যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা কি ব্যর্থ হলো, চুক্তি না হওয়ার অর্থ কী দাঁড়াচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা নতুন এক সংকটময় অবস্থায় পৌঁছেছে। দুই দেশের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখনো চালু আছে। তা সত্ত্বেও প্রায় তিন সপ্তাহের এই সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে একটি স্থায়ী চুক্তিতে রূপান্তরের প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়েছে বলে মনে হচ্ছে।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে গত সপ্তাহে আবার আলোচনা শুরু হতে পারে, এমন একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রতিনিধিদের সফর বাতিল করায় তা অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়। এ জন্য তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উভয় পক্ষের নিজ নিজ দাবিতে অনড় থাকাকে দায়ী করা হচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গতকাল সোমবার রাশিয়া সফরে যান। সেখানে পৌঁছার পর আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন।
আরাগচি বলেন, ‘আগের দফার আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কারণে তা লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। কারণ, তাদের দাবি ছিল খুব অযৌক্তিক ও বাড়াবাড়ি রকমের।’
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অচলাবস্থার কারণে আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। বরং এটা গতির মন্থরতার প্রকাশ। তাঁরা ইতিহাস থেকে অনেক উদাহরণ টেনে দেখিয়েছেন, কূটনীতি খুব কমই সরলরেখায় চলে। এটা প্রায় সময় অচলাবস্থা, বিপত্তি ও পর্দার আড়ালের যোগাযোগের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
তা–ই যদি হয়, তাহলে এখন আলোচনা কোন পর্যায়ে আছে এবং সামনে কী হতে পারে?
বর্তমান অচলাবস্থা সত্ত্বেও অগ্রগতির সুযোগ রয়েছে। কোনো অর্থবহ কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল হতে বছরের পর বছর সময় লাগে।এমা শর্টিস, পরিচালক, ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্স প্রোগ্রাম
আলোচনার বর্তমান অবস্থা কী
যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গত শনিবার ট্রাম্প বলেন, তিনি তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনারের পূর্বপরিকল্পিত পাকিস্তান সফর বাতিল করেছেন। ট্রাম্পের দাবি, ইরানিদের পক্ষ থেকে যে ‘প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা যথেষ্ট নয়। তাই এত বিপুল খরচের কোনো মানে হয় না।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা বন্ধ থাকলেও পরোক্ষভাবে কূটনীতি সচল রয়েছে। ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজের তথ্যমতে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘লিখিত বার্তা’ পাঠিয়েছে।
পরদিন ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার জন্য ইরানি নেতারা চাইলে তাঁকে ফোন দিতে পারেন। তাঁর ভাষ্যমতে, ‘তারা কথা বলতে চাইলে আমাদের কাছে আসুক কিংবা ফোন করুক। আমাদের খুব ভালো ও নিরাপদ টেলিফোন লাইন রয়েছে।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘চুক্তিতে কী থাকতে হবে, তা তারা জানে। বিষয়টি খুব সহজ, তাদের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না। তা না হলে বৈঠকের কোনো প্রয়োজন নেই।’
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার বিষয়ে ইরান আগে থেকে অনীহা দেখিয়ে আসছিল। তেহরানের কর্মকর্তারা বারবার বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরাসরি আলোচনা অর্থহীন। তাঁদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন এবং যেকোনো অর্থবহ আলোচনার পথে বড় বাধা।
শনিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে ফোনালাপে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট জানিয়ে দেন, হুমকি বা অবরোধের মুখে কোনো ‘চাপিয়ে দেওয়া আলোচনায়’ তাঁর দেশ অংশ নেবে না।
কোনো পক্ষই যুদ্ধে ফিরতে চায় না। সংঘাতের আরেকটি অধ্যায় শুরু হোক, তা কেউ চায় না।রব গাইস্ট পিনফোল্ড, প্রভাষক, লন্ডনের কিংস কলেজ
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে আগ্রাসন শুরু করে। আগ্রাসনের দু-এক দিনের মাথায় মার্চের শুরু থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয় ইরান। গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথ দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা হতো।
হামলার ৪০ দিনের মাথায় ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। ১১ ও ১২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে প্রায় ২১ ঘণ্টার বৈঠক হয়। কিন্তু সমঝোতা ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।
এরপর ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের নৌবন্দরে অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে বাড়ন্ত জ্বালানি তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে অনেক দেশ জ্বালানির বিকল্প উৎস খুঁজতে এবং অর্থনীতি সচল রাখতে কৃচ্ছ্রসাধন নীতি গ্রহণে বাধ্য হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ভিয়েতনামের মধ্যে শান্তিচুক্তির আলোচনা শুরু হয়েছিল ১৯৬৮ সালে। চুক্তি হতে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত সময় লেগেছিল।
তবে সরাসরি আলোচনা বন্ধ থাকলেও পরোক্ষভাবে কূটনীতি সচল রয়েছে। ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজের তথ্যমতে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘লিখিত বার্তা’ পাঠিয়েছে। সেখানে পারমাণবিক ইস্যু, হরমুজ প্রণালি নিয়ে তেহরান তাদের নিজস্ব অবস্থান এবং ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমানাগুলো তুলে ধরেছে।
গত শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) রাত থেকে আরাগচি পাকিস্তান, ওমান ও রাশিয়া সফর করে আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করছেন। রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ শহর থেকে ইরানি বার্তা সংস্থা ইরনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, ‘যুদ্ধের এই পর্যায়ে কী কী পরিবর্তন হয়েছে এবং বর্তমানে কী ঘটছে, সেসব বিষয়ে রুশ বন্ধুদের সঙ্গে পরামর্শ করার এটি একটি ভালো সুযোগ।’
পুতিনের সঙ্গে আরাগচির বৈঠক
রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা ইরনা জানায়, সেন্ট পিটার্সবার্গে গতকাল বৈঠকের শুরুতে আরাগচির নেতৃত্বাধীন ইরানের প্রতিনিধিদলের উদ্দেশে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি নিশ্চিত করতে মস্কো সম্ভাব্য সবকিছু করবে। আপনাদের স্বার্থ ও অঞ্চলের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করে দ্রুত শান্তি প্রতিষ্ঠায় রাশিয়া কাজ করবে।’
গতকালের বৈঠকে রাশিয়ার পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ, ক্রেমলিনের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ এবং সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউর প্রধান ইগর কস্তিউকভ উপস্থিত ছিলেন।
ইরানের প্রতি রাশিয়ার ‘দৃঢ় ও অটল’ অবস্থানের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে আরাগচি বলেন, ‘এই অবিচল সমর্থনের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।’ তিনি বলেন, তেহরান ও মস্কোর সম্পর্ক দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বের প্রতিফলন।
বৈঠকে ইরানি প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির সঙ্গে উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি ও রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি উপস্থিতি ছিলেন।
তেহরান থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক তৌহিদ আসাদি বলেন, সামনে কূটনৈতিক সমাধান অথবা সরাসরি সংঘাত—দুটি পথ খোলা রয়েছে। উভয় ক্ষেত্রে রাশিয়ার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের কূটনীতি কি তবে ব্যর্থ
তেহরান ও ওয়াশিংটনের অবস্থানের ব্যবধান এখনো আকাশচুম্বী। ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগ করতে নারাজ। তাদের দাবি, এসব কেবল শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করা হবে। তা সত্ত্বেও দীর্ঘদিনের এই দুই শত্রুর মধ্যে যুদ্ধবিরতি এখনো অনেকটা টিকে আছে। এখান থেকে বোঝা যায়, কোনো পক্ষই এই মুহূর্তে আবার পুরোদমে যুদ্ধ শুরু করতে আগ্রহী নয়।
অস্ট্রেলিয়া ইনস্টিটিউটের ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্স প্রোগ্রামের পরিচালক এমা শর্টিস মনে করেন, বর্তমান অচলাবস্থা সত্ত্বেও ‘অগ্রগতির সুযোগ রয়েছে’। তাঁর মতে, যেকোনো অর্থবহ কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল হতে বছরের পর বছর সময় লাগে।
আল-জাজিরাকে এমা শর্টিস বলেন, ‘ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মতো বিষয়ে কিছুটা নমনীয় হওয়ার সংকেত স্পষ্টতই পাওয়া যাচ্ছে।’ তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সবকিছুই শেষ পর্যন্ত ‘অস্থিরচিত্তের নেতাদের’ ওপর নির্ভরশীল। এসব নেতা একদম শেষ মুহূর্তেও তাঁদের মত বদলে ফেলতে পারেন।
ইরান কোন সীমা দেখিয়ে দিয়েছে
ট্রাম্প গত রোববারের বক্তব্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, আলোচনা বাতিল করার অর্থ এই নয়, আবার সরাসরি লড়াই শুরু হবে। এদিন তিনি ইরানের একটি নতুন প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে সেটিকে ‘অনেক উন্নত পরিকল্পনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর আভাসটা হলো, সমঝোতার ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয় হওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।
এমা শর্টিস বলেন, ট্রাম্প এখন দেশের অভ্যন্তরে ‘প্রচণ্ড চাপের’ মধ্যে রয়েছেন। কারণ, এই যুদ্ধ মার্কিন জনগণের কাছে খুব অজনপ্রিয়। এ বিশেষজ্ঞের ভাষায়, ‘যেহেতু হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ এবং এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম বাড়ছে, তাই (ট্রাম্পকে) এই চাপের মুখে পড়তেই হবে।’
এমা শর্টিসের সুরেই লন্ডনের কিংস কলেজের প্রভাষক রব গাইস্ট পিনফোল্ড বলেন, কূটনীতি ব্যর্থ হয়নি। তবে আপাতত তা দুই পক্ষের ‘দুর্ভেদ্য বিভেদে’–এর মুখে পড়েছে। তাঁর ভাষায়, লক্ষণীয় বিষয় হলো, কোনো পক্ষই যুদ্ধে ফিরতে চায় না। সংঘাতের আরেকটি অধ্যায় শুরু হোক, তা কেউ চায় না।
পিনফোল্ড বলেন, ইরানের অনেক সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের সামরিক বাহিনীর এখন সামলে ওঠা প্রয়োজন। তারা কিছুটা স্বস্তির সময় বা ‘ব্রিদিং স্পেস’ চায়।
অন্যদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে ব্যয়বহুল দ্বন্দ্বে জড়াতে ভয় পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর প্রধান কারণ হলো, ওই পুরো অঞ্চল এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে অচল করে দেওয়ার ক্ষমতা ইরানের রয়েছে।
পিনফোল্ড বলেন, ইরানের প্রতিরোধকৌশল কাজ করেছে। উপসাগরীয় দেশগুলোতে আঘাত হেনে ইরান বিশ্ব অর্থনীতি ও অর্থব্যবস্থায় যথেষ্ট বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পেরেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।
এই শিক্ষাবিদ পূর্বাভাস দেন, বর্তমান পরিস্থিতি একটি অর্ধস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রূপ নিতে পারে, যা ভঙ্গুর হলেও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক বলে পরিণত হবে। তিনি বলেন, কোনো পক্ষই মনে করে না, অপর পক্ষ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু মজার বিষয় হলো, দুই পক্ষেরই ধারণা, তারাই জয়ী হয়েছে। এর ফলে না শান্তি, না যুদ্ধ—এমন একটি অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
পিনফোল্ড মনে করেন, এ পরিস্থিতি দীর্ঘকাল চলতে পারে। এক পক্ষ অপর পক্ষকে আপসে বাধ্য না করা পর্যন্ত এ পরিস্থিতি অনির্দিষ্টকালের জন্য কমবেশি চলতে পারে।
আগের আলোচনাগুলো কীভাবে শেষ হয়েছে
ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালে বিশ্বশক্তিগুলোর পারমাণবিক চুক্তি হয়, যা জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামে পরিচিত। এটা করতে প্রায় দুই বছর সময় লেগেছিল। ওমানের মধ্যস্থতায় অত্যন্ত গোপনে আলোচনার মাধ্যমে পক্ষগুলো এ চুক্তিতে পৌঁছতে পেরেছিল। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা ও ধাপে ধাপে অগ্রগতির পরে এটি আলোর মুখ দেখেছিল। তবে ২০১৮ সালে প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প একতরফাভাবে এই চুক্তি থেকে সরে আসেন।
লন্ডনভিত্তিক কাউন্সিল ফর আরব-ব্রিটিশ আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের পরিচালক ক্রিস ডয়েল আল-জাজিরাকে বলেন, যুদ্ধ শেষ করার সব বড় আলোচনার নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে।
ডয়েল ১৯৭৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ভিয়েতনামের মধ্যকার প্যারিস শান্তিচুক্তির উদাহরণ টেনে বলেন, ‘সেখানেও দুটি চরম শত্রুপক্ষ এমন একটি চুক্তির চেষ্টা করেছে, যেখানে শত্রুতা আসলে শেষ হয়নি। তাদের মধ্যেও ব্যাপক মতপার্থক্য ছিল।’
উল্লেখ্য, ওই চুক্তির আলোচনা শুরু হয়েছিল ১৯৬৮ সালে।
ওই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে এসেছিল। কিন্তু দেশটি চুক্তির শর্ত বারবার লঙ্ঘন করেছিল। শেষ পর্যন্ত ১৯৭৫ সালে দক্ষিণ ভিয়েতনামের পতন ঘটে। ক্রিস ডয়েল সতর্ক করে বলেন, ‘সংঘাতের শত্রুপক্ষগুলো পরস্পরের সঙ্গে চুক্তি করেছে ঠিকই। কিন্তু সেই চুক্তি টিকিয়ে রাখা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বিষয়।’
বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে সংঘাত বন্ধে সম্প্রতি যেসব চুক্তি হয়েছে, সেখানও ‘থামা ও চলার’ এ কূটনীতি দেখা গেছে। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ২০২২ সালে শুরুর দিকে শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছিল। তাদের মধ্যে চুক্তি হতে পারে, এমন একটি আশা তৈরি হলেও পরে তা ভেস্তে যায়।
তবে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। পরবর্তী সময়ে বন্দিবিনিময়, শিশুদের প্রত্যাবাসন এবং কৃষ্ণসাগর দিয়ে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানির মতো ছোট ছোট বিষয়ে বিভিন্ন চুক্তি হয়েছে।