ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট কি সত্যিই আরব দলগুলোর পাশে দাঁড়ালেন
ইসরায়েলের আরব ভোটারদের নিশানা করে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ কট্টর ইহুদি দলগুলো সমালোচনা শুরুর পর তাঁদের পক্ষে কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। তিনি বলেছেন, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগের বিষয়ে তিনি দেশের সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটি এবং অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেটের প্রধানদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিষয়টি ‘পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা উচিত’।
কট্টর ইহুদিবাদী ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর সহযোগীরা ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি ভোটারদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর বিরুদ্ধে ব্যালট জালিয়াতির অভিযোগ তোলার পর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ তাঁর অবস্থান জানান দিলেন।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত মন্তব্যে হারজগ বলেন, ‘আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে রিপোর্ট করা সন্দেহভাজন বিষয়গুলো তদন্তের হালনাগাদ তথ্য আমি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।’
হারজগ আরও যোগ করেন, ‘তবে এমন একটি মুহূর্তেও পুরো একটি সম্প্রদায়, যাঁরা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে এবং গণতন্ত্রে সক্রিয় অংশ নিতে চেয়েছিলেন, তাঁদের কলঙ্কিত করা থেকে আমাদের অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।’
আসন্ন জোট সরকার গঠনের আলোচনার আগে হারজগ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে নিজ নিজ অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিরোধী জোটের মধ্যে একমাত্র আরব ইসরায়েলি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোই প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফল করেছে। এরপরই নেতানিয়াহু ও তাঁর জোটের অন্য সদস্যরা এসব দলের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিতে শুরু করে। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেটের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন।
সরকারের দাবির মূল বিষয় হলো, ভোট কেনা ও ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি নাগরিকদের ভোটে উৎসাহিত করতে কাতারের অর্থ অবৈধভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জ্যেষ্ঠ এক পুলিশ কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে হারেৎস পত্রিকা জানিয়েছে, নির্বাচনে কারচুপির কোনো লক্ষণই দেখা যায়নি। বরং মঙ্গলবারের ভোট অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি স্বচ্ছ ছিল।
নির্বাচনের দিন নাজারেথে এটি স্পষ্ট ছিল, ভোটারদের উপস্থিতি অস্বাভাবিক রকমের বেশি ছিল। কারণ, নেতানিয়াহুর সরকারের উগ্রপন্থীরা আবার ক্ষমতায় এলে ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়গুলোর ওপর কী ধরনের হামলা বা পদক্ষেপ নিতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ ও ভয় কাজ করছিল।
অনিয়মের অল্পবিস্তর যা খবর পাওয়া গেছে, সেগুলো মূলত ক্ষমতাসীন জোটের সঙ্গেই সম্পর্কিত। ভোটকেন্দ্রে পাঠানো অনেক ব্যালট পেপার কেবল হিব্রু ভাষায় ছাপা হয়েছিল, আর উগ্র-ডানপন্থী পর্যবেক্ষকেরা ভোট গ্রহণের গতি কমিয়ে দেওয়ার জন্য নানা ধরনের কৌশল ব্যবহার করেছিলেন।
এ ছাড়া এসব অভিযোগের পেছনে একটি অদ্ভুত বৈপরীত্য বা বিদ্রূপও রয়েছে। কারণ, নেতানিয়াহু নিজেই এক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে আছেন, যেখানে কাতার নামের উপসাগরীয় রাজতন্ত্রটির ভাবমূর্তি উন্নত করার বিনিময়ে তাঁর উপদেষ্টারা কাতারি অর্থ গ্রহণ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।