ইরানে সেতু, রেলস্টেশন, বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, পাল্টা হামলা তেহরানের

ইরানে নতুন করে হামলার দাবি করার পর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড একটি অজ্ঞাত স্থান থেকে ধোঁয়া ওঠার ভিডিও প্রকাশ করেছে। ১৬ জুলাই, ২০২৬ছবি: রয়টার্স

ইরানে গতকাল বৃহস্পতিবার টানা ষষ্ঠ রাতের মতো হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এদিকে ইরান বলেছে, আজ শুক্রবার উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে তারা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে দুপক্ষের সংঘাত এখন নিয়মিত হামলা–পাল্টা হামলায় রূপ নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ও আজ এ পাল্টাপাল্টি হামলা হয়।

মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও দুর্বল করতে তারা টানা আরেক রাত হামলা চালিয়েছে। হামলার লক্ষ্যগুলোর মধ্যে ছিল কেশম দ্বীপ এবং বন্দর আব্বাসের আশপাশের এলাকা। বন্দর আব্বাসে ইরানের নৌবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি এবং দেশটির সবচেয়ে বড় বন্দরের অবস্থান।

এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করে মার্কিন বাহিনী ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা কেন্দ্র, সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ অবকাঠামো এবং সামুদ্রিক সক্ষমতাসংশ্লিষ্ট কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

এদিকে ইরান প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিও আছে।

আজ ভোরে ইরানের সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, কাতারের রাজধানী দোহায় কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বিস্ফোরণে উড়ে আসা ধাতব টুকরো লেগে এক শিশু আহত হয়েছে।

ইরানের গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলায় পাঁচটি সেতু, উপকূলীয় শহর বন্দর খামিরের রেলস্টেশন ও দক্ষিণ-পূর্বে ইরানশাহর বিমানবন্দর নিশানা করা হয়।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ বলেছে, দক্ষিণ ইরানের বন্দরনগরী বন্দর খামিরের সেতুগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন।

তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ

সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের তেল ও গ্যাস পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে আবারও বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে।

তেহরান আবারও প্রণালিটিতে অবরোধ আরোপ করেছে এবং ওয়াশিংটন গত বুধবার থেকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নতুন করে অবরোধ জোরদার করেছে।

রয়টার্সকে কয়েকটি সূত্র বলেছে, ওয়াশিংটন যদি ইরানের অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তবে তেহরান ইয়েমেনে তাদের মিত্র হুতিদের মাধ্যমে লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে অবস্থিত আরেক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মানদেব প্রণালি বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে পারে।

গত সপ্তাহে ইরান হরমুজ প্রণালির একটি নির্দিষ্ট নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর হামলা চালিয়েছিল। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলতে দেবেন না এবং ইরানকে যেন এর পরিণতি ভোগ করতে হয় তা নিশ্চিত করবেন।’

তবে লেভিট বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একই সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও আন্তরিক আছেন।