ে মার্কিন হামলার কারণে সেই আলোচনা ভেস্তে যায়।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানে সরকারবিরোধী প্রাণঘাতী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। এর মধ্যে ট্রাম্প বারবারই দেশটিতে আরও বেশি করে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ এবং নিষেধাজ্ঞা কঠোর করার হুমকি দিয়েছেন।
চলমান উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্প কোটি কোটি ডলার খরচ করে ইরান উপকূলের কাছে বিশাল নৌবহর মোতায়েন করেছেন। এর আগে ইরানের ওপর হামলা এবং ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার নেতাকে অপহরণের আগে যুক্তরাষ্ট্র একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করেছিল।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তাঁর প্রশাসনকে একধরনের অস্থির পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করতে দেখা যাচ্ছে। কিছু বিশ্লেষক একে ‘ম্যাডম্যান থিওরি’ (পাগলাটে কৌশল) বলে অভিহিত করেছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, এটি একধরনের ঝটিকা কৌশল, যা আগে থেকে আঁচ করা যায় না। এই অনিশ্চয়তার ছায়াটা শুক্রবারের আলোচনার ওপরও পড়েছে।
ওয়াশিংটন ডিসির জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক অধ্যয়ন বিভাগের পরিচালক সিনা আজোদি আল–জাজিরাকে বলেন, ‘আমার মনে হয় যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে ইরান দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাই ছাড়হীন শর্ত সামনে রেখে যতটা সম্ভব সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা করার জন্য এটিকে তারা সবচেয়ে উপযুক্ত সময় বলে বিবেচনা করবে।’
ট্রাম্পের এসব দাবির মধ্যে শুধু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ বা কঠোরভাবে সীমিত করাই নয়, বরং তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং তথাকথিত আঞ্চলিক ‘প্রক্সি’ গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করার দাবিও রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই বিস্তৃত ও কঠোর এজেন্ডা বারবার আলোচনাকে ভেস্তে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
ওমানের আলোচনায় ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের পাশাপাশি ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও থাকছেন।
এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানটা ইসরায়েল সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে নেওয়া হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে আঞ্চলিক ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর মধ্যে একটি মনে করে।খালিল জাহশান, ওয়াশিংটনে অবস্থিত আরব সেন্টারের পরিচালক
গত বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘আলোচনার জন্য প্রস্তুত’।
সাংবাদিকদের রুবিও বলেন, ‘আলোচনাকে সত্যিকার অর্থে ফলপ্রসূ করতে চাইলে সেখানে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর প্রতি তাদের পৃষ্ঠপোষকতা এবং নিজ দেশের জনগণের প্রতি তাদের আচরণের মতো বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত রাখতে হবে।’
গত বুধবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আবারও ইরানকে হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ‘অত্যন্ত উদ্বিগ্ন’ থাকা উচিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে আলোচনার লক্ষ্যগুলো তুলনামূলক সীমিত আকারে উপস্থাপন করতে দেখা গেছে।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ইরানের কাছ থেকে দুটি জিনিস চান। প্রথমত, কোনো পারমাণবিক কর্মসূচি নয়। দ্বিতীয়ত, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা বন্ধ করতে হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিটও একই ধরনের হুমকি দিয়েছেন।
লেভিট সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই আলোচনা চলার মধ্যে আমি ইরানি শাসনব্যবস্থাকে মনে করিয়ে দিতে চাই, বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে প্রেসিডেন্টের হাতে কূটনীতির বাইরে আরও অনেক বিকল্প রয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল কী?
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তাঁর প্রশাসনকে একধরনের অস্থির পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করতে দেখা যাচ্ছে। কিছু বিশ্লেষক একে ‘ম্যাডম্যান থিওরি’ (পাগলাটে কৌশল) বলে অভিহিত করেছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, এটি একধরনের ঝটিকা কৌশল, যা আগে থেকে আঁচ করা যায় না। এই অনিশ্চয়তার ছায়াটা শুক্রবারের আলোচনার ওপরও পড়েছে।
ওমানে পাঁচ দফা আলোচনা হওয়ার পর গত বছরের ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালায়। ওই আলোচনাগুলোর একপর্যায়ে উইটকফ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকও করেছিলেন। ইরানকে পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করার জন্য ট্রাম্প দুই মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পরই হামলা চালানো হয়। যদিও আরও আলোচনার সূচি তখন নির্ধারিত ছিল।
তেহরান বছরের পর বছর ধরে দাবি করে আসছে, তারা কেবল বেসামরিক উদ্দেশ্যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি চালাচ্ছে। ২০১৫ সালে প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে হওয়া পারমাণবিক চুক্তির আওতায় তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে সম্মত হয়েছিল। এর বিনিময়ে ইরানকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে ২০১৮ সালে ট্রাম্প ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্প বিষয়ক পরিচালক আলী ভায়েজ আল–জাজিরাকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কথা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য কি কেবল পারমাণবিক বিষয় পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর কথা অনুযায়ী ইরানকে পুরোপুরি ছাড় দিতে বাধ্য করতে আরও বড় দাবি থাকবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।’
ভায়েজ বলেন, ‘যদি অতীতকে দৃষ্টান্ত হিসেবে ধরা হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত কোনো স্পষ্ট কৌশল ছাড়াই এই আলোচনায় বসবে এবং ইরান আলোচনার টেবিলে কী রাখছে, তার ওপর ভিত্তি করে তারা তাদের লক্ষ্য পাল্টাতে থাকবে।’
তবে ভায়েজ মনে করেন, ট্রাম্পের আশপাশে মার্কো রুবিওর মতো এমন কিছু কর্মকর্তা আছেন, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ছাড় দিতে রাজি হবেন না। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসন যখন ইরানকে দুর্বল মনে করছে, তখন এ ধরনের ছাড় দেওয়ার বিরোধিতা করতে পারেন তাঁরা।
ভায়েজ বলেন, ‘আমার মনে হয়, কোনো চুক্তি যদি ইসলামিক রিপাবলিককে (ইরান) সুবিধা দেয়, তাহলে ওয়াশিংটন এটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করবে যেন দুর্বল অবস্থায় থাকা একটি শাসনব্যবস্থাকে রক্ষা করা হচ্ছে।’
জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের আজোদি মনে করেন, যদি ট্রাম্প প্রশাসন শর্তগুলোর বিষয়ে অনড় অবস্থান বজায় রাখে—বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়ে অনড় থাকে, তাহলেও তারা খুব কম সহযোগিতা পাবে। যদিও ইরান নতুন কোনো সামরিক হামলা এড়িয়ে যেতে চাইছে।
আজোদির মতে, তেহরান হয়তো তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে কিছু সীমাবদ্ধতা নির্ধারণে রাজি হতে পারে। তবে মজুত কমানোর মতো আরও নতুন নতুন শর্ত জুড়ে দেওয়া হলে সম্ভবত আলোচনা শুরুতেই থমকে যাবে। কারণ, এখন ইরানের সবচেয়ে শক্তির জায়গাটি হলো তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি।
আজোদির মতে, তাদের কাছ থেকে যদি সেটাও কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে ইরান ভবিষ্যতে ইসরায়েলি হামলার ঝুঁকিতে থাকবে। মূলত, তারা তাদের সার্বভৌমত্ব হারাবে।
আঞ্চলিক প্রভাব
শুক্রবারের বৈঠকটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন কিনা উপসাগরীয় দেশগুলো বারবার উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে। তারা আঞ্চলিকভাবে নতুন সংঘাতের প্রভাব নিয়ে সতর্ক করছে।
বর্তমানে ইরাক, ইসরায়েল, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিসরে মোট আটটি স্থায়ী মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় তেহরান। এটি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। কাতার ন্যাটো সদস্য না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেছেন, কোনো হামলা হলে তা আঞ্চলিক যুদ্ধের সূচনা করবে। চলতি সপ্তাহে মার্কিন সামরিক বাহিনী পারস্য উপসাগরে গুলি করে একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করে।
পরে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, ইরানের নৌযানগুলো হরমুজ প্রণালির জলপথে তাদের একটি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হুমকি তৈরি করেছিল। এমন অবস্থায় দুই পক্ষের সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আরও বেড়ে গেছে।
মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে দেখা করেছেন। নেতানিয়াহু বারবারই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেছেন। নেতানিয়াহু উইটকফকে ইরানের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। বলেছেন, ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া যেকোনো প্রতিশ্রুতির বিষয়ে খুব সতর্ক থাকা দরকার।
ওয়াশিংটনে অবস্থিত আরব সেন্টারের পরিচালক খালিল জাহশান বলেছেন, এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানটা ইসরায়েল সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে নেওয়া হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে আঞ্চলিক ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি বলে মনে করে।
খালিল বলেন, ‘নিঃসন্দেহে নিষেধাজ্ঞা দেখতে দেখতে ইরান ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ অশান্তির কারণে তারা ক্লান্ত।’
সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির জ্যেষ্ঠ ফেলো নিগার মোর্তাজাভি বলেছেন, ইরানের মধ্যে এমন একটি অংশ আছে যারা বিশ্বাস করে, আলোচনাটা শুধুই ধোঁকাবাজি। আর ট্রাম্প প্রশাসনের শেষ লক্ষ্য হলো সামরিক হামলা এবং শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করা।’
তবু নিগার মনে করেন, অবস্থানের মধ্যে বিস্তর ফারাক থাকলেও উভয় পক্ষই উত্তেজনা কমানোর জন্য আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।
ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক আলী ভায়েজ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো নিজের অবস্থানকে অতিরিক্ত মূল্যায়ন করছে। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আক্রমণের শিকার হলেও ইরানের নেতৃত্ব এখনো নিজেদের প্রতিরোধক্ষমতায় বিশ্বাস করে।
ভায়েজ বলেন, ‘ইরানি শাসনব্যবস্থা উল্লেখজনকভাবে শক্তি হারিয়েছে; কিন্তু এটি দুর্বল হয়ে যায়নি। দুটো এক জিনিস নয়।’